আজকালের প্রতিবেদন- কলকাতা পুলিশের নগরপাল রাজীব কুমার এবং পুলিশ বাহিনীর পাশে দঁাড়িয়ে কেন্দ্রকে ফের পাল্টা সঙ্ঘাতের বার্তা দিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি। সোমবার মেট্রো চ্যানেলে পুলিশ–‌পদক অনুষ্ঠানে। এদিন রাজ্য ও কলকাতা পুলিশের কৃতী অফিসারদের পুরস্কৃত করার পাশাপাশি কলকাতার কয়েকজন সাহসী নাগরিককেও পুরস্কৃত করা হয়। সততার জন্যও পুরস্কার দেওয়া হয় কয়েকজনকে। ভাষণে মুখ্যমন্ত্রী বলেছেন, ‘‌প্রত্যেক মানুষের সম্মান আছে। যিনি জীবন দিয়ে পরিশ্রম করেন, তাঁর দোষ না থাকা সত্ত্বেও কেউ দোষী সাব্যস্ত করলে কারণ, তথ্য ছাড়া কথা বললে আমি প্রতিবাদ করবই।’‌ ‌ নরেন্দ্র মোদির নাম না করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘আমি দিল্লিতে আছি, তাই আমি বড় নেতা। গ্রেপ্তার করে আনি। এরকম হলে আমি প্রতিবাদ করবই। ‌সংস্থা নষ্ট করার, ক্ষমতার অপব্যবহার করা, এক অফিসারের বিরুদ্ধে অন্য অফিসারকে লেলিয়ে দেওয়া, এর বিরুদ্ধে আমি জীবন দেব। তবু আপস করব না। আমি ফোর্সের জন্য লড়ছি। অনেকে আমাকে ফোন করেছেন। তঁাদেরও ধন্যবাদ জানাচ্ছি।’‌ রাজীব কুমারের বাড়িতে সিবিআই যাওয়া নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী এদিন বলেন, ‘‌ঘটনাটা যখন শুনলাম তখন আমি রাজীবকে ফোন করি। আমাকে বলে আপনার আসার দরকার নেই। আমরা দেখে নিচ্ছি। আমি লড়াইয়ের ময়দানে চিরকাল থেকে এসেছি। আমি গিয়েছি বিবেকের তাগিদে। এরপর কী হবে?‌ ৩৫৫, ৩৫৬?‌ আমার কাছেও ৪২০ ধারা আছে। ১৪৪ আমার কাছেও আছে।’‌ এদিন মুখ্যমন্ত্রী বলেছেন, ‘‌১৯৮০ সাল থেকে চিটফান্ড হয়েছে। সুদীপ্ত সেনকে আমরা ধরেছিলাম। ‘‌সিট’‌ আমরা তৈরি করেছিলাম। কেন কাজ করেছে, তাই তাকে ধরে বেঁধে আনতে হবে?‌ শ্যামল সেন কমিশন আমরাই করেছিলাম। ২৫০ থেকে ৩০০ কোটি টাকা ক্ষতিগ্রস্তদের দিয়েছি। বলুন আমি কার টাকা নিয়েছি?‌’‌ 
এদিন পুলিশ–‌পদক অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন স্বরাস্ট্র সচিব অত্রি ভট্টাচার্য, রাজ্য পুলিশের ডিজি বীরেন্দ্র, রাজ্যের নিরাপত্তা উপদেষ্টা সুরজিৎ কর পুরকায়স্থ, কলকাতা পুলিশ কমিশনার রাজীব কুমার–সহ পদস্থ কর্তারা। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘‌একটা জরুরি অবস্থায় আটকে যাওয়ায় এই অনুষ্ঠানটা নষ্ট হতে বসেছিল। এই অনুষ্ঠানের জন্য বহুদিন অপেক্ষা করে থাকেন পুলিশকর্মীরা। প্রশাসনের কাজই রাস্তায় নেমে কাজ করা।’‌ তাই ঠিক করেছি এখানেই অনুষ্ঠান করব। পুলিশের প্রশংসা করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘‌যে–‌কোনও রাজ্যের থেকে, পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্তের যে–‌কোনও পুলিশের থেকে আমাদের পুলিশ সেরা। তাঁরা সম্পদ। আমরা গর্বিত তঁাদের জন্য। যারা বলে আইন–শৃঙ্খলা নেই, তাদের জিজ্ঞাসা করতে চাই, দুর্গাপুজোয় কত লাখ লোক আসে?‌ জেলা ও কলকাতা মিলিয়ে ১ কোটি পুজো হয়। একটা ঘটনাও দেখাতে পারবেন?‌ যারা বাংলার আইন–শৃঙ্খলা নিয়ে বলে, তাদের মুখে লিউকোপ্লাস্ট লাগানো উচিত। গঙ্গাসাগর মেলায় কত লোক হয়?‌ ৪০ লক্ষ মানুষ এলেন, চলে গেলেন। একটা ঘটনাও দেখাতে পারবেন?‌’‌ 
মুখ্যমন্ত্রী এদিনও বলেন, ‘‌আগুন লাগানো সহজ। নেভানো কঠিন। এখানে আমরা অনেক নতুন থানা করেছি। সিবিআই আদালত, মানবাধিকার আদালত আমরা করেছি। ১ লক্ষ ৩০ হাজার সিভিক পুলিশও নেওয়া হয়েছে। ৪০ হাজার হোমগার্ড নেওয়া হয়েছে। আগে তো পুলিশের পাশে সেভাবে কেউ দঁাড়াত না। এখন যদি একজনও কেউ মারা যায় তবে আমরা তঁার পরিবারের পাশে দঁাড়াই।’‌
এদিন প্রয়াত পুলিশকর্মী অমিতাভ মালিকের স্ত্রী বিউটি মালিকের হাতে মরণোত্তর সাহসিকতার পুরস্কার তুলে দেন মুখ্যমন্ত্রী। এদিন ৮০ জন পুলিশকর্মীকে সেবাপদক দেওয়া হয়। সেরা জেলা হয় হাওড়া জিআরপি। কলকাতা পুলিশের সেরা বিভাগ দক্ষিণ–পূর্ব। সেরা থানা হয়েছে প্রগতি ময়দান। রিজেন্ট পার্ক ট্র‌্যাফিক গার্ড সেরা ট্র‌্যাফিক গার্ডের পুরস্কার পেয়েছে। কলকাতা পুলিশের স্পেশ্যাল টাস্ক ফোর্স পেয়েছে সেরা শাখার পুরস্কার। 

সাহসিকতার জন্য মরণোত্তর পুরস্কার দেওয়া হল অমিতাভ মালিককে। পুরস্কার নিলেন স্ত্রী বিউটি মালিক। ছবি: তপন মুখার্জি

জনপ্রিয়

Back To Top