অভিজিৎ বসাক

তুঙ্গ ছুঁল উৎসব। নবমী নিশিতে মহানগরীর উত্তর থেকে দক্ষিণ প্রান্ত ভাসল উৎসব মুখর মানুষের ভিড়ে। সোমবার সকাল থেকেই আকাশের মুখভারী। কখনও সখনও রোদের ঝিলিক  ছিল। বৃষ্টির আশঙ্কা ছিল। পুজো প্রেমীরা সে–সব উড়িয়ে রাস্তার দখল নিলেন বেলাবাড়তেই।সময়এগিয়েছে, বেড়ে চলেছে ভিড়। দর্শনার্থীদের দল পাড়ি দিয়েছেন একমণ্ড পথে কে অন্য পুজোমণ্ডপে।কলকাতা থেকে  শহরতলি— সব জায়গায় আনন্দ মুখর মানুষের জটলা।
উৎসবের সময় ভিড় সামাল দিতে, অপ্রীতিকর পরিস্থিতি রুখতে তৎপর পুলিশ প্রশাসন। মোতায়েন ছিল বাড়তি পুলিশ। দুর্গোৎসব উপলক্ষে আলোয় সেজে উঠেছিল মহানগরী। এদিন বিকেল থেকেই মানুষের ঢল কলকাতা এবং আশপাশের পুজোমণ্ডপে। অলিগলি থেকে রাজপথ চলে গেছে পুজো প্রেমীদের দখলে। বারোয়ারি পুজো দেখার পাশাপাশি অনেকে আবার একফাঁকে পৌঁছে গেছেন কলকাতা এবং জেলার বনেদি বাড়ির পুজোতেও। কলকাতার বাগবাজার সর্বজনীন, নাকতলা উদয়ন সঙ্ঘ, টালা পার্ক প্রত্যয়, সুরুচি সঙ্ঘ, ত্রিধারা সম্মিলনী, চেতলা অগ্রণী, একডালিয়া এভারগ্রিনের মতো পুজোতে ভিড়ের চেনা ছবিই দেখা গিয়েছে। মণ্ডপের বাইরে মানুষ আর মানুষের দেখা মিলেছে নলিন সরকার স্ট্রিট, তেলেঙ্গা বাগান, আহিরীটোলা সর্বজনীন, কুমোরটুলি পার্ক, মুদিয়ালি, দেশপ্রিয় পার্ক, বোসপুকুর শীতলামন্দির, সঙ্ঘশ্রী, মহম্মদ আলিপার্ক, শ্রীভূমি, দমদম পার্কের পুজোয়।ম্যাডক্স স্কোয়্যারে কথায়, গানে বন্ধুদের সঙ্গে জমজমাট আড্ডার আসর। তেমনই আড্ডার আসর আবাসন, বনেদি বাড়ির পুজোতেও। হাওড়ার মাকড়দহের ব্যানার্জিপাড়ার  ‘নতুনবাড়িতে ব্যানার্জি পরিবার দুর্গাপুজোর আয়োজন করে আসছেন দীর্ঘদিন। নবমীতে সেখানে হয় কুমারীপুজো। বলি দেওয়ার প্রথা উঠে গেছে দীর্ঘদিন। এখন তার বদলে হয় ফল বলি। মালদা রসিংহাবাদ সর্বজনীন দুর্গোৎসব কমিটি দুঃস্থদের বস্ত্র তুলে দিল। ছিল পাত পেড়ে খাওয়ার আয়োজন।
নবমী মানে উৎসব শেষের বাদ্যি বেজে ওঠা। আর তাইতো উৎসবের আনন্দ চেটে পুটে নিতে এদিন ও রাত জাগছে কলকাতা। উৎসবের শেষ লগ্নে মানুষ বিপুল উৎসাহে পৌঁছে গিয়েছেন কলকাতার একপ্রান্ত থেকে অন্যপ্রান্তে। বিরামহীন সে যাত্রাপথ। এবংযথেষ্ট প্রস্তুত হয়েই।বৃষ্টির আশঙ্কা মাথায় রেখে মানুষের সঙ্গী হয়েছে ছাতা, বর্ষাতি। সময় শেষ হয়ে এল।কিন্তু শেষ হয়ে যায় নিতো! তাই সকলে নেমে পড়েছেন রাস্তায়।
 

জনপ্রিয়

Back To Top