কাকলি মুখোপাধ্যায়: আগামী এপ্রিল থেকে রাজারহাট–নিউ টাউনের রাস্তায় মিলবে মহিলাচালিত বাইক ট্যাক্সি। প্রথম ধাপে ৭টি স্কুটি চালানো হবে। এর জন্য মহিলা চালকদের প্রশিক্ষিত করে তোলা হয়েছে। 
কেবাইক মোবাইল অ্যাপে বুকিং করলেই বাড়ির দরজায় পৌঁছে যাবে বাইক ট্যাক্সি। সকাল ৮টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত পাওয়া যাবে মহিলাচালিত বাইক ট্যাক্সি। আর শহরে এই পরিষেবা পৌঁছে দিয়েছে কলিম গ্লোবাল কমার্শিয়াল মোটর প্রাইভেট লিমিটেড। ইমরান মুস্তাফা ও ফিরদৌস কলিম দুই ছোটবেলার বন্ধু মিলে তৈরি করেন কেবাইক।  গত এপ্রিলে রাজারহাট–নিউ টাউন ও সল্টলেক চত্বরে বাইক ট্যাক্সির আত্মপ্রকাশ। বছর ঘুরতে না ঘুরতেই নজর কেড়েছে বাসিন্দাদের। চাহিদা বেড়েছে।
শুরুর কথা বলতে গিয়ে অন্যতম কর্তা ইমরান মুস্তাফা জানালেন, যানজটে জর্জরিত শহরে দ্রুত গন্তব্যে পৌঁছে দিতেই বাইক ট্যাক্সির ভাবনা। সেখান থেকেই পথ চলা শুরু। আমাদের লক্ষ্য আরও বেশি সংখ্যক মানুষের কাছে বাইক ট্যাক্সি পরিষেবা পৌঁছে দেওয়া। কলকাতাতেও বাইক ট্যাক্সি পৌঁছে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। এ নিয়ে রাজ্য সরকারের কাছে প্রস্তাবও পাঠানো হয়েছে। সরকারের অনুমতি মিললেই সারা কলকাতায় ঘুরবে বাইক ট্যাক্সি। ২৫টি বাইক নিয়ে কাজ শুরু। এখন রাজারহাট, নিউ টাউন, সল্টলেক চত্বরে ৫০টি বাইক ঘুরছে। প্রতিটি চালককে সবরকম প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। চালকদের নিরাপত্তার জন্য গাড়ি–সহ চালকের ১ লক্ষ টাকা বিমা করে দেওয়া হয়েছে। সম্পূর্ণ নিরাপদ যাত্রা বলে মহিলারাও সওয়ার হন। তবে পুরুষ চালক থাকায় অনেক মহিলাদের সমস্যা হয়। তাই এবার মহিলাচালিত স্কুটি আনা হচ্ছে।
বুকিং ব্যবস্থাও বেশ সহজ। মোবাইলে কেবাইক অ্যাপ ডাউনলোড করে নিয়ে সেখান থেকে বুক করা যাবে। এ ছাড়া ফোন করেও বুক করা যাবে। দেওয়া যাবে ফিডব্যাকও। গত এক বছরে যাত্রী ‘‌ফিডব্যাক’‌ অনুযায়ী সকলেই খুশি। বাইক ট্যাক্সি থেকে নেমে হেলমেট খুলতে খুলতে সুশান্ত নায়েক বললেন, এক মাসের জন্য বুক করে নিয়েছি। ১০ শতাংশ ছাড়ও পেয়েছি। রোজ বাড়ির সামনে থেকে বাইকে উঠি। আর অফিসের নিচে গিয়ে নামি। বাস, অটোর জন্য অপেক্ষা করতে হয় না। যানজটের চাপ থাকলেই অলিগলি দিয়ে ঠিক সময়ে অফিসে পৌঁছে যাই। যা বাস, ওলা, উবের বা ট্যাক্সির ক্ষেত্রে সম্ভব নয়। ইকোস্পেসের কর্মী রীতিকা শা’‌র বক্তব্য, ওলা, উবেরের থেকে অনেক বেশি নিরাপদ। রোজ অফিস যাতায়াতের জন্য একেবারে উপযুক্ত। ২০ টাকায় পৌঁছে যাওয়া যায়। কখনও সমস্যা হয়নি। খরচ, সময় দুটোরই সাশ্রয় হয়। মহিলাচালিত স্কুটি প্রশ্নে সল্টলেকের বাসিন্দা অর্চনা মণ্ডলের বক্তব্য, বেশ হয়। বাইক ট্যাক্সিতে পুরুষ চালক থাকায় বসতে একটু অস্বস্তি হয়। সেই জায়গায় মহিলা থাকলে তো খুব ভাল হয়। অনেক নিশ্চিন্ত যাত্রা। কাঁকুড়গাছি, উল্টোডাঙা এলাকায়ও বাইক ট্যাক্সি থাকলে সুবিধে হয়। ওদিকে তো যানজট খুব বেশি।
বাইক ট্যাক্সির যাত্রী–নিরাপত্তা নিয়ে সংস্থার কর্তার বক্তব্য, যাত্রীদের জন্য পরিষ্কার হেলমেট রাখা হয়েছে। হেলমেট পরার আগে যাত্রীদের একটি কাপড়ের টুপিও দেওয়া হয়। গন্তব্যে পৌঁছে ওই টুপি ফেলে দেবেন যাত্রীরা।
 

জনপ্রিয়

Back To Top