আজকালের প্রতিবেদন: শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করা হল ভাষা ‌শহিদদের। শুক্রবার আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসে কলকাতা–সহ রাজ্যে বিভিন্ন অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছিল। কথা, গান, কবিতায় শ্রদ্ধা জানানো হল ভাষা ‌শহিদদের। ছিল বর্ণাঢ্য পদযাত্রা, আলোচনাসভা।
কলকাতার ভাষা উদ্যানে ভাষা ‌শহিদদের স্মরণে এক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছিল। উদ্যোক্তা ভাষা শহিদ স্মারক সমিতি। শহিদবেদিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান বামফ্রন্ট চেয়ারম্যান বিমান বসু, শ্যামলকান্তি চক্রবর্তী, দিলীপ চক্রবর্তী, চিত্রা লাহিড়ী, জিয়াদ আলি, স্বপন সোম, সৈয়দ কওসর জামাল, দীপক লাহিড়ী, আশিস চক্রবর্তী–সহ বিশিষ্টরা। সারা রাত ভাষা উৎসবের আয়োজন করেছিল ভাষা ও চেতনা সমিতি। বৃহস্পতিবার রাত থেকেই তাদের অনুষ্ঠান শুরু হয়ে গিয়েছিল। আকাদেমি‌র সামনে ছাতিমতলায় আয়োজিত অনুষ্ঠানে অংশ নিয়েছিলেন শিল্পী প্রতুল মুখোপাধ্যায়, তপন মিত্র, যোগেন্দ্র যাদব, অভীক সাহা, ইমানুল হক, তীর্থ বিশ্বাস–সহ বিশিষ্টরা। ছিল বাউল, ফকিরি, সুফি, কীর্তন। অনুষ্ঠানে যোগ দিয়েছিল ভাষা ও চেতনা পাঠশালার শিশুরাও।
পদযাত্রার আয়োজন করেছিল বিধাননগর আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উদ্‌যাপন সমিতি। পিএনবি মোড় থেকে লাবণি আইল্যান্ড পর্যন্ত। ছিলেন রাজ্যের মন্ত্রী সুজিত বসু, বিধাননগরের মেয়র কৃষ্ণা চক্রবর্তী, উদ্‌যাপন সমিতির আহ্বায়ক, ৪১ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর অনিন্দ্য চ্যাটার্জি, শিল্পী প্রতুল মুখোপাধ্যায়, শিবাজি চট্টোপাধ্যায়, শুভাপ্রসন্ন, নিরঞ্জন প্রধান, বিমল কুণ্ডু, দাবাড়ু দিব্যেন্দু বড়ুয়া প্রমুখ। আদিবাসী, ছৌ, রনপা, রায়বেঁশে শিল্পীরা অনুষ্ঠানকে অন্য মাত্রায় নিয়ে যান।

