‘ভূতুড়ে’ গোয়েন্দাদের সঙ্গে হাত মেলাল কলকাতা পুলিশ! শুরু ‘ভয়কে জয়’ কর্মসূচি  

আজকাল ওয়েবডেস্ক: ভূতের গোয়েন্দাদের সঙ্গে হাত মেলাল কলকাতা পুলিশ!। নিজেদের অতিপ্রাকৃত বিষয়ের গোয়েন্দা হিসেবে পরিচয় দেন দেবরাজ সান্যাল এবং তাঁর সহযোগীরা। সেই ২০১০ সাল থেকে ভূত বা যে কোনও আধিভৌতিক বিষয়ে মিথগুলোকে যুক্তি দিয়ে ব্যাখ্যা করার কাজ চালাচ্ছেন তাঁরা। দেবরাজদের সঙ্গে হাত মিলিয়ে তাদেরই ‘রাইজ অ্যাবাভ ফিয়ার’ কর্মসূচি চালাবে কলকাতা পুলিশ। 
সাধারণ বুদ্ধিতে যার ব্যাখ্যা পাওয়া যায় না এমন অনেক বিষয় নিয়েই কাজ করে আসছেন দেবরাজ এবং অধ্যাপক শুভ্রজ্যোতি রায়। দলে আছেন দেবরাজের স্ত্রী ইশিতা, মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার অরিন্দম ঘোষাল এবং ফিজিশিয়ান উজ্জ্বল গুপ্ত। ভূতের উৎপাত কিংবা এ ধরনের ঘটনার কথা যেখানেই শোনা যায়, সেখানেই ছোটে দেবরাজের দল। পরীক্ষা নিরীক্ষা করে বিষয়গুলির বিজ্ঞানভিত্তিক ব্যাখ্যা দেন তাঁরা। একমাত্র দার্জিলিংয়ের ডাউহিলের ঘটনায় তাঁরা নিজেরাই কোনও যুক্তিগ্রাহ্য উত্তর খুঁজে পাননি। সেই ডাউহিলের ভিডিওই চোখে পড়েছিল কলকাতা পুলিশের। দেবরাজদের কাছে তাঁরা গোটা ঘটনা শুনতে চান। 
দেবরাজ জানিয়েছেন, ‘২০০-র বেশি কেসের তদন্ত করেছি আমরা। ৯৯ শতাংশেরও বেশি ক্ষেত্রে মানসিক অসুস্থতার ঘটনা। একমাত্র ডাউহিলের ক্ষেত্রে কোনও বিশ্বাসযোগ্য ব্যাখ্যা খুঁজে পাইনি।’ 
কলকাতা পুলিশের কানেও এমন ধরনের বহু ঘটনা এসেছে যার সমাধান করা যায়নি। এর মধ্যে হেরিটেজ ভবনে জোড়াবাগান ট্রাফিক গার্ডের বিষয়টির তদন্তভার দেবরাজের দলের হাতে তুলে দিয়েছিল কলকাতা পুলিশ। ওই ট্রাফিক গার্ড সফরে গিয়ে অতিরিক্ত সিপি (IV) তন্ময় রায়চৌধুরী জানতে পারেন, ভূতের ভয়ে ওই ভবন থেকে বদলি নিয়েছিলেন এক পুলিশকর্মী। অনেকেই অভিযোগ করেন, ট্রাফিক গার্ড বিল্ডিংটির দোতলায় ভূত আছে। কখনও রাত ২টোয় মাথায় কেউ গাঁট্টা দেয়, আবার বুক এমন ভারী হয়ে আসে যেন কেউ বুকের ওপর চেপে বসেছে। এক পুলিশকর্মী বলেছিলেন, তিনি আচমকাই রাতে দেখেন, তাঁর পাশে একটি শিশু শুয়ে আছে। 
দেবরাজ সান্যাল এবং তাঁর দল জোড়াবাগান ট্রাফিক গার্ডে যান। সন্ধে ৭টা থেকে ভোর ৪টে পর্যন্ত দোতলায় একা বসেছিলেন দেবরাজ, কিন্তু কিছু টের পাননি। তিনি বলেন, ‘আমরা প্রথমে এই সব অভিজ্ঞতার নেপথ্যে সাধারণ কারণ খোঁজার চেষ্টা করি। অনেকক্ষেত্রে বিষয়টা হয় মানসিক, আবার ওই জায়গায় কোনও দূষিত বায়ু কিংবা বিদ্যুত-চৌম্বকীয় তেজস্ক্রিয়তা থেকেও এরকম হতে পারে। জোড়াবাগান বিল্ডিংয়ের ক্ষেত্রে দ্বিতীয়টিই কারণ। ভবনের ছাদে একটি টেলিকম টাওয়ার রয়েছে এবং দোতলায় তেজস্ক্রিয়তার পরিমাণ অনেক। আমাদের বিশ্বাস, তা থেকেই স্লিপিং ডিসঅর্ডার এবং স্লিপিং প্যারালাইসিস ঘটেছে, যা থেকে হ্যালুসিনেশন ঘটেছে।’