‌সব্যসাচী সরকার
বেঙ্গালুরুতে রবিবার দুপুরে নিজের ফ্ল্যাট থেকে বেরিয়ে স্ত্রী শিল্পীর ফ্ল্যাটে গিয়েছিলেন অমিত আগরওয়াল। তখন ছেলেকে সঙ্গে নিয়ে যাননি। যদিও স্ত্রীর সঙ্গে চুক্তি ছিল সপ্তাহে একদিন রবিবার ছেলে থাকবে অমিতের কাছে। স্ত্রীকে ফাঁস দিয়ে খুন করার পর ছেলেকে নিয়ে কলকাতায় ফেরেন অমিত। এক বন্ধুর কাছে ছেলেকে দিয়ে বলেন, দাদার বাড়ি পৌঁছে দিতে। সল্টলেকে তাঁর কিছু কাজ আছে, তাই যেতে হবে।
সেদিন দুপুরে, সল্টলেকে না গিয়ে সোজা এসে শ্বশুরের কিনে দেওয়া মানিকতলার ফ্ল্যাটে ওঠেন। এই ফ্ল্যাটের চাবি অমিতের কাছেই থাকত। পুলিশ জানিয়েছে, ওই ফ্ল্যাটেই সেভেন মিলিমিটার অটোমেটিক পিস্তল, গুলিভর্তি ম্যাগাজিন এবং ডায়েরি— সবই রেখেছিল। ফ্ল্যাটের ড্রয়ার থেকে পিস্তল নিয়ে তাতে আলাদা ম্যাগাজিন ভরেন। সেফটি ক্যাচ লাগিয়ে তা ল্যাপটপের ব্যাগে ভরে নেন। দীর্ঘদিন ধরে লেখা ডায়েরিটিও সঙ্গে নিয়ে যান। তদন্তে জানা গেছে, মানিকতলা থেকে কাঁকুড়গাছিতে শ্বশুরের ফ্ল্যাটে আসার আগে কোনও একটি জায়গায় তিনি ঘুরে এসেছিলেন। কোথায় গিয়েছিলেন, তা দেখছে পুলিশ। দু’‌বার অ্যাপ ক্যাব ভাড়া করেছিলেন।
মানিকতলার ফ্ল্যাট থেকে বেরোনোর আগে ল্যাপটপ থেকে কয়েকজন বন্ধুকে অমিত মেল করেছিলেন। সেই মেলগুলির বিষয়বস্তু অবশ্য এখন খতিয়ে দেখছে পুলিশ। মানিকতলা মেন রোডের ফ্ল্যাট ছিল কলকাতায় অমিতের ঠিকানা। দেখা যাচ্ছে, তাঁদের পরিবারের অন্তত ৪ থেকে ৫টি ফ্ল্যাট রয়েছে। খুন হওয়া শিল্পীর বাবা সুভাষ ঢনঢনিয়া ফুলবাগান থানায় এফআইআর করেছেন। সেই বক্তব্য দেখছে পুলিশ।
বুধবার কলকাতা পুলিশের যুগ্ম নগরপাল (‌অর্গানাইজেশন)‌ নীলু শেরপা চক্রবর্তী এবং ডিসি (‌ইস্টার্ন সুবার্বান ডিভিশন)‌ অজয় প্রসাদ মানিকতলার ফ্ল্যাটে গিয়ে গোটা বিষয়টা পুনর্নির্মাণ করেন। কোন পথে এসে অমিত কাঁকুড়গাছি গিয়েছিলেন, তা দেখা হয়।
তবে এখনও পর্যন্ত অমিত ওই পিস্তল কোথা থেকে সংগ্রহ করেছিলেন, তা জানা যায়নি। সম্ভবত ওই পিস্তলটি অনেকদিন আগেই তিনি কিনেছিলেন। কেননা তাঁর ল্যাপটপ থেকে অটোমেটিক পিস্তলে গুলি ভরা এবং তা কীভাবে চালাতে হয়, তা নিয়ে অনেক তথ্যপূর্ণ কাগজপত্র পাওয়া গেছে। অমিতের মোবাইলের কললিস্টে ঝাড়খণ্ড, বিহারের অনেকের নম্বর মিলেছে। সম্ভবত এরা সবাই অমিতের ক্লায়েন্ট। মেধাবী ছাত্র হিসেবে বরাবরই সুনামী ছিলেন অমিত আগরওয়াল। তাঁর পেশাতেও যথেষ্ট সফল। সে কারণেই বিদেশে চাকরির ডাক পেয়েছিলেন কয়েকবার। কিন্তু সব কিছুই থমকে গিয়েছিল স্ত্রী শিল্পীর সঙ্গে সম্পর্কের টানাপোড়েনে। অমিত প্রায়ই এই সমস্ত সাংসারিক সমস্যা নিয়ে শ্বশুর–শাশুড়ির সঙ্গে কথা বলতেন। কিন্তু শিল্পীর সঙ্গে ডিভোর্সের ব্যাপারে তাঁরা কোনও সদুত্তর দিতে পারছিলেন না। প্রায়ই তর্কে জড়িয়ে পড়তেন অমিত। এবং শাশুড়ি, শ্বশুর ও শ্যালক, এঁরা ডিভোর্সের ব্যাপারে উদ্যোগী হচ্ছেন না বলেই তিনি ডিভোর্স পাচ্ছেন না, এমন একটা ধারণা হয়েছিল তাঁর।
পুলিশ জানিয়েছে, অমিতের ছোড়া গুলি সেদিন শাশুড়ি ললিতার মাথায় গিয়ে লেগেছিল। অমিত নিজের কপালে পিস্তল ঠেকিয়ে গুলি করেছিলেন। বুলেট মাথা ফুঁড়ে বেরিয়ে গিয়েছিল।‌

জনপ্রিয়

Back To Top