আজকালের প্রতিবেদন- সোমবার নজরুল মঞ্চে মহালয়ার স্মৃতিচারণ করলেন কিংবদন্তি শিল্পী সন্ধ্যা মুখোপাধ্যায় ও অসীমা মুখোপাধ্যায়। এদিন ‘‌জাগো বাংলা’‌র উৎসব সংখ্যার আনুষ্ঠানিক প্রকাশ করেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি। মঞ্চে এই দুই শিল্পীকে সংবর্ধনা দেন তিনি। এ ছাড়াও প্রবীণ সাংবাদিক মিহির গাঙ্গুলিকে লাইফটাইম অ্যাচিভমেন্ট সম্মান দেন মুখ্যমন্ত্রী। মহালয়ার সময় কী হত, তা নিয়ে বিস্তারিতভাবে জানান সন্ধ্যা ও অসীমা। ‘‌রূপং দেহি’ গানটি দু’‌জনে একসঙ্গে গান। এই গান শুনে নজরুল মঞ্চের শ্রোতারা উঠে দাঁড়িয়ে দুই শিল্পীকে করতালি দিয়ে অভিনন্দন জানান। অনুষ্ঠানে মমতা বলেন, ‘‌দ্বিজেনদা প্রতিবার জাগো বাংলার অনুষ্ঠানে আসেন। সবে হাসপাতাল থেকে বাড়ি ফিরেছেন। এখনও সুস্থ নন। ওঁকে খুব মিস করছি। শারীরিকভাবে না আসতে পারলেও আমি জানি ওঁর মনটা আজ এখানেই পড়ে আছে।’‌ সন্ধ্যা মুখোপাধ্যায়ের উদ্দেশে মমতা বলেন, ‘‌জীবন্ত কিংবদন্তি’‌। তাঁর দীর্ঘায়ু কামনা করেন মমতা। বলেন, ‘‌আপনারা প্রতি বছর এসে মহালয়ার কিছু ঘটনা মনে করিয়ে দেবেন।’‌ ছিমছাম অনুষ্ঠান। সঙ্গীত পরিবেশন করেন শান্তনু রায়চৌধুরি, মধুরিমা দত্ত চৌধুরি, গৌতম ঘোষ, সৌমিত্র রায়, নৃত্য পরিবেশন করেন কাউন্সিলর অনন্যা ব্যানার্জি ও তাঁর সম্প্রদায়। নৃত্যের সঙ্গে যে গানটি গাওয়া হয়, সেটির লেখা ও সুর মমতার।
মমতার লেখা ৬টি গান নিয়ে ‘‌রৌদ্রছায়া’‌ নামে একটি অ্যালবাম প্রকাশ করা হয়। অনুষ্ঠানে রূপঙ্কর বাগচী এই অ্যালবামের একটি গান পরিবেশন করেন। জাগো বাংলার উৎসব সংখ্যায় মমতা ‘‌হাঁটতে হাঁটতে’‌ শিরোনামে একটি কবিতা লিখেছেন। এ ছাড়া কান্ডারির কলমে ‘‌সৌজন্য’‌ নামে একটি প্রবন্ধ লিখেছেন। অটলবিহারী বাজপেয়ী সম্পর্কে স্মৃতিচারণ করেছেন। লিখেছেন, সৌজন্য যেন অস্বাভাবিকভাবে হারিয়ে যাচ্ছে। গরিবকে অসম্মান করার অধিকার কারও নেই। রাজনৈতিক আদর্শে মতভেদ থাকলেও ব্যক্তি–কুৎসা অথবা ব্যক্তি–আক্রমণ করতে নেই। ময়দানের বিরোধিতা রাজনীতির সীমার মধ্যেই থাকা উচিত। এর নাম সৌজন্য। ভদ্রতা। পরিচয়।
তিনি লিখেছেন, ‘‌অটলজীর অকপট হাসিমুখটা কখনও ভুলতে পারি না। তাঁর সৌজন্যবোধ আজও আমাকে বারবার ‘‌ওল্ড ইজ গোল্ড’‌‌‌ এই কথাটা মনে করিয়ে দেয়।’‌ বরেণ্য সাহিত্যিক মহাশ্বেতা দেবী সম্পর্কে মমতা লিখেছেন, ‘‌তাঁকে হারিয়ে খুব দুঃখ পেয়েছিলাম।’‌ ইন্দিরা গান্ধীকে দেখার সুযোগ মমতার হয়নি, তা তিনি লিখে জানিয়েছেন। ‘‌তাঁর পরের সব রাজনৈতিক নেতাদের আজ ভারতবর্ষ জুড়ে চিনি’‌— লেখায় উল্লেখ করেছেন মমতা। তিনি লিখেছেন, খুব খারাপ লাগে যখন দেখি ইদানীং কিছু ভুঁইফোঁড় নেতা, যাদের জীবনে না আছে কোনও সংগ্রাম, না আছে কোনও আদর্শ বা স্যাক্রিফাইস, ‌তারা যখন ইনিয়ে–বিনিয়ে কুৎসা করে, চোখ রাঙায়, গুন্ডা সর্দারদের মতো কথা বলে, তখন মনে হয়, রাজনৈতিক সৌজন্যের হাতেখড়ির পাঠ এদের হয়নি। এরা চালাবে দেশ?‌ এরা হবে দেশের নেতা?‌ ভাবতে অবাক লাগে। সৌজন্য শেখার পাঠ এদের অটলজির কাছে নেওয়া দরকার। জাগো বাংলায় লিখেছেন সুব্রত বক্সি, পার্থ চ্যাটার্জি, অভিষেক ব্যানার্জি, সুব্রত মুখার্জি, সুদীপ ব্যানার্জি, শোভনদেব চ্যাটার্জি, শুভেন্দু অধিকারী, অরূপ বিশ্বাস, ফিরহাদ হাকিম, ডেরেক ও’‌ব্রায়েন, পূর্ণেন্দু বসু, জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক, মানস ভুঁইয়া, আশিস ব্যানার্জি, চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য। নাটক লিখেছেন ব্রাত্য বসু। এ ছাড়া রয়েছে মমতার অজস্র ছবি। প্রচ্ছদ এঁকেছেন মমতা নিজে।‌‌‌

‘জাগো বাংলা’ পত্রিকার উদ্বোধনে মুখ্যমন্ত্রী। নজরুল মঞ্চে, সোমবার। ছবি: বিজয় সেনগুপ্ত

জনপ্রিয়

Back To Top