ছিলেন মহিলা ঢাকিও। আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসে টর্চ–মিছিলের আয়োজন করেছিল সেন্ট জেভিয়ার্স কলেজের পড়ুয়া ও প্রাক্তনীরা। সেন্ট জেভিয়ার্স কলেজ বয়েজ হস্টেল থেকে সেন্ট জেভিয়ার্স কলেজ পর্যন্ত। অংশ নিয়েছিলেন রাজ্যের মন্ত্রী সুজিত বসু, কলকাতায় বাংলাদেশের ডেপুটি হাই কমিশনার তৌফিক হাসান। কল্যাণী বিশ্ববিদ্যালয়ে ভাষা শহিদবেদির উদ্বোধন করা হয়। এই উপলক্ষে বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের আম্রকুঞ্জে এক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছিল। ছিলেন উপাচার্য শঙ্করকুমার ঘোষ, বাংলা বিভাগের প্রধান সুখেন বিশ্বাস।
বাংলাদেশ উপ–হাইকমিশনের উদ্যোগে এক মিছিলের আয়োজন করা হয়েছিল। পার্কসার্কাসের ‘বাংলাদেশ গ্রন্থাগার ও তথ্য কেন্দ্র’ থেকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব সরণিতে বাংলাদেশ মিশনের শহিদ মিনারে শেষ হয়। ভাষা শহিদদের শ্রদ্ধা জানানো হয়। ছিলেন বামফ্রন্ট চেয়ারম্যান বিমান বসু, আরএসপি রাজ্য সম্পাদক মনোজ ভট্টাচার্য, সিপিএম নেতা সুখেন্দু পাণিগ্রাহী, বিধায়ক অসিত মিত্র, কলকাতায় বাংলাদেশের ডেপুটি হাইকমিশনার তৌফিক হাসান–সহ বিশিষ্টরা। পরে সেখানে আয়োজিত আলোচনাসভায় অংশ নেন বিধায়ক পরেশ পাল, বিধায়ক অসিত মিত্র, কলকাতা প্রেস ক্লাবের সভাপতি স্নেহাশিস সুর, কবি বরুণ চক্রবর্তী, গবেষক পার্থসারথি গায়েন এবং ভারত–বাংলাদেশ মৈত্রী সমিতির সম্পাদক ইলোরা দে। মনোজ্ঞ আলোচনাসভার আয়োজন করেছিল কলকাতা প্রেস ক্লাব। ভাষা ‌শহিদদের শ্রদ্ধা জানায় উত্তর কলকাতা উদয়ের পথে। বৌদ্ধ ধর্মাঙ্কুর সভার কৃপাশরণ হলে আলোচনাসভার আয়োজন করেছিল বেঙ্গল থিয়োসফিক্যাল সোসাইটি এবং সংখ্যালঘু যুব ফেডারেশন। মেট্রো রেল আয়োজিত রক্তদান শিবিরে রক্ত দিলেন ৭০ জন মেট্রো‌কর্মী।

মহানায়ক উত্তমকুমার স্টেশনে শিবিরের উদ্বোধন করেন মেট্রোর জেনারেল ম্যানেজার মনোজ যোশি।‌‌

ফেসবুকে এই কবিতাটি পোস্ট করেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি

২১শে
২১শে মানেই অঙ্গীকার
২১শে মানেই ভাষা,
২১শে মানেই পথ চলা
নব প্রজন্মের দিশা।

২১শে মানেই মাটির আশীর্বাদ
আজানে প্রাণের সুর,
২১শে মানেই গণতন্ত্র
অধিকার সুমধুর।

২১শে মানেই ভালোবাসা
বেঁচে থাকা ভরসা,
২১শে মানেই সংগ্রামী জীবন
আগামীর নব আশা।

২১শে মানেই তোমার আমার
বেঁচে থাকার অধিকার,
২১শে মানেই নূতন উদয়
এগিয়ে বাংলা সবার।

২১শে মানেই যুগে যুগে
ফিরে ফিরে দেখা,
২১শে মানেই শ্রাবণ বর্ষা
হৃদয়ে রক্ত লেখা।‌

আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসে শ্রদ্ধা জানালেন সাংসদ মালা রায়, মন্ত্রী ও মেয়র ফিরহাদ হাকিম, সাংসদ শান্তনু সেন, যোগেন চৌধুরি এবং মেয়র পারিষদ দেবাশিস কুমার। বিড়লা তারামণ্ডলের সামনে ভাষা উদ্যানে। আর্ট কলেজের মডেলের হাতে পেনশন দিচ্ছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি। দেশপ্রিয় পার্কে ভাষা দিবসের অনুষ্ঠানে। রয়েছেন নচিকেতা, যোগেন চৌধুরি, শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়। সিস্টার নিবেদিতা ইউনিভার্সিটিতে দিনব্যাপী ভাষা দিবসের সূচনা অনুষ্ঠানে শিল্পী শুভাপ্রসন্নর হাতে গাছের চারা তুলে দিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের আচার্য সত্যম রায়চৌধুরী। নিউ টাউনে। ছবি:‌ তপন মুখার্জি, জয় সাধুখাঁ,
বিজয় সেনগুপ্ত

 

জনপ্রিয়

Back To Top