তারিক হাসান: প্রবল বৃষ্টিতে শুক্রবার রাতে হোটেলে আটকে পড়েছিলেন। রাতের খাবার খাওয়া হয়নি। গভীর রাতে বৃষ্টি একটু ধরে আসতে নিউ মার্কেট এলাকার হোটেল থেকে খাবারের খোঁজে বেরিয়েছিলেন তিন বন্ধু। খাবার না পেয়ে ফিরে যাচ্ছিলেন হোটেলে। আচমকা বৃষ্টি শুরু হওয়ায় দাঁড়িয়ে পড়েছিলেন শেক্সপিয়র সরণি ও লাউডন স্ট্রিটের সংযোগস্থলে পুলিশ কিয়স্কের পেছনের ফুটপাথে। আর তারপর রাত পৌনে ২টো নাগাদ দ্রুতগতিতে ছুটে আসা জাগুয়ার অন্য একটি গাড়িতে ধাক্কা মেরে পিষে দেয় তাঁদের। থেমে গেল তরুণ উদ্যোগপতি, ফারহানা ইসলাম তানিয়ার জীবন।
বছর তিরিশের তানিয়া বাংলাদেশের বেসরকারি সিটি ব্যাঙ্কের অ্যাসিস্ট্যান্ট ভাইস প্রেসিডেন্ট পদে কর্মরত ছিলেন। আদতে কুষ্ঠিয়ার বাসিন্দা তানিয়া কর্মসূত্রে থাকতেন ঢাকার মহম্মদপুরের লালমাটিয়ায়। অনেক দিন ধরেই ইচ্ছে ছিল কলকাতায় বেড়াতে আসবেন। ইদে ছুটি পাওয়ায় ১৪ আগস্ট কলকাতায় আসেন। ঘোরাঘুরির পাশাপাশি ডাক্তারও দেখান। রবিবার তাঁদের বাংলাদেশে ফিরে যাওয়ার কথা ছিল।
ঝিনাইদহের কাজি মহম্মদ মইনুল ইসলাম বাংলাদেশের গ্রামীণ ফোনে কর্মরত ছিলেন। চোখ পরীক্ষা করাতে তিনি এসেছিলেন কলকাতায়। চিকিৎসা হচ্ছিল শঙ্কর নেত্রালয়ে। সঙ্গে ছিলেন তাঁর তুতো ভাই শফি রহমতুল্লাহ জিহাদ।
জিহাদ জানিয়েছেন, প্রবল বৃষ্টির কারণে শুক্রবার রাতে খাবার খেতে পারেননি। বৃষ্টি একটু কমায় তাঁরা খেতে বের হয়েছিলেন। ফেরার পথে আবার বৃষ্টি শুরু হওয়ায় তাঁরা পুলিশ কিয়স্কের আড়ালে দাঁড়িয়েছিলেন। উব্‌র কিংবা ট্যাক্সির খোঁজ করছিলেন। তখনই বেপরোয়া গাতিতে এসে জাগুয়ারটি মার্সিডিজে ধাক্কা মারে। তারপর সেটি প্রবল গতিতে তানিয়াদের ধাক্কা মারে। সব শেষ হয়ে যায়।
শনিবার ময়নাতদন্তের পর শুরু হয় তানিয়া ও মইনুলের দেহ বাংলাদেশে ফেরানোর আইনি প্রক্রিয়া। কলকাতার বাংলাদেশ উপ–দূতাবাসের হেড অফ চান্সেরি বি এম জামাল হোসেন জানিয়েছেন, দু’‌জনের মৃতদেহ বাংলাদেশে দ্রুত ফেরাতে দ্রুত ব্যবস্থা করা হয়েছে।
বাংলাদেশ উপ–দূতাবাসের কাউন্সেলর (কন্স্যুলার) মহম্মদ বশিরউদ্দিন জানিয়েছেন, দেহ ফেরাতে হলে আইনি প্রক্রিয়া বেশ দীর্ঘ। ময়নাতদন্তের পর কলকাতা পুলিশের কাছ থেকে প্রাথমিক ছাড়পত্র পাওয়ার পর বাংলাদেশ উপ–দূতাবাস থেকে ছাড়পত্র (‌নো অবজেকশন সার্টিফিকেট)‌ দেওয়া হয়। তারপর ফরেনার রিজিওনাল রেজিস্ট্রেশন অফিসেস (‌এফআরআরও)‌ থেকে এক দফা ছাড়পত্র নেওয়া। তারপর কলকাতা পুলিশের কাছ থেকে চূড়ান্ত ছাড়পত্র পেয়ে দেহ বাংলাদেশে নিয়ে যাওয়ার অনুমতি। সব আইনি প্রক্রিয়া মিটিয়ে দু’‌জনের মৃতদেহ রবিবার ভোরেই পেট্রাপোলের উদ্দেশে রওনা হবে। সীমান্তে আইনি প্রক্রিয়ার পর তাঁদের দেহ পরিবারের সদস্যদের হাতে তুলে দেওয়া হবে।‌‌‌

জনপ্রিয়

Back To Top