শিখর কর্মকার: দুর্গাপুজো চার দিনের হলেও বাঙালির মহাষ্টমীর পুজো ঘিরে উন্মাদনা থাকে সবচেয়ে বেশি। অষ্টমীর সকালে পুষ্পাঞ্জলি দেওয়ার জন্য বহু বাঙালি সারা বছর অপেক্ষা করে থাকেন। ভক্তিভরে দেখেন সন্ধিপুজো। অতিমারী করোনার আবহে এই মহাষ্টমীর অঞ্জলি চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে পুজো কর্তাদের কপালে। সংক্রমণ এড়িয়ে দুর্গা পুজোয় অষ্টমীর অঞ্জলি সম্পন্ন করা নিয়ে কঠিন সিদ্ধান্ত নিচ্ছে বিভিন্ন পুজো কমিটি। কলকাতার ঐতিহ্যের পুজোয় প্রতিবছর বহু মানুষ অষ্টমীতে অঞ্জলি দিতে ভিড় জমান। দশমীর পুজো শেষে সিঁদুর খেলায় মেতে ওঠেন মহিলারা। করোনার কারণে এবছর কোনও দর্শকই বাগবাজার সর্বজনীনের মণ্ডপের ভেতর ঢুকতে পারবেন না। মহাষ্টমীর অঞ্জলি হবে ফুল বিহীন। দূরে দাঁড়িয়ে থাকা দর্শকদেরও মাইকে ব্রাহ্মণের মন্ত্রপাঠ শুনে ফুল বিহীন পুষ্পাঞ্জলি উৎসর্গ করতে হবে মা দুর্গার প্রতি। এই পুজোর প্রসিদ্ধ সিঁদুর খেলাও এবছর বাতিল করা হয়েছে। অন্যদিকে দক্ষিণ কলকাতার নামী ক্লাব মুদিয়ালিতে অষ্টমীর অঞ্জলি ও পরবর্তী সময়ে সন্ধিপুজোর জন্য শনিবার ২৪ অক্টোবর সকাল ৮টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত পুজো মণ্ডপে বহিরাগতের প্রবেশ সম্পূর্ণ নিষেধ ঘোষণা করেছে। পুজো পর্ব মেটার পর মণ্ডপ জীবাণুমুক্ত করে দর্শকদের প্রবেশাধিকার দেওয়া হবে। দশমীর সিঁদুর খেলাতেও এখানে দলবেঁধে অংশ নেওয়া যাবে না। একজন সিঁদুর খেলার পর সেই সিঁদুর সংগ্রহ করবেন পাড়ার অন্য বিবাহিত মহিলারা। সিঁদুর খেলা এ বছরের জন্য বন্ধ রেখেছে সুরুচি সঙ্ঘও। মহাষ্টমী পুষ্পাঞ্জলি শুধুমাত্র ক্লাব সদস্যরাই দিতে পারবেন বলে ক্লাবের সভাপতি ও রাজ্যের মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস জানিয়েছেন। এই পুষ্পাঞ্জলিও হবে কয়েকটি দফায় সময়সূচি মেনে। দশমীতে শুধুমাত্র বরণ করা হবে মা দুর্গাকে। নিজেদের আনা ফুলে শিবমন্দিরে মহাষ্টমীতে পুষ্পাঞ্জলি দিতে পারবেন শুধুমাত্র পাড়ার মানুষ। পুষ্পাঞ্জলির ফুল ছোড়া যাবে না। নির্দিষ্ট পাত্রে সংগ্রহ করে তা অর্পণ করা হবে দেবী দুর্গাকে। মাইকে মন্ত্রপাঠ শুনে বাড়িতে বসে অঞ্জলি দেবেন পাড়ার বয়স্ক মানুষজন। এখানে এবার দলবেঁধে সিঁদুর খেলাও নিষেধ। ভিড় এড়াতে এবার অষ্টমীর পুষ্পাঞ্জলির জন্য টোকেনের ব্যবস্থা করেছে টালা বারোয়ারি। সেই টোকেন লেখা সময় অনুযায়ী পাড়ার লোকদের পুজো মণ্ডপে হাজির হয়ে অঞ্জলি দিতে হবে। সকলকে ফুলও আনতে হবে বাড়ি থেকে। অষ্টমীর পুষ্পাঞ্জলি কিংবা দশমীর সিঁদুর খেলা নিয়ে এখন সিদ্ধান্ত নিতে পারেনি উত্তর কলকাতার নামী ক্লাব আহিরীটোলা সর্বজনীন। দমদম পার্ক ভারতচক্র সামাজিক দূরত্ব মেনে অষ্টমীর পুষ্পাঞ্জলির ব্যবস্থা করছে। দশমীতে একসঙ্গে ১০ জনের বেশি সিঁদুর খেলায় অংশ নিতে পারবেন না এখানে।‌‌         

জনপ্রিয়

Back To Top