আজকাল ওয়েবডেস্ক: শহরে পথ দুর্ঘটনা নিয়ন্ত্রণ করতে মরিয়া হয়ে পড়েছে কলকাতা পুলিস। দেশের মধ্যে এই প্রথমবার কলকাতা পুলিসের উদ্যোগে শহরে বসতে চলেছে পথচারীদের ‘‌নিয়ম’‌ দেওয়ার যন্ত্র। উদাহরণস্বরূপ বলা যেতে পারে, টোল প্লাজা, শপিং মল বা ছোট কোনও পার্কিং এলাকায় যে প্রযুক্তির মাধ্যমে গাড়ি আটকানো হয়, সেরকম প্রযুক্তি পথচারীদের আটকাতে ব্যবহার করবে পুলিস। প্রাথমিকভাবে ১০০০টি যন্ত্র বসানো হবে গোটা শহর জুড়ে। অসাবধানী পথচারীদের শৃঙ্খলা শেখাতে ২৫০টি ক্রসিংয়ে এই যন্ত্র বসতে চলেছে। পথচারীরা নিয়ম ভঙ্গ করলে গ্রেপ্তারও হতে পারেন। সম্প্রতি শহরজুড়ে বেড়ে যাওয়া দুর্ঘটনা রোধ করতে কলকাতা পুলিস এই পদক্ষেপ গ্রহণ করল। 
কলকাতা পুলিস সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রথম তিনটি যন্ত্র বসানো হবে কলকাতার ৩টি গুরুত্বপূর্ণ ক্রসিংয়ে। এক্সাইড মোড়, পার্ক স্ট্রীট–চৌরঙ্গি এবং ডিএল খান রোড–লোয়ার সার্কুলার রোডে এই যন্ত্রগুলি বসিয়ে পরীক্ষা করা হবে। প্রথমের দিকে ৭৫টি গুরুত্বপূর্ণ ক্রসিংয়ে এই যন্ত্র বসানো হলেও পরে তা বাড়িয়ে ২৫০টি ক্রসিংয়ে ১০০০টি যন্ত্র বসবে বলে জানা গিয়েছে।

 
স্বয়ংক্রিয় ‘‌পথচারিদের নির্দেশ’‌ দেওয়ার যন্ত্রগুলির প্রতিটির দাম ৭০ হাজার টাকা। গোটা প্রকল্পের খরচ হচ্ছে ৭ কোটি টাকা। পুলিসের এক শীর্ষ কর্তা বলেন, ‘‌পথচারীদের বাধা দেওয়ার যন্ত্রগুলি ট্রাফিক সিগন্যালের সঙ্গে সংযোগ করা থাকবে। স্বয়ংক্রিয় আয়তক্ষেত্রকার যন্ত্রগুলি সবুজ আলোর পরই খুলে যাবে এবং সেটা লাল আলোর সঙ্গে সঙ্গে বন্ধ হয়ে যাবে।’‌ পুলিসের ওই আধিকারিক জানান, এই যন্ত্র বসানোর আগে রাস্তা এবং ফুটপাথকে আলাদা করতে হবে। তার কাজও ইতিমধ্যে শুরু করে দেওয়া হয়েছে। এই যন্ত্র পরিচালনার জন্য এবং পথচারীদের শৃঙ্খলা শেখানোর জন্য ১০০০ জন সিভিক পুলিসকে দায়িত্ব দেওয়া হবে। কলকাতা পুলিসের ডিসি ট্রাফিক সুমিত কুমার বলেন, ‘‌২০১৭ সালে সবচেয়ে বেশি পথ দুর্ঘটনা ঘটেছে কলকাতাতে। ৩২৯ জনের মধ্যে ১৭২ জন নিহত হয়েছেন। পরিস্থিতি এ বছরেও কিছুই বদল হয়নি, সোমবার পর্যন্ত পথ দুর্ঘটনার বলি হয়েছেন ১৩ থেকে ৩০ জন।’‌ কলকাতা পুলিস মনে করছে, স্বয়ংক্রিয় এই যন্ত্রগুলি কলকাতাবাসীকে একটু হলেও সচেতন করবে।        ‌

‌‌

জনপ্রিয়

Back To Top