Honey Trap: ২ লাখ টাকার গয়না নিয়ে চম্পট, ফেসবুকে প্রেমের ফাঁদ পেতে ধরলেন এই এসআই

আজকাল ওয়েবডেস্ক:‌ প্রেমে পড়ে কেউ সর্বস্বান্ত হয়েছেন। কেউ আবার রাজা। প্রেমের ফাঁদে বহু জওয়ান শত্রুদেশের হাতে তুলে দিয়েছেন গোপন নথি। এবার ঘটল উল্টো। পুলিশ–‘‌প্রেমিকা’‌র পাতা ফাঁদে পা দিয়েই ধরা পড়ে গেলেন ছিনতাইবাজ। লাখ লাখ টাকার গয়না হাতিয়ে পালিয়েছিলেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত আর হজম করতে পারলেন না অঙ্গদ মেহতা থুড়ি হর্ষ ওবেরয় থুড়ি সার্থক রায় বাবরস।
শখ ছিল বিলাসবহুল জীবনযাপনের। সৎ পথে রোজগার করে সেসবের চেষ্টা করেননি অঙ্গদ। বরাবরই হেঁটেছেন উল্টোপথে। এবার তাঁর সেই উল্টোপথ ধরেই তাঁকে গ্রেপ্তার কলকাতা পুলিশের। 
ঘটনার সূত্রপাত অগাস্ট মাসে। গড়িয়াহাট থানায় একটি এফআইআর দায়ের হয়। তাতে বলা হয়, গড়িয়াহাটের এক বিক্রেতার কাছ থেকে প্রায় ১ লক্ষ ৯০ হাজার টাকার গয়না অর্ডার করেন এক ক্রেতা। নাম অঙ্গদ মেহতা। গয়না ডেলিভারি দিতে হবে হিন্দুস্তান পার্কের এক গেস্ট হাউজে। ক্যাশ অন ডেলিভারি হবে। সেই মতো গয়না নিয়ে গেস্ট হাউজে পৌঁছন দোকানের দুই কর্মচারী। তাঁদের কাছ থেকে গয়না নেন ক্রেতা। স্ত্রীকে দেখিয়ে আনার নাম করে বেমালুম উধাও হয়ে যান। ফোন বন্ধ, গেস্ট হাউজের কাছে একটিমাত্র ছবি, এছাড়া আর কোনও সূত্র নেই। 
তদন্তে নেমে পুলিশ বোঝে সোজা আঙুলে ঘি উঠবে না। ফেসবুকে পায়েল শর্মা নামে নকল প্রোফাইল খোলেন সাব–ইন্সপেক্টর দিশা মুখার্জি। বন্ধুত্ব গড়ে তোলেন নকল অঙ্গদ মেহতার সঙ্গে। ততদিনে অন্ধ্র প্রদেশে পালিয়ে গিয়েছেন তিনি। কিছুদিনের মধ্যেই পায়েল শর্মার সঙ্গে দেখা করার জন্য কলকাতায় আসতে রাজি হয়ে যান মেহতা। ৪ সেপ্টেম্বর মিলেনিয়াম পার্কে তাঁর অপেক্ষায় ওৎ পেতে বসেছিলেন দিশা সহ কলকাতা পুলিশের একটি দল। সুযোগ বুঝে চালান করে দেওয়া হয় থানায়।
জেরায় তিনি জানান, ২০১৮ সালে হায়দরাবাদে তিন বছরের জেল হয় তার। তার আগে আন্দামানের রাজধানী পোর্ট ব্লেয়ারেও কিছুদিন জেলে ছিলেন। কিন্তু অঙ্গদ মেহতা নামে নয়। কখনও হর্ষ ওবেরয় কখনও সার্থক রাও বাবরসের নামে। সল্টলেকের এক গেস্ট হাউস থেকে তাঁর ছবি দেওয়া ভুয়ো আধার কার্ড, প্যান কার্ড মিলেছে। দিল্লি, আহমেদাবাদ, লখনউয়ের মতো শহরেও তার নামে এফআইআর দায়ের করা হয়েছে। ভারতের বিভিন্ন পাঁচতারা হোটেলে থেকে বিল না মিটিয়ে পালিয়ে এসেছেন তিনি। এবার বিশ্রাম করবেন কলকাতা পুলিশের হেপাজতে।