দীপঙ্কর নন্দী- ‘শুধু ‌আমার মৃত্যু না চেয়ে, সিপিএম দিল্লিতে আন্দোলন করে দেখাক।’‌
সোমবার রানি রাসমণি রোডে তৃণমূল ছাত্র পরিষদের অবস্থান মঞ্চে এসে এ কথা বলেন দলনেত্রী মমতা ব্যানার্জি। সিপিএম–‌কে তীব্র আক্রমণ করে মমতা বলেন, ‘ওরা এখানে  ‌রাস্তায় যেখানে খুশি বসে পড়ছে। অথচ দিল্লিতে ওদের এতবড় পার্টি অফিস আছে, ক’‌টা মিছিল করেছে ওখানে?‌ দিল্লিতে যদি আমার পার্টি অফিস থাকত, তাহলে ৫০০ মিছিল করতাম। সিপিএম বিজেপি–‌র তাবিজ হয়েই থাকবে। সিপিএম সকাল থেকে রাত পর্যন্ত শুধু আমাকে গাল দিয়ে যাচ্ছে। মমতা, মমতা আর মমতা। শনিবার এই অবস্থান মঞ্চের সামনে যে দুঃস্বপ্নের ঘটনা ঘটেছে, তাকে আমি নিন্দা করছি না, শুধু চাইছি, যারা সেদিনের ঘটনা ঘটিয়েছে, তাদের শুভ বুদ্ধির উদয় হোক।’‌
মমতা এদিন আবার দাবি তোলেন, ‌এনআরসি, ক্যা, এনপিআর প্রত্যাহার করতে হবে। তিনি বলেন, ‘‌বিজেপি–‌র ঔদ্ধত্যের পতন হোক। আসুন সকলে মিলে শান্তিপূর্ণভাবে এই আন্দোলন চালিয়ে নিয়ে যাই।’‌
গঙ্গাসাগর মেলা শেষ হয়ে যাওয়ার পর ফের আন্দোলন শুরু হবে বলে মমতা জানান। বলেন, ‘‌২২ জানুয়ারি আমি পাহাড়ে মিছিল করব। আন্দোলন চলবে, ছাত্রছাত্রীরাও তাদের অবস্থান চালিয়ে যাবে। তিনি বলেন, শুধুমাত্র একটি বিশ্ববিদ্যালয়ই নয়, ভারতবর্ষের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রছাত্রীরা এই আন্দোলন শুরু করেছেন। তারা কেউই এনআরসি, ক্যা ও এনপিআর চান না। আমি আবার বলছি, নিজেদের অস্তিত্ব রাখতে রাস্তায় নামুন, বাংলায় আমাদের অস্তিত্ব আছে, তাই আমরা নেমেছি। যারা মোদির বিরোধিতা করেন, তারা মুখে বলেও কাজে নামেন না। অনেকে রিলে অনশন করে নাটক করে। কেউ কেউ সস্তায় প্রচার পাওয়ার জন্য রাস্তায় নেমে ভাঙচুর করছে, বাসে আগুন দিচ্ছে, ঢিল মারছে— এটা কোনও সভ্য দেশে আন্দোলন হতে পারে না। আন্দোলনে আবেগ থাকবে, আন্তরিকতা থাকবে। হিংসার রাজনীতি আমি বিশ্বাস করি না। বিজেপি, সিপিএম ও কংগ্রেস হিংসার রাজনীতি করছে। লাগাতার আন্দোলন এরা করতে পারে না। কখনও দেখা গেল ২ ঘণ্টার জন্য ঝান্ডা নিয়ে এল, তিন ঘণ্টার পর পালিয়ে গেল। অল্প শক্তি নিয়ে অনেকেই আন্দোলন করছে, তাদের আমি স্যালুট জানাই। হিংসাকে উৎসাহ দিচ্ছে বিজেপি। আমরা হিংসার রাজনীতি বিশ্বাস করি না। উৎসাহ দিই না।’‌‌‌
বিজেপি–‌কে আক্রমণ করে মমতা বলেন, ‘‌এই ক’‌বছরে কত বেকারের চাকরি দিয়েছে?‌ আমরা বাংলায় ৪০ শতাংশ বেকারের সংখ্যা কমিয়েছি। বিজেপি শুধু হিন্দুস্থান–‌পাকিস্তান করছে। ভাগাভাগির রাজনীতি করে ভাবছে, সব হয়ে গেল। সিপিএম, কংগ্রেস কিছু করতে পারবে না। বিজেপি জাহান্নামে যাও। তৃণমূল কারও নির্দেশের পরোয়া করে না। আমাদের দল অত্যন্ত মানবিক। স্ট্রং পলিটিক্যাল পার্টি। কেউ আঁচড় লাগাতে পারবে না।’‌‌
এদিনও রানি রাসমণি অ্যাভিনিউতে তৃণমূল ছাত্র পরিষদের অবস্থানে ভিড় হয়েছিল। উত্তর ২৪ পরগনার কয়েকটি কলেজ থেকে ছাত্রছাত্রীরা এসেছিলেন। মমতা এসে বলেন, ‘‌আমার এখানে আসার ঠিক ছিল না। ভাবলাম, আমার ছোট বোন ও ভাইয়েরা অবস্থান মঞ্চে কি করছে, একবার দেখে আসি। এভাবেই কিন্তু আমি  মাঝে মধ্যে আসব।’‌  মমতা এদিন মঞ্চে বসে অনেকের বক্তৃতা, কবিতা ও গান শোনেন। ছাত্রছাত্রীদের হাতে লেখা পোস্টার দেখেন। এদিন মঞ্চে না উঠলেও নীচে বসে ছিলেন খাদ্যমন্ত্রী জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক, পার্থ ভৌমিক, সুখেন্দুশেখর রায়, তুষার শীল, অশোক রুদ্র ও ভাটপাড়ার কাউন্সিলররা। মঞ্চে ছিলেন তৃণমূল ছাত্র পরিষদের সভাপতি তৃণাঙ্কুর ভট্টাচার্য। বক্তব্য রাখেন প্রাক্তন ছাত্র পরিষদ সভাপতি জয়া দত্ত। 

জনপ্রিয়

Back To Top