আজকালের প্রতিবেদন: শুক্রবার কচুয়ায় দুর্ঘটনার খবর পেয়েই বেলা হতে মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি কলকাতার কয়েকটি হাসপাতালে আহতদের দেখতে ছুটে যান। প্রথমে যান ন্যাশনাল মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে, তারপর এসএসকেএম–‌এ। আহতদের সঙ্গে কথা বলেন। ডাক্তারদের সঙ্গেও তাঁর কথা হয়। 
এদিন হাসপাতাল থেকে বেরিয়ে এসে মিডিয়াকে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘‌প্রাকৃতিক দুর্যোগের জন্যই এমন মর্মান্তিক ঘটনা ঘটল। বহু মানুষ লোকনাথ বাবার মন্দিরে গিয়েছিলেন। কয়েকজন মারা গেছেন। মন্দিরের সামনে ত্রিপল খাটিয়ে অনেকেই জিনিসপত্র বিক্রির জন্য দোকান সাজিয়ে বসেন। এখানেই বিপত্তি। দুর্যোগের হাত থেকে নিজেদের বাঁচাতে এইসব জায়গায় কেউ কেউ আশ্রয় নেয়। পাঁচিল ভেঙে যায়।’‌
মুখ্যমন্ত্রী এদিনও বলেন, ‘‌আমরা কারও জীবন ফিরিয়ে দিতে পারব না। সরকারি সবরকম সাহায্য করতে পারব।’‌ মুখ্যমন্ত্রী এদিন ঘোষণা করেন, ‘‌মৃতদের পরিবারকে ৫ লক্ষ টাকা, গুরুতর আহত ১ লক্ষ টাকা, অল্প আহতদের ৫০ হাজার টাকা দেওয়া হবে।’‌ মুখ্যমন্ত্রী এদিন মন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্যকে ন্যাশনাল মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠান ও জ্যোতিপ্রিয় মল্লিককে কচুয়া যেতে নির্দেশ দেন। হাসপাতালে ছিলেন সাংসদ শান্তনু সেন। মুখ্যমন্ত্রী এদিন বলেন,‌ ‘ভবিষ্যতে এধরনের ঘটনা যাতে না ঘটে তার জন্য আমরা ব্যবস্থা নেব। সবাইকে উদ্ধার করা হয়েছে।’‌ এদিন চন্দ্রিমা বলেন, ‘‌আরজি কর–‌এ মৃত অবস্থায় একজনকে আনা হয়। ন্যাশনাল মেডিক্যাল কলেজে আহতদের মধ্যে দু–‌একজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। বাকিদের চিকিৎসা চলছে।’‌ হাসপাতাল থেকে ঘুরে আসার পর বাড়ি থেকে ক্রমাগত খোঁজ–‌খবর নিয়েছেন মমতা। চন্দ্রিমা ও জ্যোতিপ্রিয়র সঙ্গেও তাঁর কথা হয়েছে। জ্যোতিপ্রিয় জানান, ‘‌এদিন অনেক ভক্ত কচুয়ায় গিয়েছিলেন। বৃষ্টি হচ্ছিল। ঘটনার পরই যুদ্ধকালীন পরিস্থিতিতে উদ্ধারের কাজ শুরু হয়ে যায়। অনেককে হাসপাতালে পাঠানো হয়। দ্রুত চিকিৎসা শুরু হয়। বসিরহাট হাসপাতালেও কয়েকজনকে ভর্তি করা হয়। মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে আমাদের কথা হয়েছে, প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।’‌ সোমবার মুখ্যমন্ত্রী যাবেন বর্ধমানে। প্রশাসনিক সভা আছে। তারপর হুগলিতেও তিনি প্রশাসনিক বৈঠক করবেন।  ‌‌

জনপ্রিয়

Back To Top