মমতা ব্যানার্জি, মুখ্যমন্ত্রী‌‌: শুরুতে ভারতের নির্বাচন কমিশনের প্রতি আমি সর্বোচ্চ সম্মান জানাচ্ছি। আমি দৃঢ়ভাবে মনে করি যে, ভারতে গণতন্ত্র রক্ষায় নির্বাচন কমিশন নিরপেক্ষ ভূমিকা পালন করে। 
কিন্তু খুবই দুর্ভাগ্যজনক যে, আজ আমাকে এই চিঠি লিখতে হচ্ছে ৫ এপ্রিল ২০১৯ ভারতের নির্বাচন কমিশনের জারি করা বদলির আদেশের বিরুদ্ধে। ওই আদেশে চারজন উচ্চপদস্থ পুলিস অফিসারকে পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। 
আমি মনে করি, কমিশনের এই সিদ্ধান্ত সম্পূর্ণ অযৌক্তিক, উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং একপেশে। কেন্দ্রের শাসক দল বিজেপির নির্দেশেই কমিশন এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছে, আমাদের একথা বিশ্বাস করার যথেষ্ট কারণ রয়েছে। 
কয়েক দিন আগে বিজেপি নেতারা তাঁদের প্রেস বিবৃতিতে বলেছিলেন যে, রাজ্যের পুলিশ প্রশাসনের পদস্থ অফিসারদের খুব তাড়াতাড়ি সরিয়ে দেবে নির্বাচন কমিশন। 
গতকালই প্রধানমন্ত্রী এবং আসন্ন লোকসভা ভোটে বিজেপি প্রার্থী টিভি শোয়ে বলেছেন, বাংলায় আইন–শৃঙ্খলার অবস্থা খারাপ বলেই ৭ দফা ভোটের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। 
এর ঠিক পরই অফিসারদের বদলির নির্দেশ এল।
সাংবিধানিক নির্দেশ মেনে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন করানোর লক্ষ্যে কমিশন আদৌ কাজ করছে কিনা সেই সন্দেহ জোরালো হয় ঘটনা পরম্পরায়। নাকি তারা কেন্দ্রের শাসক দল বিজেপিকে সন্তুষ্ট করার জন্য কাজ করছে!‌
কলকাতা, বিধাননগর অত্যন্ত ঘনবসতিপূর্ণ। বিভিন্ন জাতি, বর্ণ ও সম্প্রদায়ের মানুষ থাকেন। এতদিন আইনশৃঙ্খলার দায়িত্বে যাঁরা ছিলেন, তাঁরা অত্যন্ত দক্ষ এবং অভিজ্ঞ। বেআইনি অর্থ, সোনা, মাদকদ্রব্য ও অন্যান্য নিষিদ্ধ বস্তু উদ্ধারে তাঁরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন এবং কড়া হাতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা করেছেন। বহু অপরাধীকে গ্রেপ্তার করা গিয়েছে। নির্বাচন কমিশন এঁদের বদলি করায় প্রশ্ন উঠেছে কায়েমি স্বার্থের দল ও তাদের রাজনৈতিক প্রভুদের আড়াল করতেই কি এই পদক্ষেপ?
যে দুজনকে কলকাতা ও বিধাননগরের পুলিস কমিশনার করে পাঠানো হল, তাঁদের ভিন রাজ্যের পুলিশ পর্যবেক্ষক হিসাবে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছিল নির্বাচন কমিশন। এই দুই পুলিশকর্তা কলকাতা ও বিধাননগরের বিভিন্ন এলাকা এবং মানুষজন সম্পর্কে যথেষ্ট ওয়াকিবহাল নন। তাঁদের এমন গুরুত্বপূর্ণ এলাকার দায়িত্ব দেওয়ায় ফলে এই সব এলাকা সামলানোর কাজ বিঘ্নিত হতে পারে। রাজ্যে আইন–শৃঙ্খলার অবনতি হলে কমিশন কি দায়িত্ব নেবে?
আইন–শৃঙ্খলা রাজ্যের এক্তিয়ার। তবু রাজ্যের সঙ্গে কোনও পরামর্শ করা হয়নি। অফিসারদের নামের প্যানেল চেয়ে পাঠানোর রীতিও মানা হয়নি। নামের তালিকা চাইলে পরিস্থিতি বিবেচনা করে ওই এলাকায় আইনশৃঙ্খলা সামলাতে পারবেন এমন পুলিস অফিসারদের নাম পাঠানো যেত। তাতে ওই অফিসাররাও তাঁদের দায়িত্ব দক্ষতার সঙ্গে সামলাতে পারতেন।
চালু রীতি এড়িয়ে এবং রাজ্যের কাছে নামের প্যানেল না চেয়ে , নির্বাচন কমিশন একপেশে, পক্ষপাতদুষ্ট, অগণতান্ত্রিক ও ন্যায়বিচারের পরিপন্থী সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
কমিশনের কাছে আর্জি, সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করুন। কীভাবে এবং কার নির্দেশে এই বদলির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে তারও তদন্ত হোক।‌

জনপ্রিয়

Back To Top