আজকালের প্রতিবেদন‌‌: রবিবার রাজ্যে সপ্তম তথা শেষ দফা লোকসভা ভোটের পর কেন্দ্রের বিদায়ী শাসকদল বিজেপি এবং কেন্দ্রীয় বাহিনীর বিরুদ্ধে ক্ষোভে ফেটে পড়লেন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি। তাঁর কথায়, কেন্দ্রীয় বাহিনী যে অত্যাচার করেছে, তা ‘নজিরবিহীন’!‌ 
এদিন বিকেলে ভবানীপুরে মিত্র ইনস্টিটিউশন স্কুলের বুথ থেকে ভোট দিয়ে বেরিয়ে মমতা বলেছেন, ‘যেভাবে কেন্দ্রীয় বাহিনী কেন্দ্রীয় সরকার ও শাসকদলের নির্দেশে অত্যাচার করেছে, তা নজিরবিহীন। এর আগে এমন ঘটনা কখনও দেখিনি!‌’ এর বেশি কোনও প্রতিক্রিয়া এদিন ভোট নিয়ে দেননি মুখ্যমন্ত্রী। কারণ, তিনি বলেছেন, ‘এখানে ভোট দিতে এসেছি। প্রচার করতে আসিনি।’ তৃণমূলের রাজ্যসভার সাংসদ ডেরেক ও’ব্রায়েনও বলেছেন, ‘অমানবিক অত্যাচার করেছে কেন্দ্রীয় বাহিনী!‌’
তৃণমূলের একাধিক প্রার্থী কেন্দ্রীয় বাহিনী নিয়ে একাধিক অভিযোগ করেছেন। বারাসতের তৃণমূল প্রার্থী কাকলি ঘোষ দস্তিদার কেন্দ্রীয় বাহিনীর ‘পক্ষপাতিত্ব এবং অত্যাচার’–এর বিরুদ্ধে ধর্নায় বসেছেন। ভাটপাড়া উপনির্বাচনে তৃণমূল প্রার্থী মদন মিত্রের সঙ্গেও বচসায় জড়িয়েছে কেন্দ্রীয় বাহিনী। আবার দক্ষিণ কলকাতার তৃণমূল প্রার্থী মালা রায়কে নিজের ভোট দিতে বুথে ঢুকতে প্রথমে বাধা দিয়েছে সেই কেন্দ্রীয় বাহিনীই। 
বলা বাহুল্য, সেই ঘটনাক্রম পৌঁছেছে মমতার কাছেও। এদিন কলকাতা পুরসভার মেয়র পারিষদ দেবাশিস কুমারকে নিয়ে ভোট দিতে এসেছিলেন মমতা। বুথে ঢোকার আগে মমতা দু’আঙুল তুলে ‘ভি’ চিহ্ন দেখান। ভোট দিয়ে বেরিয়ে কেন্দ্রীয় বাহিনীর বিরুদ্ধে ক্ষোভে ফেটে পড়েন। প্রসঙ্গত, গত বেশ কয়েকদিন ধরেই বাংলার মুখ্যমন্ত্রী কেন্দ্রীয় বাহিনীর আচরণ নিয়ে সরব। প্রচারের শেষলগ্নে এসে তিনি সরাসরিই বলেছিলেন, ‘আরএসএসের লোকেদের কেন্দ্রীয় বাহিনীর উর্দি পরিয়ে বাংলার ভোটে নামিয়ে দেওয়া হয়েছে। তারা কোথাও গুলি চালাচ্ছে। কোথাও নির্বিচারে লাঠিচার্জ করছে।’ শেষপর্যন্ত রাজ্যের স্বরাষ্ট্র সচিব অত্রি ভট্টাচার্য রাজ্য নির্বাচন কমিশনে চিঠি লিখে কেন্দ্রীয় বাহিনী সম্পর্কে নবান্নের ক্ষোভের কথা জানান। যার অব্যবহিত পরে অত্রিকে তাঁর পদ থেকে সরিয়ে দেয় কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিশন। 
কিন্তু কেন্দ্রীয় বাহিনী নিয়ে তৃণমূলের ক্ষোভ কমেনি। বারাসতের তৃণমূল প্রার্থী কাকলি অভিযোগ করেন, তাঁর এলাকায় কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানরা ভোটারদের সরাসরি বিজেপি–কে ভোট দিতে বলছেন। তাঁরা ভোটারদের ‘প্রভাবিত’ করছেন। কাকলি বাহিনীর জওয়ানদের সঙ্গে বচসাতেও জড়িয়ে পড়েন। বলেন, ‘ঠোকনা হ্যায় তো মুঝে ঠোকিয়ে!’ অর্থাৎ, গুলি করতে হলে যেন তাঁকে গুলি করা হয়। ভোট–শেষের মুখে কাকলি বাহিনীর দুর্ব্যবহারের প্রতিবাদে এলাকায় অবস্থান–বিক্ষোভ শুরু করেন। 
উত্তর ২৪ পরগনার বিভিন্ন এলাকাতেই কেন্দ্রীয় বাহিনী নিয়ে সবচেয়ে বেশি অভিযোগ এসেছে। তৃণমূলের অভিযোগ, বিভিন্ন এলাকায় তাদের বুথ ক্যাম্প ভেঙে তছনছ করে দিয়েছে কেন্দ্রীয় বাহিনী। তার মধ্যে একটি এলাকা হল কামারহাটি। ব্যারাকপুর লোকসভার অন্তর্গত ভাটপাড়া বিধানসভায় এদিন ছিল উপনির্বাচন। সেখানেও কেন্দ্রীয় বাহিনী বিজেপি–র নির্দেশে কাজ করেছে বলে তৃণমূলের অভিযোগ। ভাটপাড়ার প্রার্থী মদন সরাসরিই বলেছেন, ‘কেন্দ্রীয় বাহিনী বুথের মধ্যে ঢুকে হুমকি দিচ্ছে! কে ওরা। ওদের মাইনে হয় আমাদের টাকায়!’
যদিও প্রতিরক্ষামন্ত্রী নির্মলা সীতারামন এদিনই দিল্লিতে সাংবাদিক বৈঠক করে জানিয়েছেন, তাঁদের আশঙ্কা, বাংলায় ভোট শেষ হওয়ার পর ভোটারদের একাংশের ওপর হামলা হবে। নির্মলার বক্তব্য, ‘নির্বাচন কমিশনের কাছে আমাদের আর্জি, ভোটারদের ওপর হামলা ঠেকাতে আদর্শ আচরণবিধি জারি থাকা পর্যন্ত বাংলায় যেন কেন্দ্রীয় বাহিনীকে রেখে দেওয়া হয়।’ 
 

জনপ্রিয়

Back To Top