‌কাকলি মুখোপাধ্যায়: শহরে করোনা ‘‌সুপার স্প্রেডার’–‌এর‌ খোঁজ শুরু করেছে কলকাতা পুরসভা। র‌্যাপিড অ্যান্টিজেন টেস্টের মাধ্যমে সেই তথ্য সামনে এসেছে। পুরসভা সূত্রে জানা গেছে, শনিবার পর্যন্ত অ্যান্টিজেন পরীক্ষার রিপোর্ট অনুযায়ী প্রতি ১০ জনে একজন সুপার স্প্রেডার রয়েছেন। 
করোনা সংক্রমণ ঠেকাতে সুপার স্প্রেডারদের চিহ্নিত করতেই এই পরীক্ষার উদ্যোগী হয় পুর প্রশাসন। পুরসভার একাংশের বক্তব্য, সংক্রমণ রুখতে সোয়াব টেস্ট, জীবাণুমুক্ত করা, জনসচেতনতা সব ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। কিন্তু তারপরেও সংক্রমণ ছড়ানোয় নিয়ন্ত্রণ আনা যায়নি। তখনই সুপার স্প্রেডার বিষয়টি আলোচনায় আসে। এই সুপার স্প্রেডারদের শনাক্ত করতে শুরু হয়েছে র‌্যাপিড অ্যান্টিজেন টেস্ট। এই টেস্টের রিপোর্টে দেখা গেছে, কলকাতায় প্রতি ১০ জনে একজন ‘‌সুপার স্প্রেডার’‌। 
গত বৃহস্পতিবার ৮২ নম্বর ওয়ার্ড থেকে এই পরীক্ষা শুরু হয়। গত কয়েক দিনে ১১, ৫৭ নম্বর ওয়ার্ড–‌সহ বরো ৩–‌এর বিভিন্ন এলাকায় হয় পরীক্ষা। ১০৯ নম্বর ওয়ার্ডের কয়েকটি এলাকায় এই পরীক্ষা হয়। রবিবার ৩ নম্বর ওয়ার্ডে হয়। এখন প্রশ্ন, সুপার স্প্রেডার কারা। কীভাবেই বা তাঁদের চেনা সম্ভব। স্বাস্থ্য আধিকারিকদের কথায়, যাঁরা কয়েক ঘণ্টায় অনেক বেশি মানুষের সংযোগে আসেন। যেমন বাজারে বিক্রেতা, অটোচালক, রিকশাচালক।  তাঁরা ২ ঘণ্টায় প্রায় ২০–‌২৫ জনের সংযোগে আসেন। যাদের মধ্যে অন্যান্য আর পাঁচটা মানুষের তুলনায় অন্যকে সংক্রমিত করে তোলার ক্ষমতা বেশি। ডাক্তারি পরিভাষায় ২০ শতাংশ রোগী ৮০ শতাংশ রোগ ছড়ানোর জন্য দায়ী হতে পারে। সেই ২০ শতাংশ রোগী হলেন সুপার স্প্রেডার। তবে তারা কিন্তু নিজেরাও সেটা জানেন না। দিল্লিতে করোনা যুদ্ধের সময় এ বিষয়টি নজরে আসে। সংক্রমণ রুখতে  সুপার স্প্রেডারদের  চিহ্নিত করতে অ্যান্টিজেন টেস্ট শুরু করে। ফল মেলায় এবার কলকাতায় এই পরীক্ষা করা হচ্ছে। শহরের বিভিন্ন ওয়ার্ডে এবং সংক্রমিত এলাকার বাজারে বিক্রেতা, অটোচালক এবং রিকশাচালকদের মধ্যে সন্দেহভাজনদের ওপর অ্যান্টিজেন টেস্ট করা হচ্ছে। পজিটিভ হলে যথাযথ ব্যবস্থা নিচ্ছে পুর প্রশাসন। কিন্তু, কারও উপসর্গ রয়েছে, অথচ রিপোর্ট নেগেটিভ, তাঁদের পুনরায় পুরনো নিয়মে অর্থাৎ লালারসের নমুনা পরীক্ষা করা হচ্ছে। পুরসভা সূত্রের খবর, গত শনিবার পর্যন্ত এই টেস্টের সংখ্যা ৪৪৬। যার মধ্যে পজিটিভ ৪১ জন। আর ৭০ জনের লালারস পরীক্ষা করা হয়েছে। রবিবার ফের নতুন ৬০ জনের অ্যান্টিজেন টেস্ট হয়। সেখানে মাত্র ৪ জন পজিটিভ। সবমিলিয়ে এখনও পর্যন্ত শহরে ৫০৬ জনের টেস্ট হয়েছে। হিসেব বলছে, শনিবার পর্যন্ত যেখানে প্রতি ১০ জনে একজন পজিটিভ মিলছিল, সেখানে রবিবার সংখ্যাটা দাঁড়িয়েছে ১২ জনে একজন। পরীক্ষার ভিত্তিতে এই সংখ্যার রদবদল হতে পারে।

জনপ্রিয়

Back To Top