আজকালের প্রতিবেদন‌, কলকাতা ও দিল্লি: সিবিআইয়ের মতো কেন্দ্রীয় সংস্থাগুলিকে ব্যবহার করে ‘‌রাজনৈতিক প্রতিহিংসা’‌ চরিতার্থ করছে মোদি সরকার। প্রতিবাদে সরব পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি। শুক্রবার মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘‌‌রাজনৈতিক প্রতিহিংসার ঘটনা ঘটেই চলেছে। বিজেপি ও তার জোটসঙ্গী বিভিন্ন কেন্দ্রীয় সংস্থা কলকাতা থেকে দিল্লি এবং তার বাইরেও সব জায়গায় বিরোধী দলগুলিকে হয়রান করে চলেছে। অখিলেশ যাদব, বহন মায়াবতীজি, কাউকে বাদ দেওয়া হচ্ছে না।’‌ সেইসঙ্গে মমতা যোগ করেছেন, ‘‌মাথাহীন এজেন্সি এখন মেরুদণ্ডহীন বিজেপি–‌তে পরিণত হয়েছে।’ এদিনই হরিয়ানার প্রাক্তন কংগ্রেসি মুখ্যমন্ত্রী ভূপিন্দর ‌সিং হুডার বাড়ি–‌সহ ৩০টি জায়গায় সিবিআই তল্লাশি চালায়। প্রতিবাদে সরব নানা দলের বিরোধীরাই। কংগ্রেসের নেতা আনন্দ শর্মা এদিন কেন্দ্রীয় সংস্থাগুলিকে ‘‌সতর্ক’‌ করে দিয়ে বলেন, ‘‌সরকারের অ্যাজেন্ডা পূরণ করতে কেউ নিজেদের এক্তিয়ার বা আইনের বাইরে গিয়ে কাজ করবেন না। সব অফিসারেরা এই কথা শুনে রাখুন।’‌ আরজেডি নেতা তেজস্বী যাদব বলেন, ‘‌সিবিআই এখন বিবিআই (‌বিজেপি ব্যুরো অফ ইনভেস্টিগেশন)‌ হয়ে গিয়েছে।’‌  
এদিন বেলা বারোটার ঠিক পর তিন–তিনটি টুইট করেন মমতা ব্যানার্জি। সেখানে প্রশ্ন তোলেন, ‘‌বিজেপি কি ভয় পেয়ে গিয়েছে?‌ বিজেপি কি মরিয়া হয়ে উঠেছে?‌’‌ ক’‌দিন আগে ব্রিগেডের সমাবেশেও কেন্দ্রীয় এজেন্সিকে রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহারের অভিযোগে সরব হয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। বলেছিলেন, ‘‌রাজনীতিতে লক্ষ্মণরেখা বলে একটা ব্যাপার থাকে। কেন্দ্রীয় সরকার কিচ্ছু মানছে না। লালুজিকে জেলে পাঠিয়েছে। অখিলেশকে ধরে টানছে, মায়াবতীজিকে ধরে টানছে, এমনকী আমাকেও বাদ দিচ্ছে না।’‌ মমতার টুইট সঙ্গে জুড়ে দিয়ে তেজস্বীর অনুযোগ, সিবিআই কেন্দ্রের ইশারায় চলছে। বিজেপি–আরএসএসের বিরুদ্ধে লড়াই করছেন বলে তাঁরা বাবা লালুপ্রসাদকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে।  কংগ্রেসের তরফে আনন্দ শর্মা আজ কেন্দ্রীয় এজেন্সিগুলিকে মনে করিয়ে দেন, ‘সরকার চিরস্থায়ী নয়। কয়েক সপ্তাহ পরেই সাধারণ নির্বাচন হবে। এটা নিশ্চিত যে কেন্দ্রীয় সরকার কেঁপে গিয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর পরাজয় নিশ্চিত। তাই এসব হচ্ছে।’‌‌ কংগ্রেস নেতা বলেন, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যেই সিবিআইকে তাদের ষড়যন্ত্রে কাজে লাগাচ্ছে মোদি সরকার। বিচারাধীন মামলায় সিবিআইকে অতিসক্রিয় করে শেষ মুহূর্তে প্রতিদ্বন্দ্বীদের জব্দ করার চেষ্টা চলছে। গুরুগ্রামে সিবিআইকে যেভাবে ব্যবহার করা হচ্ছে, কলকাতাতেও তা–‌ই হচ্ছে। নির্বাচন যত এগিয়ে আসছে, ততই প্রতিহিংসাপরায়ণ বিজেপি সরকার। তাঁর প্রশ্ন, ‘‌প্রধানমন্ত্রীর এত ভয় কীসের?‌ তিনি তো নিজেকে অজেয় মনে করেন। তা হলে বেছে বেছে বিরোধীদের পিছনে সিবিআইকে লেলিয়ে দেওয়া হচ্ছে কেন?‌‌‌’‌‌‌‌‌

জনপ্রিয়

Back To Top