প্রিয়দর্শী বন্দ্যোপাধ্যায়—হাওড়া ব্রিজ থেকে ঝাঁপ দিয়ে আত্মহত্যা রুখতে প্রশাসনের উদ্যোগ। ব্রিজের দু’‌দিকের রেলিং উঁচু করার কাজ চলছে জোরকদমে। কীভাবে ব্রিজ থেকে গঙ্গায় ঝাঁপ দেওয়ার প্রবণতা রোখা যায়, তা নিয়ে কলকাতা পুলিস, পোর্ট ট্রাস্ট ও হাওড়া সিটি পুলিসের পদস্থ কর্তারা দফায় দফায় বৈঠক করেছেন। একাধিক বৈঠকের পর ঠিক হয়, ব্রিজের দু’‌পাশের রেলিং উঁচু করা হবে। সম্প্রতি তার কাজও শুরু হয়েছে।
হাওড়া পুলিস কমিশনারেট সূত্রে জানা গেছে, এই মুহূর্তে ব্রিজের দু’‌দিকের রেলিংয়ের উচ্চতা ৪ ফুট। ঠিক হয়েছে, ওই রেলিং আরও ৩ ফুট উঁচু করে ৭ ফুট করা হবে। ব্রিজের দু’‌পাশেই এই উঁচু রেলিং তৈরি করা হবে। কলকাতা পোর্ট ট্রাস্ট্র সূত্রে জানা গেছে, ৩ মাসের মধ্যে এই রেলিং উঁচু করার কাজ শেষ হবে। এর জন্য ৩৬ লাখ টাকা খরচ ধার্য করা হয়েছে। সেই লক্ষ্যেই খুব দ্রত কাজ চলছে। এদিকে, এই উদ্যোগে খুশি পথচলতি বহু মানুষই। পথচারীরা বলছেন, পুলিসি নজরদারি থাকলেও, প্রায়শই রেলিং টপকে হাওড়া ব্রিজ থেকে গঙ্গায় ঝাঁপ দেওয়ার ঘটনা ঘটে। রেলিং উঁচু হয়ে গেলে সেই সম্ভাবনা আর থাকবে না।
চলতি বছরের মে মাসে পারিবারিক অশান্তির জেরে গড়িয়ার এক বধূ তার ১ বছরের শিশুসন্তানকে নিয়ে গঙ্গায় ঝাঁপ দেন। রিভার ট্রাফিক পুলিসের তৎপরতায় ওই বধূকে উদ্ধার করা সম্ভব হলেও, শিশুটিকে উদ্ধার করা যায়নি। এছাড়াও চলতি বছরে আরও দুজন ব্রিজ থেকে রেলিং টপকে গঙ্গায় ঝাঁপ দিয়ে আত্মহত্যা করেন। গত বছর নভেম্বর  মাসেও এক ব্যক্তি হাওড়া ব্রিজ থেকে ঝাঁপ দিয়ে আত্মহত্যা করেছিলেন। তার পরই কীভাবে এই প্রবণতা আটকানো যায় তার উপায় বের করতে উঠেপড়ে লাগেন প্রশাসনিক কর্তারা। একাধিক আলাপ–আলোচনা ও বৈঠকের পর অবশেষে ৭৫ বছরের প্রাচীন হাওড়া ব্রিজের দু’‌পাশের রেলিং উঁচু করার সিদ্ধান্ত হয়। এ প্রসঙ্গে স্কুল শিক্ষিকা অনিতা হাজরা বলেন, ‘খুবই ভাল সিদ্ধান্ত এটা। আরও আগে করলে ভাল হত। শুধু হাওড়া ব্রিজই নয়, বালি ব্রিজেরও দু’‌পাশের রেলিং উঁচু করা হোক। কারণ, বালি ব্রিজ থেকেও রেলিং টপকে গঙ্গায় ঝাঁপ দেওয়ার কথা মাঝেমধ্যেই শোনা যায়।’ হাওড়া ব্রিজের পর বালি ব্রিজেরও রেলিং উঁচু করা হয় কিনা 
সেটাই এখন দেখার।

জনপ্রিয়

Back To Top