আজকালের প্রতিবেদন- সংশোধিত নাগরিকত্ব আইনের বিরুদ্ধে বিক্ষোভকারীদের গুলি চালিয়ে ‘‌কুকুরের মতো’‌ মারা উচিত বলে দিলীপ ঘোষ যে মন্তব্য করেছেন, তা নিয়ে দেশ জুড়ে নিন্দার ঝড় বইছে। বিজেপি সাংসদ ও রাজ্য দলের সভাপতি দিলীপ ঘোষকে সবাই ধিক্কার জানাচ্ছেন। মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি বলেছেন, ওরা যতই প্ররোচনা দিক, বাংলায় গুলি চলবে না। বিজেপি খুব চেষ্টা করছে এখানে গুলি চলুক, কিন্তু লাভ হবে না। ওদের এক নেতা শুনলাম কী সব বলেছেন, নাটক করছেন। রাজনীতি নিয়ে খেলা করছেন।
প্রসঙ্গত উল্লেখ করা যেতে পারে, গত একমাসের বেশি সময় ধরে রাজ্যে নানা ধরনের বিক্ষোভ আন্দোলন হয়েছে। ভাঙচুর হয়েছে, আগুন জ্বালানো হয়েছে। সামনে এনআরসি–বিরোধিতা থাকলেও আক্রমণ হয়েছে রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে। এমনকী শনিবার খোদ মুখ্যমন্ত্রীর ওপর আক্রমণের চেষ্টা হয়েছে। কিন্তু কখনই সরকার গুলি চালায়নি।
দিলীপ ঘোষের বক্তব্যে বিজেপি–র অনেকেও তাঁর পাশে নেই। যেমন, কেন্দ্রীয় মন্ত্রী বাবুল সুপ্রিয়। বাবুল সোমবার টুইট করে জানিয়েছেন, ‘‌দিলীপবাবুর এই দায়িত্বজ্ঞানহীন মন্তব্য তাঁর ব্যক্তিগত। দল তা সমর্থন করে না।’ বাবুল সুপ্রিয়র মতে, অসম, উত্তরপ্রদেশ সরকার বিক্ষোভকারীদের ওপর গুলি চালায়নি। দিলীপের বক্তব্য এবং সেই প্রসঙ্গে বাবুলের আপত্তি সম্পর্কে এদিন তৃণমূলের মহাসচিব পার্থ চ্যাটার্জি বলেন, ‘‌এই তো দলের চেহারা। দিলীপবাবু, বাবুলরা নাকি মমতার বিরুদ্ধে লড়বেন‌!‌ এই ঘটনা সাজানো, কৌশল। আসল জায়গায় এরা এক।’‌
তৃণমূলের সাংসদ–নেতা অভিষেক ব্যানার্জি এই মন্তব্য নিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘‌দিলীপ ঘোষের বক্তব্য থেকে বিজেপি–র আসল চরিত্র ফুটে উঠেছে। তাঁর দলের সাংসদ–মন্ত্রীও এই বক্তব্য মেনে নিতে পারেননি। তাতে বিজেপি–র বিশ্বাসযোগ্যতা প্রশ্নের মুখে এসে দাঁড়িয়েছে। অভিষেকের প্রশ্ন, ‘‌এই মত দিলীপ ঘোষের ব্যক্তিগত না ওঁর দলের?‌’‌
বিধানসভায় বিরোধী দলনেতা আবদুল মান্নান ও বাম বিধায়কদের সচেতক সুজন চক্রবর্তী দু’‌জনেই দিলীপের নিন্দা করেছেন। মান্নান এই বক্তব্যকে বিশেষ গুরুত্ব দিতে রাজি নন। তাঁর ছোট্ট মন্তব্য, ‘‌পাগলে অনেক কিছুই বলে!‌’‌
প্রখ্যাত লেখক, সাংবাদিক, টিভি ব্যক্তিত্ব প্রীতীশ নন্দী এদিন টুইট করে বলেছেন, ‘দিলীপ ঘোষ কেবল তাঁর দলের পক্ষেই অস্বস্তিদায়ক নন, বাংলার পক্ষেও অস্বস্তিদায়ক। কী করে তিনি কুকুরের মতো মারার কথা বলেন!‌ ‌এ ধরনের মানুষকে প্রকাশ্যে শাস্তি দেওয়া উচিত। এরকম কথা বলার জন্য অবমাননা ছাড়া তাঁর আর কিছুই পাওয়ার নেই।’
রবিবার নদিয়ায় এক সভায় দিলীপ বলেছিলেন, ‘‌উত্তরপ্রদেশ, কর্ণাটক, অসমে যারা বাস–ট্রেনে ভাঙচুর চালিয়ে, আগুন লাগিয়ে সরকারি সম্পত্তি নষ্ট করছে, তাদের গুলি করে মারা হয়েছে। এ রাজ্যেও বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে একই ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। উত্তরপ্রদেশে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে যা হয়েছে, পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি ক্ষমতায় এলে একই জিনিস করা হবে।’‌
সোমবার দিলীপ ঘোষ একটি মামলায় জামিন নিতে মেদিনীপুরে আসেন। তাঁর বক্তব্য ঘিরে যতই সমালোচনার ঝড় উঠুক, তিনি দমার পাত্র নন। চারপাশ নিয়ে তাঁর কোনও তাপ–উত্তাপ নেই। সেখানে তিনি এক সেরেস্তায় বসে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাব দেন। কুছ পরোয়া নেহি মনোভাব নিয়ে তিনি বলেন, ‘আমি যা বলেছি ঠিকই বলেছি। আমাদের সরকার যা করেছে, তা আমি সমর্থন করি। এটাই আমাদের দলের স্ট্যান্ড পয়েন্ট।’‌‌ বীরভূম জেলা তৃণমূল সভাপতি অনুব্রত মণ্ডল সোমবার নানুরে সাংবাদিকদের বলেন, ‘‌কেন্দ্রীয় সরকারের উচিত দিলীপ ঘোষকে গুলি করে মেরে দেওয়া। ‌দিলীপ ঘোষেরা খুব ভাল করেই জানেন, তাঁরা কোনওদিন পশ্চিমবঙ্গে সরকারে আসবেন না। তাই অকথা–কুকথা বলে সংবাদমাধ্যমে ভেসে থাকতে চাইছেন।’‌‌

 

রানি রাসমণি রোডে তৃণমূল ছাত্র পরিষদের অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী। সোমবার। ছবি: তপন মুখার্জি

জনপ্রিয়

Back To Top