আজকালের প্রতিবেদন: রহস্যগল্প চিরকাল পাঠকের কাছে আকর্ষণীয়। সেই কাহিনী যদি সত্য ঘটনা অবলম্বনে হয় সেই আকর্ষণ বেড়ে যায় অনেক গুণ। আর সেই কাহিনী যদি কোনও দুঁদে পুলিস অফিসার স্বাদু ভাষায়, সহজ ভঙ্গিতে, ঘটনায় বিন্দুমাত্র ভেজাল না মিশিয়ে পরিবেশন করেন, তবে তা নিয়ে যে কাড়াকাড়ি পড়ে যাবে, তাতে আর আশ্চর্যের কী আছে?‌
এবার বইমেলায় সেই কাণ্ড ঘটিয়েছেন যুগ্ম নগরপাল (‌সদর) সুপ্রতিম সরকার। তার লেখা বই ‘‌গোয়েন্দাপীঠ লালবাজার’‌ সুপারহিট। কী আছে এই বইয়ে?‌ আছে এক ডজন খুনের রুদ্ধশ্বাস নেপথ্যকথা। গল্পের বানানো গোয়েন্দা নয়, এই বারো খুনের কিনারা করেছেন সত্যিকারের পুলিস অফিসাররা। গল্পের গোয়েন্দাদের থেকে তাঁদের কাজ অনেক বেশি কঠিন। লেখকের কলম অপরাধী ধরার ক্লু খুঁজে দেয় না। নিজের পরিশ্রম, বুদ্ধি, সাহস, টিম ওয়ার্ক দিয়ে তাদের কাজ করতে হয়েছে। তাই তারাই আসল ‘‌হিরো’‌।  
এক ডজন খুনের কিনারার নেপথ্য কাহিনী লিখেছেন সুপ্রতিম। শহরে ঘটে যাওয়া বিচিত্র ১২টি খুনের ‘‌ব্রেক থ্রু’‌। চমৎকার ভাষায় গল্পের ঢঙে লেখা। লেখক কলকাতা পুলিসের যুগ্ম নগরপাল (‌সদর) এবং আদ্যন্ত ক্রিকেটরসিক। কলকাতা পুলিসের ফেসবুক পাতায় লেখা চলছিল। সেই লেখার তুমুল জনপ্রিয়তা, পাঠকের দাবিতে এবার বই হল। শুরুতে সুপ্রতিম লিখেছেন, ‘‌জটিল খুনের মামলার তদন্ত অনেকাংশে তুলনীয় টেস্ট ক্রিকেটের সঙ্গে। একদিনের ম্যাচ নয়, কুড়ি–বিশের বিনোদন তো নয়ই।’‌ যে ১২টি মামলার নেপথ্যকাহিনী এই বইয়ে রয়েছে সেগুলি সাম্প্রতিক নয়, বিংশ শতকের তিনের দশকের ঘটনা দিয়ে শুরু। শেষ হয়েছে মাত্র ১০ বছর আগে ঘটে যাওয়া খুনের ঘটনা দিয়ে। বইটির ভূমিকা লিখেছেন স্বয়ং নগরপাল রাজীব কুমার। বলেছেন, ‘‌সুপ্রতিমের লিখনশৈলী আমার কাছে ছিল সানন্দ বিস্ময়ের মতো।’‌
আনন্দ পাবলিশার্স থেকে প্রকাশিত এই বইটি শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত পাঠকদের টানটান করে রাখে। শেষে কলকাতা পুলিসের প্রতি জাগে সম্মান, ভরসা। তদন্তকারী অফিসার যাঁরা ছিলেন, আছে তাঁদের পরিচয়। চমৎকার এবং প্রয়োজনীয় একটি প্রয়াস।‌‌‌

জনপ্রিয়

Back To Top