রিনা ভট্টাচার্য- ক্ষতিপূরণ মিলল ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে।
আমফানে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক ও পান চাষিদের পর মৎস্যজীবীদের হাতে ক্ষতিপূরণ তুলে দিল রাজ্য সরকার। মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জির উপস্থিতিতে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে ১০টি জেলার মৎস্যজীবীদের হাতে এই টাকা তুলে দেওয়া হয়। যঁাদের গৃহপালিত পশু মারা গেছে বা পোল্ট্রি ফার্ম নষ্ট হয়ে গেছে, তঁাদেরও এই ক্ষতিপূরণ দেওয়া হয়। ইতিমধ্যেই ২৩ লক্ষ ৩০ হাজার কৃষক এবং ২ লক্ষ পান চাষির হাতে ক্ষতিপূরণের টাকা তুলে দেওয়া হয়েছে।
মুখ্যমন্ত্রী ঘোষণা করার চার দিনের মাথায় ১,৪৪৪ কোটি টাকা ক্ষতিগ্রস্ত উপভোক্তাদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে পৌঁছে গেছে। ক্ষতিগ্রস্ত নৌকা মেরামতির জন্য মৎস্য দপ্তর থেকে ১৭ কোটি ২২ লক্ষ টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে।
বুধবার নবান্ন সভাঘরে মুখ্যমন্ত্রী পূর্ব ও পশ্চিম মেদিনীপুর, উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনা, হাওড়া, হুগলি, নদিয়া, মুর্শিদাবাদ, পূর্ব বর্ধমান, ঝাড়গ্রাম জেলা প্রশাসনের সঙ্গে বৈঠক করেন। ক্ষতিগ্রস্তদের হাতে ত্রাণ তুলে দেওয়া হয়। এ ছাড়াও এদিন তিনি মালদা, বঁাকুড়া ও বীরভূম জেলা প্রশাসনের সঙ্গেও কথা বলেন। ভিডিও কনফারেন্সে উপস্থিত সব জেলাশাসককে কড়া নির্দেশ দিয়েছেন, যাতে কেউ প্রাপ্য থেকে বঞ্চিত না হন। প্রত্যেকে ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে টাকা পাচ্ছেন কি না, খেঁাজ নিতে হবে। ত্রাণ সরকারের মাধ্যমে বিলি করতে হবে, যাতে সবাই সমান ভাবে ত্রাণ পান।
মুখ্যমন্ত্রী এদিন বলেন, ‘‌আমফান ৯৮ জনের প্রাণ কেড়েছে। মৎস্যজীবী যঁারা ছোট ছোট নৌকা করে নিজেদের জীবন–জীবিকা চালান, ঝড়ের তাণ্ডবে তঁাদের সব কিছু নষ্ট হয়ে গেছে। পুরোপুরি নষ্ট হয়ে গেছে ৮,০০৭টি নৌকা। নতুন নৌকা তৈরি করতে তঁাদের ১০ হাজার টাকা করে দেওয়া হবে। আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত নৌকা–‌প্রতি ৫ হাজার টাকা করে দেওয়া হবে। ৩৭,৭১১টি জাল নষ্ট হয়েছে। প্রতিটি জাল মেরামতির জন্য ২,৬০০ টাকা করে দেওয়া হবে। গবাদি পশুপালকদের অর্থ–‌সাহায্য করার জন্য প্রাণিসম্পদ বিকাশ দপ্তর থেকে ৩৭ কোটি টাকা ছাড়া হয়েছে। পোল্ট্রি খামারের জন্য ১৪ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। দুগ্ধবতী গাভী যঁাদের মারা গেছে, তঁাদের ৩০ হাজার টাকা করে দেওয়া হবে।’‌ তিনি জানান, পশুদের ভ্যাক্সিনেশনের জন্য ৫ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। পশুদের চিকিৎসার জন্য সাড়ে ৩ কোটি টাকা দেওয়া হয়েছে।
মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘‌প্রচুর সবুজ আমফানের ধাক্কায় নষ্ট হয়ে গেছে। সুন্দরবনকে বঁাচাতে ম্যানগ্রোভের ভূমিকা অনস্বীকার্য। তাই সিদ্ধান্ত নিয়েছি, ৫ জুন বিশ্ব পরিবেস দিবসে ‘‌ধ্বংস নয়, সৃষ্টি চাই’‌ স্লোগান তুলে ম্যানগ্রোভ লাগানোর কাজ শুরু করা হবে। এক মাসের মধ্যে ৫ কোটি ম্যানগ্রোভ লাগানোর লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়েছে।’‌ 

