আজকালের প্রতিবেদন‌: কামতাপুরি, রাজবংশী ও কুর্মালি ভাষাকে পশ্চিমবঙ্গের সরকারি ভাষার স্বীকৃতি দেওয়া হচ্ছে। বুধবার বিধানসভায় একটি প্রস্তাব অনুমোদন করাতে গিয়ে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি বলেন, ‘‌আমি যেমন নিজের মাতৃভাষা বাংলাকে শ্রদ্ধা করি, সে রকমই এই রাজ্যে বসবাসকারী ভিন্ন জনজাতির মাতৃভাষাকেও শ্রদ্ধা করি। আমরা চাই বাংলা ভাষার মতো সেই সব ভাষাতেও ভাল কাজ হোক, এটাই প্রকৃত ভাষা ও সংস্কৃতির মেলবন্ধন। এর ফলে সব ভাষাই উন্নত হবে।’‌ তিনি সভাকে জানান, রাজ্য সরকার এই উদ্যোগ নেওয়ার আগে, বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ নিয়েছে। নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ীর সভাপতিত্বে সুবোধ সরকার, বিজয় সরকারদের নিয়ে ৭ সদস্যের একটি বিশেষজ্ঞ কমিটি গঠিত হয়। এই কমিটি গত ৩১ জানুয়ারি তাদের রিপোর্ট জমা দিয়েছে। তাতে বলেছে, কামতাপুরি ও রাজবংশী ভাষায় রচিত সাহিত্য পর্যালোচনা করে, সেই ভাষাভাষী মানুষদের সঙ্গে কথা বলে, এই ভাষার অতীত ও বর্তমান বিবেচনা ও আলোচনা করে, সরকারি ভাষার স্বীকৃতি দেওয়া উচিত বলে তারা মনে করছে। কুর্মালি ভাষার সরকারি স্বীকৃতি নিয়ে বিধানসভায় 
কেউ বিরূপ মন্তব্য না করলেও, কামতাপুরি ভাষার সরকারি স্বীকৃতি নিয়ে কংগ্রেস ও বামেরা জোরাল প্রতিবাদ জানায়। ড.‌ সুখবিলাস বর্মা বলেন, কামতাপুরি বলে কোনও ভাষার অস্তিত্বই নেই। রাজবংশী ভাষার একটা কথ্য রূপ এই ভাষা। কামতাপুরি বলে কোনও রাজ্য কখনও ছিল না। ইতিহাস ও ভাষার বিকৃতি নিয়ে একদল বিচ্ছিন্নতাকামী আন্দোলনকারী এতে উৎসাহ পাবে। অশোক ভট্টাচার্য বলেন, এই রাজ্যে নানা ভাষার নানা কথ্য রূপ আছে। সেগুলিকে এভাবে স্বীকৃতি দিতে গেলে ভবিষ্যতে অসমের মতো ভাষাভিত্তিক গন্ডগোলের সম্ভাবনা আছে। তৃণমূলের শ্রীকান্ত মাহাতো ও কংগ্রেসের নেপাল মাহাতো কুর্মালি ভাষার সরকারি স্বীকৃতিকে স্বাগত জানান। সাধারণত কুর্মি সম্প্রদায়ের লোকেরা এই ভাষায় কথা বলেন। সুন্দরবন অঞ্চল ছাড়া রাজ্যের অন্যত্র মাহাতোরা কুর্মি সম্প্রদায়ের মধ্যে পড়েন। নেপাল মাহাতো সভাকে জানান, রাঁচি বিশ্ববিদ্যালয়ে কুর্মি ভাষা নিয়ে স্নাতকোত্তর পর্যন্ত পড়াশোনা করা যায়। ‌পশ্চিমবঙ্গে যে সব এলাকায় ১০ শতাংশের বেশি মানুষ কুর্মালি, রাজবংশী কিংবা কামতাপুরি ভাষায় কথা বলেন, সেই সব এলাকায় এই তিনটি ভাষা সরকারি ভাষার স্বীকৃতি পাচ্ছে। এর আগে সাঁওতালি, কুর্ক, গুরমুখি ও উর্দু এই ভাবে সরকারি ভাষার স্বীকৃতি পেয়েছে।‌‌
‌‌মাহাতোদের উপজাতির স্বীকৃতি দিতে 
এই রাজ্যের সব মাহাতোরাই যাতে উপজাতির (‌ট্রাইব)‌ স্বীকৃতি পায়, তার জন্য কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি লিখিত আবেদন জানিয়েছেন। এটা ঘটনা, মাহতোদের দীর্ঘদিনের দাবি উপজাতির স্বীকৃতি পাওয়া। কোনও কোনও রাজ্যে মাহাতোরা উপজাতির স্বীকৃতি পেলেও, এ রাজ্যের মাহাতোরা তা পায়নি। মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি সভাকে জানান, ‘‌শান্তিরাম মাহাতো আমাকে অনেকবার এ ব্যাপারটা বলেছেন। এবার আমি লিখিত ভাবে কেন্দ্রকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আবেদন জানিয়েছি।’‌‌‌

জনপ্রিয়

Back To Top