আজকালের প্রতিবেদন: তথ্য ও প্রযুক্তি শিল্পে বেঙ্গালুরুকে ছাপিয়ে যাচ্ছে বাংলা। ইতিমধ্যেই আইটি সেক্টরে কর্মসংস্থান বা অন্যান্য বিষয়ে বাংলা ধরে ফেলেছে বেঙ্গালুরুকে। বৃহস্পতিবার কলকাতায় ‘টাইকন ২০২০’ শীর্ষক কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে এমনই মন্তব্য করেন রাজ্যের অর্থ এবং তথ্য ও প্রযুক্তিমন্ত্রী অমিত মিত্র। রাজ্যের তথ্য ও প্রযুক্তি দপ্তরের প্রধান সচিব, কলকাতার প্রাক্তন পুলিশ কমিশনার রাজীবকুমারও অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। অমিত মিত্র জানান, শুধু কলকাতা শহরেই নয়, মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জির চিন্তাধারায় বর্ধমান, পুরুলিয়া, শিলিগুড়ি-সহ অন্যান্য শহরেও আইটি হাব গড়ে উঠেছে। সেখানকার স্থানীয়রা দক্ষতার সঙ্গে সেখানে কাজও করছেন।
কলকাতার একটি বেসরকারি হোটেলে টাই-এর উদ্যোগে আয়োজন করা হয় তথ্য ও প্রযুক্তি ও অন্যান্য শিল্প সম্ভাবনা নিয়ে বিশেষ সম্মেলন ‘‌টাইকন ২০২০’‌। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে প্রায় ৭০০টি সংস্থা এই সম্মেলনে অংশ নেয়। ‘কলকাতা শাইনিং, বাংলা এগেইন’‌ শীর্ষক আলোচনায় বক্তব্য পেশ করতে গিয়ে এদিন অমিত মিত্র জানান, দেশের জিডিপি নিম্নমুখী হলেও বাংলার উন্নয়ন সূচক ঊর্ধ্বমুখী। তিনি বলেন, ‘গত আর্থিক বছরে দেশের জিডিপি ৬.১ হলেও বাংলার জিডিপি ছিল দ্বিগুণ, ১২.৫৮। চলতি অর্থ বছরে দেশের জিডিপি ৫ হলেও বাংলায় ডবলই হবে।’ তিনি জানান, তথ্যপ্রযুক্তি ক্ষেত্রে ইতিমধ্যে টিসিএস-এ ২৭ হাজার লোক এ রাজ্যে কাজ করছেন। আরও একটি প্রকল্পে ১৫ সিলিকন ভ্যালিতে ১৫ হাজার কর্মসংস্থান হবে। সেইসঙ্গে আইটি সেক্টরে রপ্তানিবৃদ্ধির বিষয়টিও তুলে ধরেন তিনি। জানান, ২০১০-’‌১১ অর্থ বছরে আইটি-র রপ্তানি ৮ হাজার ৩৩৫ কোটি টাকা থেকে বেড়ে গত বছর সেটা হয়েছিল ২২ হাজার ৮৯৭ কোটি টাকা। বর্তমানে লক্ষ্যমাত্রা রাখা হয়েছে ৪০ হাজার কোটি টাকা। তথ্য ও প্রযুক্তির উন্নয়ন প্রসঙ্গে তিনি গুরুত্ব আরোপ করেন সাইবার সিকিউরিটির ওপর। অমিতবাবু বলেন, ইতিমধ্যেই ৪৭১ জন পুলিশ অফিসার ও ৭৩৩ জন সরকারি কর্মীকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। অর্থ মন্ত্রকের ৮০ শতাংশ ই-ফাইলিং-এর পাশাপাশি জেলায় জেলায়ও শুরু হয়েছে ই-পরিষেবা।        

টাইকন কলকাতা ২০২০ অনুষ্ঠানে অর্থমন্ত্রী অমিত মিত্র ও তথ্য ও প্রযুক্তি দপ্তরের প্রধান সচিব রাজীবকুমার। বৃহস্পতিবার, কলকাতায়। ছবি:‌ কৌশিক সরকার

জনপ্রিয়

Back To Top