অরুন্ধতী মুখার্জি: শনিবার সকাল ১০:৩৭। হরিশ চ্যাটার্জি স্ট্রিট থেকে তাঁর ট্রেডমার্ক সাদা শাড়ি, সাদা চটি পরে বেরোলেন। গাড়ি ব্রিগেডমুখী। দেশের অন্য নেতারা আসার আগেই মমতা ব্যানার্জিকে ব্রিগেডে পৌঁছতে হবে। শনিবার তিনি কর্ত্রী, বাকিরা তাঁর অতিথি। ব্রিগেডে পৌঁছল তাঁর সাদা গাড়ি। ঘড়িতে তখন ১০:৫৮।
যাঁরা ব্রিগেডে ছিলেন, তাঁদের অনেকের মনে পড়ল ১৯৯২–এর কথা। সেদিনও ছিল মমতার ব্রিগেড। তাঁকে ঘিরেই সেদিন বাংলার রাজনীতি আবর্তিত হয়েছিল। এদিন জাতীয় রাজনীতি। ফারাক এটুকুই নয়। সেদিন তাঁর মধ্যে যে ছটফটানি দেখা গিয়েছিল, শনিবার তা যেন কর্পূরের মতো উবে গিয়েছিল। সেদিন ব্রিগেডের মতো বড় মাঠে সমাবেশ ডেকে তিনি চিন্তায় পড়ে গিয়েছিলেন, ভরবে তো?‌ তিনি সেদিন একা। রাজ্য কংগ্রেসের তাবড় নেতারা তাঁর বিরোধী। সোনিয়া গান্ধীও পাশে থাকার বার্তা দেননি। 
কিন্তু সব আশঙ্কা, ভয়, উদ্বেগ ছাপিয়ে জনজোয়ারে ভেসেছিল ব্রিগেড। তিনি প্রমাণ করেছিলেন, একা মমতাই বাংলার বিরোধী মুখ। সেদিন এক পৃথক মঞ্চে বামফ্রন্টের মৃত্যুঘণ্টা রাখা ছিল। শনিবারও তিনি বিরোধী নেত্রী, তবে মোদি সরকারের। এদিনও মোদি–শাহর মৃত্যুঘণ্টা বেজেছে। তবে মনে মনে। সবার মনে  ঢং–ঢং করে তা বেজেছে। এবার তিনি একা নন। বিজেপি–বিরোধী সব দল তাঁর পাশে। তাঁর ডাকে সাড়া দিয়ে তাবড় নেতারা কলকাতায় হাজির হয়েছেন। তাই ছিল না সেই উদ্বেগ, ছিল না মাঠ ভরার চিন্তাও। সকাল থেকেই তাঁর ফোন ব্যস্ত। মুহুর্মুহু খবর আসছে। মিছিল আসছে। আরও মিছিল আসছে। ভরভরন্ত মাঠ। সেদিন কষ্টিপাথরে যাচাইয়ের পর সবাই বলেছিল বাংলার জনপ্রিয়তম রাজনীতিকের নাম মমতা। এদিন আর তাঁর ‘‌রেজাল্ট’‌ বেরনোর ভয় ছিল না।
 সেই জনপ্রিয়তার পর তাঁর অনেক খেতাব জুটেছে। কারও কাছে তিনি ‘ঘরের মেয়ে’। কারও কাছে ‘পাশের বাড়ির মেয়ে’। কেউ ‘অগ্নিকন্যা’ বলেছেন। এমন ‘‌আদরের’‌ নামে তিনি ভেসেছেন। তবে ভেসে যাননি। এদিন তিনি আরও একটি খেতাব পেলেন। এম কে স্ট্যালিন তাঁকে ‘লৌহমানবী’ বললেন। মার্গারেট থ্যাচারকে ‘লৌহমানবী’ বলা হত। আজ মার্গারেটের পাশে মমতাও। 
একইসঙ্গে দেখা গেল, তিনি কেবল বাংলার দিদি নন, গোটা দেশেরই দিদি। ব্রিগেডের কনিষ্ঠ অতিথি হার্দিক প্যাটেল। মাত্রই ২৫।  তেজস্বী যাদব ৩০। ‘‌খুদে’‌ রাজনীতিকদের মতো বয়সে বড়রাও মমতাকে ‘দিদি’ ডাকতেই পছন্দ করেন। তবে ব্যতিক্রম দেবগৌড়া, শারদ পাওয়ার, শারদ যাদব, যশবন্ত। মমতা এদিন থেকে তাঁদের ‘‌বহিন’‌। তাঁর ‘দিল্লি’র সংসার বড্ড বড় হয়ে গেল। তিনি সংসারে সবাইকে বললেন, আবার আসিব ফিরে। এই ব্রিগেডে।    ‌

জনপ্রিয়

Back To Top