দেবাশিস চন্দ: ১৫ এপ্রিল শিল্পী লিওনার্দো দ্য ভিঞ্চির জন্মদিন। ইউনেস্কোর সহযোগী সংস্থা ইন্টারন্যাশনাল অ্যাসোসিয়েশন অফ আর্ট মহান শিল্পীর জন্মদিনটিকে বিশ্ব শিল্পকলা দিবস হিসেবে পালন করার সিদ্ধান্ত নেয় ২০১২–তে। লিওনার্দোর জন্মদিনটিকে বাছা হয় শান্তি, বাক্‌স্বাধীনতা, সহনশীলতা, সৌভ্রাতৃত্ব, সাংস্কৃতিক বহুত্ববাদ এবং অন্যান্য ক্ষেত্রে শিল্পকলার গুরুত্বের প্রতীক হিসেবে। সেই থেকে প্রতি বছর বিভিন্ন দেশে নানা অনুষ্ঠানের মাধ্যমে দিনটি পালিত হয়। শোভাযাত্রা, খোলা আকাশের নীচে প্রদর্শনী, ইনস্টলেশন, আলোচনাসভা, শিল্পকলা সংক্রাম্ত চলচ্চিত্র প্রদর্শন— ঘটনার ঘনঘটা। এমনকী একবার ভেনেজুয়েলাতে ফ্লোরেন্সের অতীত রন্ধনশিল্পকে তুলে আনা হয়েছিল। 
এদেশেও শিল্পীদের উদ্যোগে দিনটি পালিত হচ্ছে। ভারতবর্ষের সাংস্কৃতিক রাজধানী কলকাতাও পিছিয়ে নেই। গত বছর বিশিষ্ট শিল্পী যোগেন চৌধুরীর নেতৃত্বে এক রংদার শোভাযাত্রা বেরিয়েছিল সরকারি চারু ও কারুকলা মহাবিদ্যালয় থেকে অ্যাকাডেমি অফ ফাইন আর্টস পর্যন্ত। এ বছরও সকাল ৭.‌৩০–এ বেরোচ্ছে শোভাযাত্রা। তবে এবার যাত্রাপথ পাল্টেছে। আয়োজক আর্টিস্টস ফোরাম অফ বেঙ্গলের পক্ষে আহ্বায়ক যোগেন চৌধুরী জানালেন, ‘আমাদের সমাজে শিল্পকলার খুবই কোণঠাসা অবস্থা। শিল্পকলা সম্পর্কে সাধারণ লোকের কোনও সচেতনতা নেই। তাই এ বছর আমরা আরও বেশি জনবহুল এলাকার মধ্যে শোভাযাত্রা নিয়ে যেতে চাইছি। ফলে গোলপার্ক থেকে দেশপ্রিয় পার্ক হচ্ছে এবারের যাত্রাপথ।’
বাঙালিদের কাছে এই দিনটির একটা আলাদা গুরুত্ব রয়েছে বাংলা নতুন বছরের প্রথম দিন হিসেবে। ফলে নববর্ষের কথাও মাথায় রেখেছেন উদ্যোক্তারা।
রঙিন মুখোশ, শিল্পীদের আঁকা পোস্টার, প্রতিকৃতিতে সেজে উঠবে এই প্রভাতী শিল্প–শোভাযাত্রা। চাঁদের হাঁট–সহ বিভিন্ন শিল্পী–দলের শিল্পিত ট্যাবলো শোভাযাত্রার যাত্রাপথকে করবে রঙিন। হাতে টানা রিকশা কলকাতার ঐতিহ্যের অঙ্গ। শিল্পীদের তুলির ছোঁয়ায় সেজে ওঠা দশটি রিকশা যেন চলমান ইনস্টলেশন। মহিলা ঢাকিদের ঢাকের ছন্দে রাজপথ হবে মুখরিত। থাকছেন রনপা শিল্পীরা। শিল্পীদের আয়োজিত শোভাযাত্রা। স্বভাবতই প্রতিটি ধাপই শিল্পের ছোঁয়ায় উজ্জ্বল। এক অন্যরকম নান্দনিক শোভাযাত্রার সাক্ষী হতে চলেছে কলকাতা সোমবার সকালে যার পরতে পরতে ইতিহাস, ঐতিহ্য আর আধুনিকতার জলতরঙ্গ। 
ঐতিহ্য আর আধুনিকতার আরেক রামধনু কুমোরটুলিতে। এশিয়ান পেইন্ট শারদ সম্মানের উদ্যোগে এবং ক্রিয়োক্রাফ্টের ব্যবস্থাপনায় বিশ্ব শিল্পকলা দিবস ও নববর্ষ উপলক্ষে আজ, রবিবার শুরু হচ্ছে দু’‌দিনের আর্ট কার্নিভাল ‘রং মাটির পাঁচালি’। শিল্পের ঝরনায় কুমোরটুলির চায়না পাল, মালা পালেদের সঙ্গে হাত মিলিয়েছেন পার্থ দাশগুপ্ত, শমীন্দ্র মজুমদার, সুশান্ত পালেদের মতো আধুনিক শিল্পীরা। আছেন পাভলভ মানসিক হাসপাতালের আবাসিক, কৃষ্ণনগরের মৃৎশিল্পী, পিংলার পটুয়ারাও। 
অন্যদিকে, নতুন বাংলা বছরকে স্বাগত জানাতে বর্ণাঢ্য মঙ্গল শোভাযাত্রার শুরু যাদবপুরের সুকান্ত সেতুর কাছ থেকে। সোমবার সকাল ৮টায়। শেষ ঢাকুরিয়া উড়ালপুলের কাছে।‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌

 

 

 

সেজে উঠেছে কুমোরটুলি।

জনপ্রিয়

Back To Top