নীলাঞ্জনা সান্যাল- এ বছর মাধ্যমিক পরীক্ষার প্রশ্নপত্রের প্যাকেট নিয়ে জোর কড়াকড়ি। পরীক্ষা শুরুর আগে এবং পরীক্ষা চলাকালীন প্রশ্ন ফাঁস ঠেকাতে প্রযুক্তির সাহায্য নিয়েছে মধ্যশিক্ষা পর্ষদ। প্রশ্নপত্রের প্যাকেট, খাম সিল করার জন্য দেওয়া স্টিকারে থাকছে নিরাপত্তা সংক্রান্ত বিশেষ ব্যবস্থা। 
প্রশ্নপত্রের প্যাকেট কখন খোলা হচ্ছে, প্রশ্ন বাছাইয়ের শেষে প্যাকেটটি সিল করে দেওয়ার পর দ্বিতীয়বার খোলা হয়েছে কি না, হলে কখন হয়েছে— সব তথ্যই এবার পর্ষদের সার্ভার রুমে সঙ্গে সঙ্গে এসে পৌঁছবে। শুধু তাই নয়, প্রশ্ন বাছাইয়ের পর প্যাকেটের ওপর ভেনু সুপারভাইজার, অতিরিক্ত ভেনু সুপারভাইজার কখন সই করলেন তাও সঙ্গে সঙ্গেই জানতে পারবে পর্ষদ। পরীক্ষার দায়িত্বে থাকা শিক্ষকরা কখন সই করলেন জানা যাবে তাও। বিভিন্ন ভেনুতে পাঠানো প্রতিটি প্রশ্নপত্রের প্যাকেট তার সঙ্গে পাঠানো খাম এবং স্টিকারে থাকছে এই বিশেষ ব্যবস্থা। 
গত বছর মালদার একটি স্কুল থেকে ভৌতবিজ্ঞানের প্রশ্ন পরীক্ষা চলাকালীন হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে বাইরে চলে আসে। বিষয়টি নিয়ে বিস্তর জলঘোলা হয়। এ বছর তাই কখন প্রশ্নপত্র মূল ভেনু থেকে পরীক্ষা কেন্দ্রে যাবে, কখন প্রশ্ন খোলা হবে— ‌এসব ব্যাপারে যথেষ্ট সতর্ক পর্ষদ। মূল ভেনু থেকে প্রশ্নপত্র অধীনস্থ ভেনু বা পরীক্ষা কেন্দ্রগুলিতে সকাল সাড়ে ১০টার সময় পৌঁছতে বলা হয়েছে। পরীক্ষাকেন্দ্রের দায়িত্বে থাকেন ভেনু সুপারভাইজার এবং অতিরিক্ত ভেনু সুপারভাইজার। এঁদের দায়িত্ব পরীক্ষা নেওয়া। ১১টা ১৫ মিনিটে এঁদের প্রশ্নপত্র বাছাই বা শর্টিংয়ের কাজ শুরু করতে বলা হয়েছে। এই সময় স্কুলে বহিরাগত যেন না থাকে, স্কুলের গেট যেন বন্ধ থাকে। ভেনু সুপারভাইজার এবং অতিরিক্ত ভেনু সুপারভাইজার ছাড়া উপস্থিত প্রত্যেকের মোবাইল যেন বন্ধ থাকে। বাছাইয়ের পর বাড়তি প্রশ্নপত্র পর্ষদের দেওয়া খামে পুরে পাঠানো স্টিকার দিয়ে সিল করে তালা বন্ধ করে রাখতে হবে। পরীক্ষা শুরুর পর পরীক্ষার্থী ছাড়া আর কারোর কাছে যেন প্রশ্নপত্র না থাকে, তা সুনিশ্চিত করতেই। পরীক্ষার হলে পর্ষদের দেওয়া খাম বা প্যাকেটে প্রশ্ন সিল করে নিয়ে যেতে হবে। পৌনে ১২টা থেকে পরীক্ষা শুরু। ১১টা ৪০ মিনিটে প্রশ্নপত্র দেওয়া শুরু হবে। পর্ষদের এক আধিকারিক বলেন, ‘‌গত বছর ভৌতবিজ্ঞান পরীক্ষার দিন একজন শিক্ষক মোবাইলে প্রশ্নের ছবি তুলে বাইরে পাঠিয়েছিলেন। এ বছর প্রশ্ন বাছাইয়ের পরই বাড়তি প্রশ্ন খামে সিল করে রাখতে বলা হয়েছে। প্যাকেট, খাম এবং স্টিকারে বিশেষ নিরাপত্তাজনিত ব্যবস্থা থাকছে, তাই এর অন্যথা ঘটলে পর্ষদ সঙ্গে সঙ্গেই তা জানতে পারবে। কোন ভেনুতে ঘটনাটি ঘটছে সেটাও জানা যাবে।’‌ বিশেষ ব্যবস্থাটি কি‌ জিপিএস ট্র‌্যাকিং?‌ ওই আধিকারিক বলেন, ‘‌জিপিএস ট্র‌্যাকিং ছাপাখানা থেকে প্রশ্নপত্র কাস্টডিয়ানে পৌঁছানো পর্যন্ত থাকে। প্রশ্নপত্রের প্যাকেটে নতুন ডিভাইস ব্যবহার করা হয়েছে।’‌
এ বছর মাধ্যমিক পরীক্ষা শুরু ১২ মার্চ। গত বছরের থেকে পরীক্ষার্থীর সংখ্যা ৩৮ হাজারের মতো বেশি হতে পারে। গত বছর মোট পরীক্ষার্থীর সংখ্যা ছিল ১০ লক্ষ ৬২ হাজার। এ বছর দাঁড়াবে ১১ লক্ষের কাছাকাছি। ‌‌‌‌

জনপ্রিয়

Back To Top