‌‌

অভিজিৎ বসাক
যেন গৃহবন্দি করে রাখার ফন্দি!‌ তবে তা করা গেল কই।‌ মানুষের উৎসাহের কাছে নবমীতে হার মানল গোমড়া আকাশ। সোমবার সকাল থেকেই সে মুখ ভারী করে রেখেছিল। অবশ্য কখনও সখনও রোদের দেখাও মিলেছিল। তবে বৃষ্টির আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যায়নি। এ যেন উৎসবে বাধা দেওয়ার প্রবল অভিপ্রায়। তবে ওই পর্যন্তই। উৎসবমুখর মানুষ যে সব উপেক্ষা করেই রাস্তার দখল নিলেন!‌ দিনভর কলকাতা এবং শহরতলির বাস, ট্রেন, মেট্রোর ভিড়ের ছবি সে কথাই বলে গেল। 
উৎসবের সময় অপ্রীতিকর পরিস্থিতি রুখতে তৎপর পুলিশ–প্রশাসন। মোতায়েন করা হয়েছিল বাড়তি পুলিশ। দুপুর থেকেই মানুষের ঢল কলকাতা এবং আশপাশের পুজো মণ্ডপগুলিতে। বারোয়ারি পুজো দেখার পাশাপাশি অনেকে আবার একফাঁকে পৌঁছে গেছেন কলকাতা এবং জেলার বনেদি বাড়ির পুজোগুলি দেখতে। বাগবাজার সর্বজনীন, নাকতলা উদয়ন সঙ্ঘ, টালা পার্ক প্রত্যয়, সুরুচি সঙ্ঘ, ত্রিধারা সম্মিলনী, চেতলা অগ্রণী, একডালিয়া এভারগ্রিনের মতো পুজোতে ভিড়ের চেনা ছবিই দেখা গিয়েছে। মণ্ডপের বাইরে মানুষ আর মানুষের দেখা মিলেছে নলিন সরকার স্ট্রিট, তেলেঙ্গাবাগান, আহিরীটোলা সর্বজনীন, কুমোরটুলি পার্ক, সঙ্ঘশ্রী, মহম্মদ আলি পার্ক, দমদম পার্কের পুজোয়।  ম্যাডক্স স্কোয়্যারে বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা জমেছে গিটার হাতে। যেমন আড্ডার আসর বসেছে আবাসন, বনেদি বাড়ির পুজোতে। হাওড়ার ব্যানার্জি পাড়ার ব্যানার্জি পরিবার দুর্গা পুজোর আয়োজন করে আসছে দীর্ঘদিন। নবমীতে সেখানে হয় কুমারী পুজো। বলি দেওয়ার প্রথা উঠে গেছে দীর্ঘদিন। এখন তার বদলে হয় ফল বলি। 
নবমী মানে উৎসব শেষ হওয়ার কথা জানান দেওয়া। মানে সময় ফুরিয়ে এল যে। আর তাই উৎসবের শেষ লগ্নে মানুষ বিপুল উৎসাহে পৌঁছে গিয়েছেন কলকাতার এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে। বিরামহীন সে যাত্রা। এবং যথেষ্ট প্রস্তুত হয়েই। বৃষ্টি হতে পারে এটা ধরে নিয়ে ছাতা, বর্ষাতিকে সঙ্গী করেছেন। হোক না রাস্তায় যানজট। এই দারুণ মুহূর্ত তো ছাড়া যায় না।
 

জনপ্রিয়

Back To Top