আজকালের প্রতিবেদন: মেয়ের বিয়ের জন্য অনুষ্ঠান–‌বাড়ি বুক করে দেওয়া থেকে সরকারি চাকরি। কারও আবার মেয়রের সঙ্গে সাক্ষাতের আর্জি। কোনও আবদারই বাকি রইল না কলকাতার মহানাগরিক ফিরহাদ হাকিমের কাছে।‌ পুজোর জন্য এক মাস বন্ধ ছিল ‘‌টক টু মেয়র’‌। এক মাস পরে বুধবার বিকেলে ‘‌টক টু মেয়র’–‌‌এ আবার হাজারো সমস্যা নিয়ে মেয়রের দরবারে হাজির শহরবাসী। সকলের সমস্যাই মন দিয়ে শোনেন মেয়র। তবে ফঁাকা জমি বা তালাবন্ধ বাড়িতে জঞ্জাল জমে থাকা নিয়ে অভিযোগ এদিনও উঠেছে। এবং মেয়র এ ব্যাপারে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, নাগরিক নিরাপত্তার কথা ভেবে পুরসভা ওই সব ফঁাকা জমি বা বাড়ির আবর্জনা সাফাই করে দেবে, সে–‌বাবদ ফি–‌ও আদায় করবে। যা জুড়ে দেওয়া হবে সম্পত্তি করের সঙ্গে।
বেলগাছিয়া থেকে মেয়ের বিয়ে নিয়ে উদ্বিগ্ন বাবা অমলেন্দু বসু এদিন মেয়রকে জানিয়েছেন তঁার সমস্যা। ২০২০–‌র নভেম্বরে মেয়ের বিয়ে ঠিক হয়েছে। কিন্তু বিয়েবাড়ি বুক করে উঠতে পারেননি। ৩৪ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা অমলেন্দুবাবুকে মেয়র আশ্বস্ত করেন। স্থানীয় পুর কমিউনিটি হল বুক করতে নিয়ম মেনে বরোয় আবেদন জানানোর পরামর্শ দেন। এদিন নাগরিকদের মুখোমুখি মেয়র কখনও নরম তো কখনও গরম। আবর্জনাপূর্ণ ফঁাকা জমি, ৩০ বছর ধরে তালাবন্ধ বাড়ি নিয়ে একাধিক অভিযোগ জানিয়ে ফোন আসে মেয়রের কাছে। ক্ষুব্ধ মেয়র জানান, ডেঙ্গির জন্য বার বার নাগরিকদের সচেতন করা হচ্ছে। এর পরও বন্ধ বাড়ি, ফঁাকা জমি পরিষ্কার হচ্ছে না। শহরবাসীর নিরাপত্তার কথা মাথায় রেখে পুরসভা পরিষ্কার করে দেবে। তবে এজন্য জমি, বাড়ির মালিককে ফি দিতে হবে। সম্পত্তি করের সঙ্গে সেই ফি যোগ করে দেওয়া হবে। এদিন মেয়রের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে সমস্যা জানাতে চেয়ে ফোন করেন এক প্রবীণা। পুর ভবনে এসে তঁাকেও সাক্ষাতের সময় দেন মেয়র। ‌‌
ঠিকা ভাড়াটেদের সম্পত্তি করের আওতায় আনতে চলেছে কলকাতা পুরসভা। বুধবার পুরসভায় ঠিকা টেন্যান্সি ল্যান্ড নিয়ে বৈঠক করেন কলকাতার মহানাগরিক ফিরহাদ হাকিম। বৈঠকের পর মেয়র জানান, রাজ্য সরকার ঠিকা ভাড়াটেদের নিয়ে নতুন আইন এনেছে। সেই আইন কীভাবে কার্যকর করা যায়, কীভাবে কাজ হবে, তা নিয়েই কথা হল। পুরসভা থেকে একটি আবেদনপত্র দেওয়া হবে। ঠিকা ভাড়াটেদের অ্যাসেসমেন্টের আওতায় আনা হবে। ভাড়াটিয়ারাও ওই নতুন বাড়িতে বসবাসের অধিকার থাকবে। নতুন করে বাড়ি নির্মাণের ক্ষেত্রে ভাড়াটিয়া–‌ছাড়পত্র জরুরি। একই সঙ্গে, ভাড়াটিয়াদেরও সম্পত্তিকর দিতে হবে। ঠিকা ভাড়াটিয়ার প্রমাণপত্র, ভাড়ার রসিদ এবং যঁার নামে ঠিকা ভাড়া নেওয়া, তিনি মারা গেলে তার প্রমাণপত্র জমা দিতে হবে। সে–‌সব তথ্য ঠিকা ভাড়াটে অফিসে পাঠানো হবে। আগামী সোম–মঙ্গলবারের মধ্যে এই আবেদনপত্র দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে পুরসভার। 

জনপ্রিয়

Back To Top