আজকাল ওয়েবডেস্ক:‌ ধর্ষণ। শ্লীলতাহানি। যৌন নিগ্রহ। এই ঘটনাগুলির সঙ্গে অনেকে নারী পোশাকের সম্পর্ক খুঁজে পান। তাঁদের দাবি, নারীদেহ প্রদর্শনকারী উত্তেজক পোশাকের জন্যেই ধর্ষণ, যৌন নিগ্রহের মতো ঘটনা ঘটে। এই ঘটনা আটকাতে তাই নারীদেরই বেশি সচেতন হবে, তাঁদের দাবি। নারী সুরক্ষার কথা মাথায় রেখে শহরে পোস্টার পড়ে। তাতে জ্বলজ্বল করে, ‘নারীদেহ প্রদর্শনকারী উত্তেজক পোশাকের উৎপাদন ও বিপনন বন্ধ করতে হবে।’‌ ‌পোস্টার সাঁটায় ‘‌বাঙালি মহিলা সমাজ।’‌ শ্যামবাজার মোড়ে এরকমই একটি পোস্টার আছে। অর্থাৎ কী বোঝা গেল?‌ উত্তেজক পোশাকের জন্যই পুরুষের যৌন লালসা জাগবে। আর তাঁর যৌন লালসা জাগলে নারীকে ধর্ষণ করার অগ্রাধিকার পান তিনি। কি, তাই তো?‌ এই ধারণার সপক্ষে যাঁরা কথা বলেন, তাঁরাও ভুলে যান, সমাজে শুধু ‘‌মধ্যবয়সী’ মহিলারাই পুরুষের যৌন লালসার শিকার হন না। শিকার হয় দু’‌বছরের শিশুকন্যা। শিকার হন ‌আশি বছরের বৃদ্ধা। তাঁদের পোশাকেও কি তাহলে পুরুষজাতির যৌন লালসা জাগে?‌ কী মনে হয় আপনার?‌
হায়দরাবাদ কাণ্ডের ঘটনার পরও সোশ্যাল মিডিয়ায় একদল উপরি উল্লিখিত মতের সমর্থনে যুক্তি দিয়েছেন। আবার এমনও একটি দল আছেন যাঁরা বারবার চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিচ্ছেন পুরুষতান্ত্রিক সমাজের কাঠামোকে। সমাজ, শহর থেকে মুছে ফেলতে চাইছেন এই ‘‌নোংরা মানসিকতা’‌কে। শ্যামবাজার মোড়ের পোস্টারটি খুলে ফেলার জন্য সেখানে আজ জমায়েত হবেন একটি গোষ্ঠি। এই জমায়েতের আয়োজন যাঁরা করেছেন, তাঁদের মধ্যে একজন হলেন অদ্বিতীয়া ঘোষ। শনিবারই এই জমায়েতের ডাক দিয়েছিলেন তিনি ও তাঁর সঙ্গীরা। অদ্বিতীয়া ঘোষ জানিয়েছেন, ‘রবিবার বিকেল পাঁচটা নাগাদ শ্যামবাজার মোড়ে পোস্টারটি খুলে ফেলার জন্য জমায়েত হব। আমরা গতকালই এই জমায়েতের আয়োজন করেছিলাম। কিন্তু বিষয়টি পুলিশে জানানো পরে সেখান থেকে আমাদের জানানো হয়, গতকাল কংগ্রেসের একটি মিটিং থাকায় আজ জমায়েত সম্ভব না৷ এছাড়াও থানার তরফে প্রশাসনিক সাহায্যের আশ্বাসও দেওয়া হয়। বহু মানুষ আমাদের পাশে দাঁড়িয়েছে। তা আমাদের নিঃসন্দেহে উদ্বুদ্ধ করেছে। আশা করি, লোকজনের সংখ্যা আরও বেশী হবে। রবিবার, আমরা চাইবো, শুভবুদ্ধিসম্পন্ন সকল নাগরিক জমায়েত করুক। এই নোংরা মানসিকতার হোর্ডিং যেন আর দৃশ্যদূষণ না ঘটাতে পারে। ’‌ 
  

জনপ্রিয়

Back To Top