আজকালের প্রতিবেদন

 

লকডাউন ভেঙে, মাস্ক না পরেই বিজেপি কর্মী–সমর্থকেরা রামপুজো করলেন, মিছিল বার করলেন। মানা হল না সামাজিক দূরত্ব বিধি। বুধবার অযোধ্যায় ভূমিপূজন নিয়ে সস্ত্রীক দীপোৎসব করলেন রাজ্যপাল জগদীপ ধনকড়। রাজভবনে এ ধরনের কর্মকাণ্ডের জন্য বিতর্ক তৈরি হল। সরকারি ভবনে কীভাবে এ সব করা যায়। অবশ্য রাজ্যপাল বলেছেন, ‘‌আজ বিশেষ দিন। রামরাজত্ব স্থাপন করতে হবে।’‌ বুধবার কলকাতা ও জেলায় বহু জায়গাতেই রামপুজোর আয়োজন করেছিলেন বিজেপি কর্মী–সমর্থকরা। পুলিশের সঙ্গে গোলমালে জড়িয়ে পড়েন বিজেপি সমর্থকরা। পুলিশের গাড়ি ভাঙচুর করা হয়েছে, লকডাউন ভেঙে মিছিল বেরিয়েছে। তা আটকাতে অনেক জায়গাতেই আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে ব্যবস্থা নিতে হয়েছে পুলিশকে। রায়গঞ্জে খোলা তরোয়াল নিয়ে নাচানাচির অভিযোগ উঠেছে।
বড় ঘটনা ঘটেছে খড়্গপুরে। লকডাউন ভেঙে রাস্তায় বেরনো এবং পুজোরও আয়োজন করা হয়েছিল। স্থানীয় হনুমান মন্দিরে জমায়েত দেখে পুলিশ বিজেপি সমর্থকদের চলে যেতে বলে। তাই নিয়ে শুরু হয় বচসা। গোলমাল শুরু হয়। হঠাৎই পুলিশকর্মীদের লক্ষ্য করে ইট ছোড়া শুরু হয়। খড়্গপুরের এসডিপিও সুকোমলকান্তি দাসের গাড়ি ভাঙচুর করা হয়। তাঁর মাথায়, হাতে ইট লাগে। আহত হয়েছেন আরও ৪ জন পুলিশকর্মী। গোলমাল বাড়ছে দেখে পুলিশ লাঠি উঁচিয়ে জমায়েত সরিয়ে দেয়। ৫ জন বিজেপি কর্মীকে গ্রেপ্তার করা হয়। তালবাগিচার ওই ঘটনায় বুধবার সন্ধেয় পশ্চিম মেদিনীপুরের বিজেপির সাধারণ সম্পাদক শঙ্কর গুছাইত–সহ মোট ১৭ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। একই গোলমাল হয়েছে মেদিনীপুরের ইন্দিরাপল্লী এলাকায়। লকডাউন ভেঙে হিন্দু যুববাহিনী হনুমান মন্দিরে পুজোর আয়োজন করে। পুলিশ গিয়ে সেখান থেকে একজনকে গ্রেপ্তার করে। পরে ফের পুজোর আয়োজন করলে ডিএসপি সব্যসাচী সেনগুপ্তর নেতৃত্বে বিশাল পুলিশবাহিনী গিয়ে জমায়েত সরিয়ে দেয়। সেখানে পুলিশের সঙ্গে বচসা হয়, ইট ছোড়া হয়।
বর্ধমানে ৫ নম্বর ইছলাবাদে বিজেপির মিছিল বের হয়। পুলিশ বাধা দিলে উত্তেজনা তৈরি হয়। তবে, গোটা জেলায় আর কোথাও মিছিল, পদযাত্রা হয়নি। গোলমাল হয়েছে রাজপুর–সোনারপুর পুরসভার ৩৪ নম্বর ওয়ার্ডে। বারুইপুর জেলা পুলিশ সুপার রশিদ মুনির খান জানান, লকডাউন ভাঙার জন্য বিভিন্ন এলাকা থেকে ৮৩ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বিষ্ণুপুরের আমতলা, বারুইপুরের চক্রবর্তীপাড়ায় যজ্ঞ হয়, লকডাউন ভেঙে বাজি পোড়ানোও হয়। অন্যদিকে, দূরত্ববিধি না মেনে লকডাউন ভেঙে রামরাজাতলা রাম মন্দিরে বিজেপি কর্মীরা যান। দূরত্ববিধিও ছিল না, মুখে মাস্কও ছিল না অনেকের। সঙ্গে ছিল উদ্দাম নৃত্য ও দেদার বাজি ফাটানো। সঙ্গে লাড্ডু বিলি। হাওড়া পুলিশ কমিশনারের সূত্রে জানা গেছে, কীভাবে এ ঘটনা ঘটল তা দেখা হবে। একই পরিস্থিতি হয়েছে পাণ্ডুয়া থানার ক্ষীরকুন্ডি নিয়াল নপাড়া গ্রাম পঞ্চায়েতে। এখানে মিছিল হয়েছে। স্বাস্থ্যবিধি বা সামাজিক দূরত্বের বালাই ছিল না। মন্ত্রী তপন দাশগুপ্ত বলেছেন, ‘‌স্বাস্থ্যবিধি অমান্য করে লকডাউন ভেঙে মিছিল করায় সংক্রমণের আশঙ্কা বেড়ে গেল।’‌
এদিকে কলকাতার সেন্ট্রাল অ্যাভিনিউতে রামমন্দির বন্ধ ছিল। কয়েক জায়গায় সুরক্ষাবিধি না মেনেই পুজো হয়েছে। বিজেপির রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ বাড়িতেই রামপুজো করেছেন। এদিকে শিলিগুড়িতে ভূমিপূজন উপলক্ষে লকডাউন ভেঙেছে বিজেপি ও তার সহযোগী সংগঠনগুলো। ৩২ নম্বর ওয়ার্ডের বলাকা মোড়, ফাঁসিদেওয়া ইত্যাদি জায়গায় রীতিমতো মাইক বাজিয়ে পুজো হচ্ছিল। বিভিন্ন জায়গায় কর্মসূচি নিয়ে গোলমাল পাকায় বিজেপি কর্মীরা। কোচবিহারের মাথাভাঙা, উত্তর দিনাজপুরের রায়গঞ্জ ইত্যাদি জায়গায় গোলমাল পাকানো হয়েছে। রায়গঞ্জে বিজেপির অনুষ্ঠানে তরোয়াল নিয়ে নাচানাচির অভিযোগ উঠেছে। যদিও জেলা সভাপতি বিশ্বজিৎ লাহিড়ী বলেছেন, তরোয়াল নিয়ে আরতি করা হয়েছে। বহু জায়গায় মঞ্চ তৈরি করা হয়েছিল। শিলিগুড়িতে বাইক মিছিলের অভিযোগ উঠেছিল। একই চিত্র মালদাতেও। তবে, লকডাউন ভেঙে মিছিল করার জন্য পুলিশ বিজেপি কর্মী ও বিশ্ব হিন্দু পরিষদের কর্মীদের গ্রেপ্তার করেছে।‌

মাস্ক নেই, দূরত্ববিধিও জলাঞ্জলি। বুধবার। ছবি: অভিজিৎ মণ্ডল

জনপ্রিয়

Back To Top