বিভাস ভট্টাচার্য: পুজোর পুরোটাই শিশুদের তৈরি। প্যান্ডেল থেকে প্রতিমা বা থিম সং থেকে চণ্ডীপাঠ। সবই করছে ছোটরা। মেঘদূতম ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে। চেতলায় ১০ নম্বর পরমহংস দেব রোডে হবে এই পুজো। মেঘদূতমের পক্ষে স্বগুণা মুখার্জি জানিয়েছেন, করোনা এবং আমফানের সময় রাজ্যের বিভিন্ন এলাকায় ত্রাণ বিলি করতে গিয়ে এই বিষয়টা মাথায় আসে। যে সমস্ত এলাকায় ত্রাণ দিতে গেছিলেন সেখানকার বাচ্চারা তাঁর কাছে জানতে চায়, এবারের পুজোতে কী হবে? স্বগুণা বলেন, কলা ও সংস্কৃতির এই সেরা উৎসবকে বিশ্বের নানা জায়গায় তাঁরা তুলে ধরেন। এই বাচ্চাদের এরকম অসহায় জিজ্ঞাসা শুনে মনে হল এরকম একটা কিছু করা দরকার, যেখানে তারাই হয়ে উঠবে মূল কারিগর। 
তাঁর কথায়, উত্তর ২৪ পরগনার ভাণ্ডারখালির শিশুদের বলা হয় দেড় ফুটের একটা প্রতিমা তৈরি করতে। সোনাগাছিতে বসবাসকারী বাচ্চারা বানিয়েছে ৪ ফুট লম্বা ও ৪ ফুট চওড়ার একটা বাঁখারির প্যান্ডেল। মথুরাপুরের শিশুরা বানাচ্ছে শোলার ফুল। থিম সং গেয়েছে রবীন্দ্রসদনে ফুটপাতবাসী শিশুশিল্পী পায়েল। পুজোর এই থিম সংটা  মেঘদূতম তাদের নিজেদের ওয়েবসাইটে তুলে দেবে। পুজো চলাকালীন একদিন হবে চণ্ডীপাঠ। যা করবে সোনারপুরের একটি শিশু। সমস্ত এই শিল্পীদের বয়স ১৪ বছরের মধ্যে। বৃহস্পতিবার পুজোর জায়গায় বাঁখারির প্যান্ডেলটাকে নিয়ে আসা হয়েছে। করোনা পরিস্থিতির জন্য একসঙ্গে সবাইকে ডাকা হচ্ছে না। ধাপে ধাপে তাদের এবং তাদের তৈরি শিল্পকর্ম পুজোর জায়গায় হাজির করানো হচ্ছে। এ বছর পুজোর থিম ‘‌চালচিত্র’‌। পটের ওপর চাল দিয়ে যা ফুটিয়ে তুলছে যাদবপুরের একটি বস্তি এলাকার বাচ্চারা। তাদের এই কাজে সাহায্য করছেন শিল্পী পঞ্চানন মণ্ডল। পঞ্চমীতেই শেষ হবে পুজোর প্রস্তুতি।

জনপ্রিয়

Back To Top