আজকালের প্রতিবেদন: এক বছর চার মাসের শিশুর ফুসফুসে বিঁধে থাকা ছোলার টুকরো বের করে জটিল অস্ত্রোপচারে সফল হলেন এসএসকেএমের চিকিৎসকেরা। বৃহস্পতিবার সকাল ৭টায় একরত্তি শিশুর অস্ত্রোপচার শুরু করেন ইএনটি বিভাগের চিকিৎসকেরা, ১০টার মধ্যে শেষ হয়। এখন শিশুটি ভাল আছে। মেন ব্লকের চারতলায় শিশু বিভাগের ওয়ার্ডে রয়েছে। খুব তাড়াতাড়ি ছুটি দিয়ে দেওয়া হবে জানিয়েছেন চিকিৎসকেরা। 
হুগলির উত্তর রসুলপুরে থাকেন অঞ্জনকুমার সামন্ত ও তনুজা সামন্ত। তাঁদের একমাত্র সন্তান আরাধ্যা ছোলা, মটরভাজা খেতে ভালবাসে বলে বাড়ির লোকও মাঝেমধ্যে খাওয়ান। মঙ্গলবার দুপুরে প্রতিবেশীর বাড়িতে শিশুটি ছিল। সেখানে আপন মনে ছোলা খেতে খেতে হঠাৎই বিষম খেয়ে কাশি হতে থাকায় ছুটে আসেন বাবা–মা। সঙ্গে সঙ্গে নিয়ে যান আরামবাগ হাসপাতালে। শিশুটির বাবা অঞ্জনকুমার সামন্ত জানিয়েছেন, ‘‌সেখানে চিকিৎসকেরা সঠিকভাবে ধরতে না পেরে নিউমোনিয়ার চিকিৎসা করেন। বুধবার সেখানকার চিকিৎসকেরা জানান, আরাধ্যার অবস্থা ভাল ঠেকছে না। তাই বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজে নিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দেন। সেখানে নিয়ে গিয়ে এক্স–রে করালে ধরা পড়ে, ডান ফুসফুসে ছোলার টুকরো আটকে রয়েছে। ‌বর্ধমানে ডাক্তারবাবুরা ঝুঁকি নিতে চাননি। তাই আমি কলকাতায় নিয়ে আসতে চাইলে তাঁরাই গাড়ির বন্দোবস্ত করে দেন। বৃহস্পতিবার সকালে চিকিৎসকেরা দেখার পর অপারেশনের সিদ্ধান্ত নেন। এখন আমার মেয়ে ভাল আছে। এখানকার ডাক্তারবাবুদের জন্যই আরাধ্যা নতুন জীবন ফিরে পেয়েছে।’‌ 
ইএনটি বিভাগের প্রধান ডাঃ অরুণাভ সেনগুপ্তর তত্ত্বাবধানে চলে অস্ত্রোপচার। তিনি জানিয়েছেন, ‘‌ডান ফুসফুসে ছোলার টুকরো ঢুকে চেপে গেঁথেছিল। ফুসফুসের বায়ুথলি চুপসে যাওয়ায় অক্সিজেন সরবরাহ হচ্ছিল না। যে–‌কোনও সময়ে মৃত্যুর আশঙ্কা ছিল। অপারেশনটি খুবই ঝুঁকিপূর্ণ। আমরা কোনও কাটাছেঁড়া ছাড়াই ব্রঙ্কোস্কোপি করে ছোলার টুকরোগুলো বের করি। শিশুটি সুস্থ আছে।’‌ গোটা অস্ত্রোপচারে তাঁকে সহযোগিতা করেন চিকিৎসক অরিন্দম দাস, সায়ন হাজরা, প্রণয় আগরওয়াল ও প্রিয়াঙ্কা মণ্ডল। ‌

জনপ্রিয়

Back To Top