তরুণ চক্রবর্তী
ট্রেন মালিকরাই ঠিক করবেন বেসরকারি ট্রেনের ভাড়া। ভাড়ার বিষয়ে কোনও নিয়ন্ত্রণ থাকবে না রেলমন্ত্রকের। শুধু তাই নয়, বেসরকারি ট্রেন যাতায়াতের এক ঘণ্টা আগে বা পরে সেই রুটে অন্য কোনও এক্সপ্রেস ট্রেন চলবে না। জানা গিয়েছে এমনই আকর্ষণীয় শর্ত দেওয়া হয়েছে বেসরকারি সংস্থাগুলিকে। তাই শুধু টাটা বা আদানিরাই নন, বিদেশি নামী নামী সংস্থাগুলিও ভারতে ট্রেন কিনে যাত্রী পরিবহণ শুরু করতে আগ্রহ প্রকাশ করেছে। তবে রেলের মতো জাতীয় সম্পদ মোদি সরকারের বিক্রির সিদ্ধান্তের তীব্র বিরোধিতাও শুরু হয়েছে দেশজুড়ে। তবে রেলকর্তাদের দাবি, পিপিপি মডেলের হাত ধরে রেলের আর্থিক বোঝা অনেকটা কমবে। বাড়বে বিনিয়োগ।
পিপিপি মডেলে হাওড়া–‌সহ ১২টি রেল ক্লাস্টারের ১০৯টি রুটে ১৫১টি ট্রেন চালাতে মরিয়া ভারতীয় রেল। ঘোষণার পাশাপাশি ইতিমধ্যেই প্রস্তুত প্রোজেক্ট ইনফরমেশন মেমোরান্ডাম বা পিআইএম। রেলের এই পিআইএম অনুযায়ী যেসব সংস্থা ১৬ কোচের বিলাসবহুল ট্রেন কিনে নির্ধারিত রুটে চালাবে ভাড়াটা তারাই ঠিক করবে। রেলের নিজস্ব সিস্টেমের পাশাপাশি নিজেরাও আলাদা মেকানিজমকে কাজে লাগিয়ে বিক্রি করতে পারবে টিকিট। জানা গিয়েছে, বিশেষ ছাড় বা ভর্তুকির দায়ভারও নিতে হবে না বেসরকারি সংস্থাগুলিকে। তাদের পরিকাঠামোর ভাড়া, বিদ্যুৎ মাশুল প্রভৃতি দিলেই চলবে। ট্রেনগুলিও কিনতে হবে নিজেদেরই। রেলের এই শর্তে বহু সংস্থাই এমন বিনিয়োগে রাজি হয়েছেন বলে জানা গিয়েছে। গণপরিবহণে আন্তর্জাতিক ব্র‌্যান্ড হিতাচি, মিৎসুই, হুন্ডাই সিমেন্স প্রভৃতি সংস্থা ইতিমধ্যেই আগ্রহ প্রকাশ করেছে। দেশীয় সংস্থার মধ্যে আগ্রহীদের তালিকায় রয়েছে টাটা রিয়েলটি, আদানি পোর্ট, এসেল গ্রুপ, ভারত ফোর্জ প্রভৃতি। সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে দেশের বর্তমান ২৮০০ মেল বা এক্সপ্রেস ট্রেনের সঙ্গে ২০২৩ সালের এপ্রিল মাসের আগেই চলবে বেসরকারি ট্রেন।
তবে রেলের এই বেসরকারীকরণের তীব্র বিরোধিতা শুরু হয়েছে। কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী বলেছেন, ‘‌গরিবের লাইফ লাইন কেড়ে নেওয়ার যোগ্য জবাব পাবেন প্রধানমন্ত্রী’।‌ ইতিমধ্যেই তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা ব্যানার্জির নির্দেশে রেল ও কয়লাখনি বিক্রির বিরুদ্ধে আন্দোলনে নেমেছে তৃণমূল কংগ্রেস।  দলের সাংসদ সৌগত রায় বলেন, ‘‌রেল হচ্ছে সবচেয়ে বড় সরকারি সংস্থা। এটাই যদি বেসরকারি হাতে তুলে দেওয়া হয় তাহলে তো কিছু থাকছে না।’‌ রেলকে পিপিপি মডেলে চালালে যাত্রীদের কোনও সুবিধা হবে না বলেই তিনি মনে করেন। লকডাউনের মধ্যেও রেলকে বেসরকারি হাতে তুলে দেওয়ার তীব্র বিরোধিতা শুরু হয়েছে বলে মনে করেন সিপিএম নেতা মহঃ সেলিম। তাঁর মতে, রেল হচ্ছে জাতীয় সংহতির প্রতীক। দেশের এক প্রান্ত থেকে আরেক প্রান্তের যোগাযোগ রক্ষা করে রেল। আর সেই রেলকে বেসরকারি হাতে তুলে দেওয়া হলে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ বাড়বে। সেইসঙ্গে বাংলা থেকে দক্ষিণ ভারত বা উত্তরবঙ্গ হয়ে গুয়াহাটি যাতায়াতের ট্রেনকেও বেসরকারি হাতে তুলে দেওয়ার তীব্র বিরোধিতা করেন তিনি। তবে রেল বোর্ডের চেয়ারম্যান ভি কে যাদবের দাবি, রেলের এই সিদ্ধান্তের ফলে প্রচুর বিনিয়োগ আসবে। রেলের আয়বৃদ্ধির পাশাপাশি কর্মসংস্থানেরও সুযোগ হবে। আর রেলমন্ত্রী পীযূষ গোয়েল রেল বেসরকারীকরণের আশঙ্কা উড়িয়ে দিয়ে বিনিয়োগের দরজা প্রসারিত করার কথা বলেন।‌

জনপ্রিয়

Back To Top