আজকাল ওয়েবডেস্ক:‌ অমর্ত্য সেনের পর ফের এক ভারতীয় বাঙালি অর্থনীতিতে নোবেল পেয়েছেন। সেই অভিজিৎ বিনায়ক ব্যানার্জি আবার মাত্র এক বছরের সিনিয়র তাঁর থেকে। তাই তাঁর কাজ, গবেষণা অনেকটাই চেনা কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপিকা মহালয়া চ্যাটার্জির। আজকাল ওয়েবডেস্ককে সে বিষয়েই বললেন অনেক কথা। শুনলেন সৌরভ নন্দী।

• অভিজিৎবাবুর কাজ প্রসঙ্গে মতামত।
• মহালয়া চ্যাটার্জি– দারিদ্র দূরীকরণ নিয়ে আমাদের যে মিথ রয়েছে, উনি সেই মিথের কথা না বলে পুরোপুরি অন্য আঙ্গিকে সেটা প্রকাশ করেছেন। আমরা শুধু আর্থিক দারিদ্রের কথা জানি। কিন্তু অভিজিৎবাবু পুরোপুরি অন্য একটি বিষয়কে তুলে ধরেছেন। বুঝিয়েছেন শুধু আর্থিক নয়, দারিদ্র আরও অনেকরকমের হতে পারে। এজন্য তিনি বেশ কিছু অর্থনৈতিক সমীক্ষার উদাহরণও দিয়েছেন। উনি দেখিয়েছেন, দরিদ্র মানুষদের খাবার ছাড়াও আরও অনেক চাহিদা আছে। অর্থাৎ হাতে টাকা পেলে তাঁরা সেই কাজটি আগে করবেন। নিজের বক্তব্য সেকথা আগে জানিয়েছেন। অভিজিৎবাবু বুঝিয়েছেন, দারিদ্র দূরীকরণ শুধু পেটের ভাত জোগাড় করে দিলেই হবে না। পাশাপাশি গণতন্ত্রের সঙ্গে দারিদ্রর কী সম্পর্ক সেটাও বুঝিয়েছেন। গণতন্ত্র থাকলে একজন গরীব মানুষ ঠিক করতে পারবেন, হাতে আসা অর্থের সাহায্যে তিনি কী কিনবেন, তাঁর কী প্রয়োজন?‌ কিন্তু মাঝে কোনও দাদাগোছের কেউ থাকলে সেটা কখনই সম্ভব হবে না।  
• একটি সাক্ষাৎকারে অভিজিৎবাবু বলেছেন, ‘‌দেশের অর্থনীতিতে কোনও আশার আলো দেখা যাচ্ছে না।’‌ উনি যেভাবে কাজ করেন, সেটা কী আমাদের দেশে কোনওভাবে কার্যকর করা যাবে?‌
• মহালয়া চ্যাটার্জি–
অবশ্যই যাবে। তার আগে বুঝতে হবে গরিব মানু্ষরা কী চাইছেন। কিন্তু আমাদের এই অর্থনীতিতে গরিব কি চাইছেন, সেটা কেউ বুঝতে চাননি। উপরমহল থেকেই সমস্তটা ঠিক করে দেওয়া হয়েছে। কিন্তু কিসে ভাল হবে, সেটা গরিবকেই ঠিক করতে দিতে হবে।
• এর আগে কেন্দ্রের নোটবাতিলের সমালোচনা করেছিলেন অভিজিৎবাবু.‌.‌.‌
• মহালয়া চ্যাটার্জি–
হ্যাঁ করেছেন। আসলে ওনার মা–বাবা দু’‌জনেই অর্থনীতিবিদ ছিলেন। তবে বাবা দীপকবাবু মূলত শিক্ষক হলেও মা নির্মলা ব্যানার্জি কিন্তু মানুষের মধ্যে থেকে কাজ করেছেন। নির্মলাদি কলকাতার গরিব মানুষদের নিয়ে অনেক কাজ করেছেন। অভিজিৎবাবুর কাজেও সেটার প্রতিফলন রয়েছে। মায়ের প্রভাব অনেক বেশি ওনার গবেষণায়। আর অভিজিৎবাবু বাইরে থাকলেও কখনই দেশকে ভোলেননি। আমার মনে হয় অমর্ত্য সেনের থেকেও অভিজিতের নোবেল অনেক বেশি তাৎপর্যপূর্ণ। বইপত্র থেকে বেরিয়ে এসে রাস্তায় নামা, গরিবের চাহিদা যে আসলে অন্যরকম, সেটা বোঝাটাই অভিজিতের সবচেয়ে বড় অবদান। না হলে পুওর ইকনমিকস বলে কেউ বই লেখে না। বইয়ের নামই বুঝিয়ে দিয়েছে উনি কী করতে চাইছেন। অমর্ত্য সেনকে ছোট না করেই বলছি, উনি যে বিষয়টি নিয়ে কাজ করেছিলেন, সেটা অনেক আগের। কিন্তু অভিজিৎ কিন্তু সমসাময়িক জিনিসগুলো নিয়ে সারা বিশ্বব্যাপী কাজ করেছেন। অনেকে বলছেন, ওনার তত্ত্ব আমাদের কোনও কাজে লাগবে কি না। কিন্তু আমার মনে হয়ে অভিজিৎবাবুর গবেষণা এই দেশে কেউ কাজে লাগাবে কি না।    
 ‌‌‌‌

জনপ্রিয়

Back To Top