আজকালের প্রতিবেদন- বৌবাজারের পরিস্থিতি পর্যালোচনা করতে মঙ্গলবার নবান্নে বেলা ৩টেয় বৈঠক ডেকেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি। সোমবার ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি খতিয়ে দেখেন তিনি। কথা বলেন বিপর্যয়ের ফলে ঘরছাড়া স্থানীয় বাসিন্দা এবং ব্যবসায়ীদের সঙ্গে। যাতে তঁাদের অসুবিধে না হয়, সে বিষয়টি দেখা হবে বলে তিনি আশ্বস্ত করেন। 
এদিন মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘কিছু একটা অবশ্যই গোলমাল ছিল। কী ছিল, সেটা আমরা আলোচনা করে দেখব। ‌বিপর্যয় এবং পুনর্বাসন নিয়ে আমরা একটা বৈঠক ডেকেছি। আমরা সকলে একসঙ্গে কাজ করব। কোনও রাজনীতি করা চলবে না।’‌ বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী এবং কলকাতার মেয়র ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম ছাড়াও উপস্থিত থাকবেন মেট্রো রেল কর্তৃপক্ষ, কলকাতা পুরসভা, পুলিশ, দমকল এবং ইস্ট–ওয়েস্ট মেট্রো কর্তৃপক্ষ। এদিন মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে ছিলেন সাংসদ সুদীপ ব্যানার্জি, স্থানীয় বিধায়ক নয়না ব্যানার্জি, কলকাতার নগরপাল অনুজ শর্মা, পরিষদীয় মন্ত্রী তাপস রায় ও অন্যরা।
মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘‌সঙ্গে সঙ্গে উদ্ধার না করলে অনেক জীবনহানি হত। সেটা এড়ানো গেছে। ঈশ্বরকে ধন্যবাদ। কারও যাতে কোনও অসুবিধে না হয়, তা দেখা হচ্ছে। স্থানীয়দের সঙ্গেও আমরা আলোচনা করেছি। অনেকেই সব কিছু ঘরে রেখে এসেছেন। সবাই যাতে সুবিচার পান, সেটা দেখতে হবে। মেট্রোও জানিয়েছে, তারা একসঙ্গে কাজ করবে।’
স্থানীয়দের আবেদন নিয়ে তিনি বলেন, ‘‌ওঁরা চান বাড়ি তৈরি করে দেওয়া হোক। কেউ হয়তো বাড়িতে একটা ছাপাখানা বা অন্য কিছু চালান। সেটাও যাতে তাঁরা আবার করতে পারেন, সে বিষয়ে জানিয়েছেন তঁারা। জিনিসপত্র বা নথিপত্র নিয়ে চিন্তা করবেন না। নথি যদি হারিয়ে যায়, আমি বানিয়ে দেব।’‌
এদিন তিনি স্থানীয় বাসিন্দা এবং ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলা ছাড়াও ঘটনাস্থলে উপস্থিত মেট্রো আধিকারিকদের সঙ্গে কথা বলেন। ঘটনার বিষয়ে জানতে চান। সুড়ঙ্গের নকশা খঁুটিয়ে দেখেন।
এদিন স্থানীয় বাসিন্দা ও ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে তঁাদের অসুবিধের বিষয়গুলি জানতে চান মুখ্যমন্ত্রী। বাড়িগুলির অবস্থা জানতে চান। তঁার সঙ্গে কথা বলে খুশি স্থানীয় ও ব্যবসায়ীরা। এক ব্যবসায়ী জানিয়েছেন, মুখ্যমন্ত্রী তঁাদের কাছে জানতে চেয়েছেন কত দোকান আছে। তঁারা মুখ্যমন্ত্রীকে অনুরোধ করেন যেন তঁাদের দোকানে ঢুকতে দেওয়া হয়। ঝঁুকি এড়াতেই আপাতত তঁাদের ঢুকতে দেওয়া হচ্ছে না বলে মুখ্যমন্ত্রী তাঁদের জানিয়েছেন। মঙ্গলবার বৈঠকের পর তঁাদের যোগাযোগ করতে বলেছেন বলে জানিয়েছেন এক ব্যবসায়ী। 
দুর্গা পিথুরি লেন এবং স্যাকরাপাড়া লেনের বেশ কয়েকটি দোকান বন্ধ আছে। বন্ধ আছে ওই দুটি রাস্তার ওপর সোনার গয়না তৈরির কারখানাগুলিও। এদিন মুখ্যমন্ত্রী যাওয়ার আগে ব্যবসায়ীরা নয়না ব্যানার্জিকেও এ বিষয়ে অনুরোধ জানান। ‌
এদিন দুপুরে কলকাতা মেট্রো রেল কর্পোরেশন লিমিটেড (‌‌কেএমআরসিএল) চিঠি দিয়ে জানিয়েছে, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলির থাকার বন্দোবস্ত করা হচ্ছে। যে বাড়িগুলির ক্ষতি হয়েছে, তা সারিয়ে দেওয়া হবে। যেগুলি ভেঙে পড়েছে, তৈরি করে দেওয়া হবে সেগুলিও। কিন্তু ক্ষতিগ্রস্তদের বেশির ভাগেরই অভিযোগ, তাঁদের মূল চিঠির একটি ফটোকপি দেওয়া হয়েছে। তাতে লেখা নেই, কত দিনের মধ্যে বাড়ি মেরামত করে দেওয়া হবে বা ভেঙে পড়া বাড়ি তৈরি করে দেওয়া হবে।
পরিস্থিতির দিকে নজর রাখছে রাজ্য সরকার। ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার পাশেই গোয়েঙ্কা কলেজ। সেখানে ২৪ ঘণ্টার কন্ট্রোল রুম খোলা হয়েছে। চালু হয়েছে আপৎকালীন নম্বর ৯৪৩২৬১০৪৭২, যাতে বিপদ বুঝে ফোন করতে পারেন সাধারণ মানুষ এবং‌ যত তাড়াতাড়ি সম্ভব তাঁদের কাছে প্রয়োজনীয় সাহায্য পৌঁছে দেওয়া যায়। এদিন কন্ট্রোল রুমে বসে পরিস্থিতি তদারকি করেন এলাকার বিধায়ক নয়না ব্যানার্জি। ছিলেন কলকাতা পুলিশের পদস্থ অফিসাররাও। কীভাবে পরিস্থিতি সামাল দেওয়া যায়, তা নিয়ে আলোচনা চলছে বলে জানান তাঁরা।‌‌

 

বৌবাজারে বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি। সোমবার। ছবি: অভিজিৎ মণ্ডল

জনপ্রিয়

Back To Top