আজকালের প্রতিবেদন- মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি এনআরএসের আহত জুনিয়র ডাক্তার পরিবহ মুখার্জিকে সোমবার ইনস্টিটিউট অফ নিউরোসায়েন্সেস কলকাতা (‌আইএনকে)‌ হাসপাতালে দেখতে গিয়েছিলেন। পরিবহ ভাল আছেন জানিয়েছেন। পরিবহর শারীরিক অবস্থা নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় বিভিন্ন রকম কথা ছড়িয়েছে। জুনিয়র ডাক্তাররা বিবৃতি দিয়েও জানিয়েছিলেন পরিবহর চোখের ক্ষতি হয়েছে। দৃষ্টিশক্তির সমস্যা হচ্ছে। মস্তিষ্কের আঘাত গুরুতর। ভবিষ্যতে কোনও দিন শল্যচিকিৎসক হতে পারবেন না। এ ধরনের ‌‌বিভিন্ন তথ্য ঘোরাফেরা করলেও তা ঠিক নয়। এদিন আইএনকে হাসপাতালের চেয়ারম্যান ডাঃ আর পি সেনগুপ্ত সাংবাদিক বৈঠক করে পরিবহর শারীরিক অবস্থা নিয়ে রটানো যাবতীয় ভুল তথ্যের নিরসন করে বলেন, ‘‌পরিবহ আস্তে আস্তে অনেকটাই সুস্থ হয়ে উঠেছে। সিটি স্ক্যান রিপোর্ট ভাল। সামান্য ফোলাভাব রয়েছে, তবে সেটা স্বাভাবিক। শারীরিক দিক থেকে ও সম্পূর্ণ ঠিক আছে। তবে মানসিক দিক থেকে একটু দুর্বল হয়ে পড়েছে। আমি নিজে ৬ ঘণ্টা ওর সঙ্গে গল্প করেছি। বাইরের ঘটনাগুলো নিয়ে ওকে ভয় পাওয়াচ্ছিল। কী করে ওই অবস্থা থেকে ওকে বের করব সেটাই ভাবছিলাম। এদিনের ঘটনা মুখ্যমন্ত্রী ওদের আর্জিগুলো মেনে নিয়েছেন, যা ওকে দ্রুত সুস্থ করে তুলবে।’‌ ভবিষ্যতে পরিবহ সার্জেন হতে পারবে। সেটা নিয়ে কোনও সন্দেহ নেই। সেই বিষয়েও ডাঃ সেনগুপ্ত বলেন, ‘আমি ১৯৬৩ সাল থেকে অনেক বড় বড় নিউরো সার্জারি করছি। ৫০–৫৫ বছর ধরে তো আমি দেখেছি এরকম ক্ষেত্রে কীরকম পরিস্থিতি হয়। প্রথমে রোগীর মনের মধ্যে একটা দ্বিধা থাকে। ভাল সার্জেন হতে পারব না কি না এই নিয়ে ওর মনের মধ্যেও একটা সন্দেহ থাকতে পারে। তার কারণ অস্ত্রোপচারের পরেও একটা ট্রমার মধ্যে থাকে। আস্তে আস্তে যখন তিন মাস পর ও নিজেকে দেখবে তখন ভাববে আরে আমি কী বোকার মতো ভেবেছিলাম। তখন নিজের মধ্যেই পরিবর্তন আসবে, অন্যরকম হয়ে যাবে। আস্তে আস্তে ট্রমা কেটে যাবে। আমাদের দেখতে হয় মস্তিষ্কের গঠনে সত্যিকারের কোনও ড্যামেজ আছে কিনা। সেটা ওর নেই, সুতরাং কোনও ভয় নেই। এখন কোনও জটিলতা নেই। পরিবহ সার্জেন হতে পারবে। সাঁতার কাটতে পারবে। সাইকেল চালাতে পারবে। নির্দিষ্ট একটা সময়ের পর ও স্বাভাবিক জীবনে ফেরত আসতে পারবে। সব কিছুই আস্তে আস্তে করতে পারবে। বড় অপারেশন আমার নিজের ক্ষেত্রেও হয়েছিল। আমাকে ডাক্তার বলেছিল ছ’‌সপ্তাহের আগে আইসিইউ থেকে বেরোতে পারবে না। আমাকে বলেছিল, কাজে যোগ দিতে কয়েক মাস লাগবে। আমি তিন সপ্তাহ পরেই কাজে যোগ দিয়েছিলাম। সেটাই আমার মনের জোর। পরিবহর মনের জোর ওর বন্ধুরাই দিতে পারবে। ওর সামনে আজেবাজে কথা না বললেই ভাল। আমি যখন প্রথমে দেখা করি ও গুমোট হয়ে ছিল। পরে নিজের কথা বলি, সব শুনল, হাসছে, গল্প করছে। পরিষ্কার সব গড়গড়িয়ে বলল। তবে একটা উদ্বেগ রয়েছে ওর মধ্যে। এদিনের ঘটনার পরে যা হল সেটাই ওর জন্য সর্বোত্তম চিকিৎসা।’‌ পরিবহর হাসপাতালে থাকার প্রয়োজন নেই এই মূহূর্তে। তবে সেলাই খুলতে ক’‌টা দিন সময় লাগবে। তার জন্যই ভর্তি রাখা। দ্রুত ওকে ছেড়ে দেওয়া হবে জানান ডাঃ আর পি সেনগুপ্ত। ‌

পরিবহ মুখার্জিকে দেখতে ইনস্টিটিউট অফ নিউরোসায়েন্সেসে মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি। আছেন বিশিষ্ট চিকিৎসক আর পি সেনগুপ্ত,
স্বাস্থ্য সচিব রাজীব সিনহা ও নগরপাল অনুজ শর্মা। ছবি:বিজয় সেনগুপ্ত

জনপ্রিয়

Back To Top