ওই দিন হরিশ চ্যাটার্জি স্ট্রিটে ছোট একটি অনুষ্ঠানের মধ্যে দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী গাছ লাগানোর আনুষ্ঠানিক সূচনা করবেন। কলকাতা পুরসভা থেকেও সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, ওই দিন থেকেই অন্য গাছ লাগানো শুরু করা হবে। মুখ্যমন্ত্রী কলকাতা পুলিশ ও রাজ্য পুলিশকে নির্দেশ দিয়েছেন প্রত্যেকটি থানা এলাকায় গাছ লাগানোর জন্য।
মুখ্যমন্ত্রী এদিন সব জেলাশাসককে সাবধান করে দেন, ৬ জুন জোয়ার আসছে। তার মধ্যেই সব বঁাধ মেরামত করা যাবে না। যতটা সম্ভব সেচ দপ্তর করছে। ফলে বেশ কিছু দুর্বল জায়গা স্রোতে ভেসে যেতে পারে। সাবধানতা অবলম্বন করতে হবে। ক্ষতির পরিমাণ যাতে কমানো যায়, সেই চেষ্টা করতে হবে। প্রয়োজনে মানুষকে নিরাপদ জায়গায় সরিয়ে আনতে হবে। তিনি এদিন বলেন, ‘‌সেচ দপ্তর খুব ভাল কাজ করছে। আরও ভাল কাজ করতে হবে। জনস্বাস্থ্য কারিগরি দপ্তর পরিশুদ্ধ পানীয় জল দেওয়ার ব্যবস্থা করেছে। যে–‌সব জায়গায় এখনও ব্যবস্থা হয়নি, সেখানে দ্রুত কাজ করতে হবে। যাতে কোনও জায়গায় পানীয় জল পৌঁছোতে দেরি না হয়। বিনামূল্যে রেশন দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে। ৫ লক্ষ বাড়ি আমফানে নষ্ট হয়েছে। তঁাদের আপাতত ২০ হাজার টাকা করে দেওয়া হয়েছে। আরও দেওয়া হবে। ১০০ দিনের কাজের বিনিময়ে দেওয়া হবে ২৮ হাজার টাকা।’‌
মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘‌কৃষি দপ্তর, খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ দপ্তর তিন দিনের মধ্যে ক্ষতির পরিমাপ করে রিপোর্ট জমা দিয়ে দিয়েছে।’‌ ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দঁাড়াতে সরকারের সব দপ্তর খুব ভাল কাজ করেছে বলে মুখ্যমন্ত্রী এদিন প্রশংসা করেন। মুখ্যমন্ত্রীকে এদিন প্রশ্ন করা হয়, কেন্দ্রীয় দল তো এখনও এল না?‌ মুখ্যমন্ত্রী জানান, ‌‘‌আমরা সব তথ্য সংগ্রহে রেখেছি। ওঁরা এলে, চাইলে, ওঁদের হাতে সে–‌সব তুলে দেওয়া হবে।’‌  

অমিতকে তীব্র কটাক্ষ

নাম না করে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে কটাক্ষ করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি। বুধবার নবান্নে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, ‘‌বাংলা দখল করার কথা বলছেন। ও‌সব পরে হবে। আগে দুঃসময়ে বাংলার পাশে এসে দঁাড়ান। বাংলা ছোট জায়গা। সংস্কৃতির পীঠস্থান। এখন এ‌সব মন্তব্য করে লাভ আছে কি?‌ বিজেপি নেতারা তো বিপদে–‌পড়া মানুষদের সেবা না করে উস্‌কানি দিচ্ছেন!‌’‌‌‌

জনপ্রিয়

Back To Top