আজকালের প্রতিবেদন: যাদবপুরে কলা বিভাগে ভর্তি নেওয়া হবে প্রবেশিকা পরীক্ষার মাধ্যমে। ২৭ জুন কর্মসমিতি (‌ইসি)‌–র বৈঠকে যে সিদ্ধান্ত হয়েছিল, সেই সিদ্ধান্তই বহাল রাখা হয়েছে মঙ্গলবারের বৈঠকে। এরপরই উপাচার্য সুরঞ্জন দাস এবং সহ–উপাচার্য প্রদীপ ঘোষ পদত্যাগ করতে চেয়েছেন।
কলা বিভাগে প্রবেশিকার বদলে নম্বরের ভিত্তিতে ভর্তি সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে অনশন শুরু করেছিলেন পড়ুয়ারা। পরীক্ষা প্রক্রিয়া থেকে নিজেদের সরিয়ে নিয়েছিলেন ওই বিভাগের বিভিন্ন শাখার অধ্যাপকেরা। এই নিয়ে তৈরি হয় জট। এই সমস্যা কাটাতে মঙ্গলবার ইসি–র বৈঠক বসে। সেখানে সিদ্ধান্ত হয় কলা বিভাগের ৬টি শাখার প্রবেশিকা পরীক্ষায় প্রাপ্ত নম্বর এবং উচ্চমাধ্যমিকের নম্বরকে সমান গুরুত্ব দিয়ে মেধা–তালিকা তৈরি করা হবে।
ইসি–র সিদ্ধান্তের বিরোধিতায় ‘‌নোট অফ ডিসেন্ট’‌ দিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজির শিক্ষক, উচ্চশিক্ষা সংসদের প্রতিনিধি মনোজিৎ মণ্ডল। গোটা আলোচনায় অংশ নেননি রেজিস্ট্রার, উপাচার্য সুরঞ্জন দাস, সহ–উপাচার্য প্রদীপ ঘোষ। তাঁরা ইসি–র সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়া থেকে সরে থাকেন।
প্রবেশিকা পরীক্ষার দিন ঠিক করতে আজ, বুধবার ভর্তি কমিটির বৈঠক হবে। কীভাবে ভর্তি করা হবে সে বিষয়গুলি ঠিক করার দায়িত্ব রেজিস্ট্রার চিরঞ্জীব ভট্টাচার্য এবং কলা বিভাগের ডিন শুভাশিস বিশ্বাসকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
প্রসঙ্গত, কলা বিভাগের ৬টি শাখার ভর্তি প্রক্রিয়া ঘিরে অচলাবস্থা তৈরি হয়েছিল যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে। বাংলা, ইংরেজি, দর্শন, ইতিহাস, রাষ্ট্রবিজ্ঞান বা আন্তর্জাতিক সম্পর্ক এবং তুলনামূলক সাহিত্য বিভাগে এ বছর প্রবেশিকার মাধ্যমে পড়ুয়া ভর্তির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বিষয়টি নিয়ে তুমুল বিতর্কের মধ্যে প্রবেশিকা বাতিল করে এই শাখাগুলিতে নম্বরের ভিত্তিতে পড়ুয়া ভর্তির সিদ্ধান্ত হয়। যার বিরোধিতায় ছাত্ররা শুরু করেন অনির্দিষ্টকালের অনশন। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সংগঠন জুটা–ও এর বিরোধিতা করে। এই ছয় বিভাগের শিক্ষকেরাও এই নম্বরের ভিত্তিতে ভর্তির প্রক্রিয়া থেকে নিজেদের সরিয়ে নেন। সমাধানসূত্র খুঁজতে রাজ্যপাল তথা আচার্যের দ্বারস্থ হন উপাচার্য।
সোমবার যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের অচলাবস্থা কাটাতে উপাচার্যকে আইন অনুযায়ী তাঁর ক্ষমতা প্রয়োগ করে সিদ্ধান্ত নিতে পরামর্শ দেন আচার্য–রাজ্যপাল কেশরীনাথ ত্রিপাঠী। তাঁর পরামর্শ অনুযায়ী এদিন ফের ইসি–র বৈঠক ডাকা হয়। 
জানা গেছে, প্রবেশিকা পরীক্ষা নিয়ে আইনি প্রশ্ন ওঠায় ৪ জুলাই দিন ঘোষণা করেও প্রবেশিকা পরীক্ষার মাধ্যমে পড়ুয়া ভর্তির সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করেন যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। ঠিক হয়, নম্বরের ভিত্তিতেই কলা বিভাগের ৬টি শাখায় ভর্তি নেওয়া হবে। এই ৪ জন ওই সিদ্ধান্তকে নৈতিক সমর্থন জানিয়েছিলেন বলেই এদিনের ইসি–র সিদ্ধান্ত থেকে নিজেদের সরিয়ে রাখেন। 
এদিন পরপর দু’‌বার ইসি–র বৈঠক হল। সুরঞ্জনবাবু জানিয়েছেন, এদিনের ইসি আচার্যের পরামর্শ অনুযায়ী হয়েছে, তাই এই সিদ্ধান্ত তাঁকে জানানো হবে। অনশনরত পড়ুয়াদের ইসি–র সিদ্ধান্ত পড়ে শোনানো হয়। অ্যাডভোকেট জেনারেলের পরামর্শমতো, ভর্তি প্রক্রিয়ার সঙ্গে এই ৬টি বিভাগের শিক্ষকদের যুক্ত না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল বিশ্ববিদ্যালয়। বহিরাগত শিক্ষকদের যুক্ত করার কথা বলা হয়। যার বিরোধিতায় ওই বিভাগগুলির শিক্ষকেরা পরীক্ষা ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত না থাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। এদিনের ইসি–তে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়। বিভাগীয় শিক্ষকদের প্রতি আস্থা জানিয়ে তাঁদের সহযোগিতা করার আবেদন জানিয়েছে ইসি। ভর্তি প্রক্রিয়া ব্যবস্থার সঙ্গে সহযোগিতা করার অনুরোধ জানিয়েছে।
এদিন সিপিএম রাজ্য সম্পাদক সূর্যকান্ত মিশ্র যাদবপুরের ঘটনায় রাজ্য সরকারকে দায়ী করেছেন।‌

জনপ্রিয়

Back To Top