দীপঙ্কর নন্দী: ‘‌সাবধানের মার নেই। মণ্ডপে ভিড় করতে দেবেন না।’‌ পুজো কমিটির উদ্যোক্তাদের বারবার মনে করিয়ে দিলেন মুখ্যমন্ত্রী। দক্ষিণ কলকাতার ১৬টি মণ্ডপে গিয়ে শনিবার দুর্গাপুজোর উদ্বোধন করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি। এদিনও এঁকেছেন ছবি— কোথাও গাছ, কোথাও করোনা–‌অসুর বধের। 
একডালিয়া এভারগ্রিন ক্লাবে নির্ধারিত সময়ের আগেই গিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। ক্লাবের ভেতরে তৈরি হয়ে বসেছিলেন সুব্রত মুখার্জি, তাঁর স্ত্রী ছন্দবাণী এবং স্বপন মহাপাত্র। দৌড়ে এসে ক্লাবের একজন বলল, দাদা, মুখ্যমন্ত্রী এসে গেছেন। ক্লাব থেকে বেরিয়ে এসে সকলে স্বাগত জানালেন মুখ্যমন্ত্রীকে। স্বপন মহাপাত্রকে বলেন, ‘‌আগে এসে কেমন দিলাম?‌’‌ সকলে মিলে পুজোমণ্ডপে ঢুকলেন। সনাতন রুদ্রপালের সাবেকি মূর্তি দেখে অবাক মুখ্যমন্ত্রী। তিনি দুর্গার পায়ে ফুল দিলেন। শাড়ি দিলেন। মণ্ডপ ঘুরে ঘুরে দেখলেন। বললেন, ‘‌খুব ভাল হয়েছে।’‌ একডালিয়া এভারগ্রিনের মণ্ডপের ভেতর পুরোটাই এই কোভিড পরিস্থিতির জন্য স্যানিটাইজ করা হয়েছে। যোধপুর থেকে আনা অতবড় ঝাড় দেখে মুগ্ধ মুখ্যমন্ত্রী। সুব্রত বলেন, ‘‌৭৮ বছরে পড়ল এই পুজো।’‌ এরপর মুখ্যমন্ত্রী চলে যান কলকাতার অন্যান্য মণ্ডপে।
উদ্বোধন শেষে ফেসবুকে মুখ্যমন্ত্রী লিখেছেন, ‘‌করোনা পরিস্থিতিতে সবরকম সতর্কতা অবলম্বন করে আসুন বাংলার মঙ্গল কামনা করি।’‌ প্রতিটি মণ্ডপে উদ্বোধন করার আগে, নিজের হাত স্যানিটাইজ করে বুঝিয়ে দিয়েছেন করোনা এখনও বাংলার মাটি থেকে যায়নি। উৎসব পালনের সঙ্গে সঙ্গে যে সব বিধিনিষেধ র‌য়েছে, সেগুলো পালন করতে হবে তারও ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি। তিনি লিখেছেন, ‘‌মা দুর্গার আগমনে বাংলার ঘরে ঘরে মঙ্গলালোক দুলে উঠুক। মানুষের মুখের হাসিতে ভরে যাক ভোরের শিউলি। কাশফুলের দোলায়, উৎসবের আনন্দে দুলে উঠেছে সকলের হৃদয়।’‌ 
এদিন ত্রিধারা সম্মিলনী ও সমাজসেবীতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী ইজেলে ছবি আঁকেন। ত্রিধারায় গিয়ে গাছ আঁকেন। সমাজসেবীতে গিয়ে তিনি আঁকেন মা করোনা–‌অসুরকে বধ করছেন। এদিন মুখ্যমন্ত্রী যান মুক্তদল, সঙ্ঘশ্রী, বাদামতলা আষাঢ় সঙ্ঘ, ৬৬–এর পল্লী, মুদিয়ালি, শিবমন্দির, সমাজসেবী, হিন্দুস্তান পার্ক, বালিগঞ্জ কালচারাল, সিঙ্ঘিপার্ক, ফাল্গুনী সঙ্ঘ, যোধপুর ৯৫ পল্লী, বাবুবাগান, সেলিমপুর সর্বজনীনে। যোধপুর ৯৫ পল্লীর উদ্বোধনে ছিলেন ওয়ার্ড কো–অর্ডিনেটর রতন দে।
প্রতিটি মণ্ডপে গিয়ে উদ্যোক্তাদের মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘‌এবার পরিস্থিতি অন্যরকম। সাবধানের মার নেই। মাস্ক, স্যানিটাইজার নিয়ে ঢুকবেন। মণ্ডপে ভিড় করতে দেবেন না।’‌ ক্লাব কর্মকর্তাদের মধ্যে অধিকাংশেরই ছিল মাথায় ক্যাপ, মাস্ক, স্যানিটাইজার। কোথাও কোনও চিৎকার–চেঁচামেচি নেই। মণ্ডপ, প্রতিমার প্রশংসা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। শিল্পীদের কাজের তারিফ করেছেন। এই কোভিড পরিস্থিতির মধ্যেও উত্তর, দক্ষিণ কলকাতায় বহু পুজো উদ্বোধন করেছেন। যেখানে যেখানে তিনি যেতে পারেননি, সেখানে শুভেচ্ছাবার্তা পাঠিয়েছেন। আজ রবিবার, বাড়িতেই থাকবেন মুখ্যমন্ত্রী। দেবীপক্ষ শুরু হয়ে গেছে। মণ্ডপে মণ্ডপে শনিবার থেকে ভিড় হতে থাকে। ক্লাবে বসে সুব্রত মুখার্জি বলছিলেন, ‘‌প্রতিমা আছে, মণ্ডপ আছে। সেই উদ্দীপনা নেই।’‌

জনপ্রিয়

Back To Top