রিনা ভট্টাচার্য: রাজভবন থেকে ‘‌স্ট্যান্ড রিলিজ’‌ হওয়ার পর দুই আধিকারিক এবং এক কর্মী নবান্নে তাঁদের পুরনো দপ্তরে ফিরে গেলেন। কিন্তু বিপাকে পড়লেন রাজভবনের তৈরি স্ট্যান্ড রিলিজ তালিকার এক আধিকারিক এবং এক কর্মী। হাউসকিপার মৌ মিত্র সরকার ও সাফাইকর্মী পার্থপ্রতিম ঘোষ রাজভবনের নিজস্ব কর্মী। বাকিরা নিয়োগকারী দপ্তরে ফিরে গেলেও এঁদের ফেরার কোনও জায়গা নেই। তাঁরা স্বরাষ্ট্র দপ্তরের সঙ্গে যোগাযোগ করলেও তাঁরা কোথায় যোগ দেবেন, সে–ব্যাপারে এখনও কিছু জানানো হয়নি। স্ট্যান্ড রিলিজের অর্থ, কোনও নির্দিষ্ট পদে বদলি হওয়ার আগে তাঁদের এখনকার দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া। স্বরাষ্ট্র দপ্তর সূত্রে খবর, মুখ্যমন্ত্রীর সচিবালয়কে এ ব্যাপারে জানানো হয়েছে। তবে দপ্তরের বক্তব্য, এই দু’‌জন রাজভবন থেকে সরাসরি নিয়োগপত্র পেয়েছিলেন। তাই তাঁদের অন্য কোনও দপ্তরে সরাসরি কাজে যোগ দেওয়ার কোনও সুযোগ নেই। তাঁদের একমাত্র ডেপুটেশনে নেওয়া যেতে পারে। তবে রাজভবন সে–ব্যাপার কিছু জানায়নি। রাজ্য সরকারের তরফে তাঁদের ফেরত না পাঠানোর জন্য লিখিতভাবে জানানো হলেও মঙ্গলবার রাজভবন থেকে তাদের স্ট্যান্ড রিলিজ দিয়ে দেওয়া হয়। তাঁরা কেউই যাতে রাজভবনে না আসেন, সেই নির্দেশও দেওয়া হয়েছে। ফলে ওই দু’‌জনের চাকরির ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। তাঁরা কোথায় কাজ করবেন, কোন দপ্তরে যোগ দেবেন, বেতন কোথা থেকে পাবেন, তা জানতে একবার নবান্ন একবার রাজভবন দৌড়ে বেড়াচ্ছেন।
মঙ্গলবার রাজ্যপালের প্রেস সচিব মানব বন্দ্যোপাধ্যায়, বিশেষ সচিব কুমারজীব চক্রবর্তী এবং তাঁর ব্যক্তিগত সচিব প্রশান্ত সরকার, হাউসকিপার মৌ মিত্র সরকার ও সাফাইকর্মী পার্থপ্রতিম ঘোষকে স্ট্যান্ড রিলিজ করা হয়েছে। মানববাবু তথ্য ও সংস্কৃতি দপ্তরে ফিরে আসছেন। কুমারজীববাবু কর্মিবর্গ ও প্রশাসনিক সংস্কার দপ্তরে, প্রশান্তবাবু অর্থ দপ্তরে রিপোর্ট করেছেন বলে নবান্ন সূত্রে জানা গিয়েছে। রাজভবন থেকে রাজ্য সরকারকে ১৫ সেপ্টেম্বরের মধ্যে এঁদের সরিয়ে নিয়ে ওই পদে নতুন আধিকারিক, কর্মী পাঠানোর কথা বলা হয়েছিল। এই ৫ জনকে তাঁদের নিজস্ব দপ্তরে ফেরত নিয়ে নেওয়ার কথা জানানো হয়েছিল। দিন কয়েক আগে রাজ্যপাল জগদীপ ধনকড় রাজ্য সরকারকে চিঠি দিয়ে এই ৫ আধিকারিক এবং কর্মীকে সরিয়ে নিতে বলেছিলেন। প্রশাসনের এক আধিকারিকের বক্তব্য, এভাবে স্ট্যান্ড রিলিজ দেওয়া যায় না। আগে কখনও এমন হয়েছে বলে শোনা যায়নি।‌‌

জনপ্রিয়

Back To Top