আজকালের প্রতিবেদন: বিষাক্ত পোকার দংশনে এসএসকেএমে মৃত্যু হল এক গৃহবধূর। বিষাক্ত পোকার কামড়ে মৃত্যুর ঘটনাকে কেন্দ্র করে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে বৈদ্যবাটি এলাকায়। মৃতের নাম সুদীপা নন্দী (৩০)। বাড়ি বৈদ্যবাটির বৈদ্যপাড়ার নিশীথ সেন সরণি এলাকায়। সুদীপার স্বামী সিআরপিএফ জওয়ান সুজয় নন্দী। গত ১৩ নভেম্বর  কাশ্মীরে কর্মস্থল থেকে বাড়িতে ফেরেন সুজয়। সকলের সঙ্গে কথা বলে খাওয়া দাওয়ার পর তিন বছরের ছেলে স্বস্তিককে নিয়ে ঘুমিয়ে পড়েন।  সুদীপা শৌচাগারে গেলে তার বাঁ হাতের কনুইয়ের নীচে বিষাক্ত কিছু কামড়ায়। সঙ্গে সঙ্গে তাঁর হাত ফুলে সবুজ হয়ে যায়। সারা শরীরে শুরু হয় অসম্ভব যন্ত্রণা। শ্রীরামপুর ওয়ালস হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। শুরু হয় রক্তবমি। সেখান তাঁকে এসএসকেএমের ক্রিটিক্যাল কেয়ার ইউনিটে ভর্তি করা হয়। এসএসকেএমে একাধিকবার সুদীপার রক্ত পরীক্ষা করা হয়। বুধবার দুপুরে মৃত্যু হয় ওই গৃহবধূর। ঠিক কীসের কামড়ে বিষক্রিয়া তা স্পস্ট বুঝতে পারেননি চিকিৎসকেরা। মৃতের পরিবারের সদস্যরাও ঠিক বুঝে উঠতে পারছেন না কীসের কামড়ে এমন মর্মান্তিক পরিণতি হল। বৃহস্পতিবার সুদীপার দেহের ময়নাতদন্ত করা হয়। এর আগে বৈদ্যবাটির ওই এলাকায় এই রকম কোনও ঘটনা কখনও ঘটেনি। ইতিমধ্যে মাইট নামে এক ধরনের পোকার কামড়ে স্ক্রাব টাইফাসে মৃত্যুর ঘটনাও ঘটেছে। এসএসকেএমের সুপার ডাঃ রঘুনাথ মিশ্র জানান, অজানা এক পোকার কামড় নিয়ে ভর্তি হয় সিসিইউ–তে। কোনও পরীক্ষাতেই কিছু ধরা পড়েনি ঠিক কী ধরনের বিষক্রিয়া হয়েছে।

 

 

অস্বাভাবিক

আজকালের প্রতিবেদন: ঠিক কী হতে পারে? ‌এবিষয়ে আরজি কর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের ফরেনসিক মেডিসিন অ্যান্ড টক্সিকোলজি বিভাগের অধ্যাপক ও পয়জন ইনফরমেশন সেন্টারের ইনচার্জ ডাঃ সোমনাথ দাশকে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বলেন, ‘যে কোনও ধরনের পোকার কামড়ে মৃত্যু হওয়াটা খুবই অস্বাভাবিক। অনেকগুলো মৌমাছির হুল ফুটলে বা কোনও শিশুর মৃত্যু হলেও প্রাপ্তবয়সিদের ক্ষেত্রে এরকম ঘটনা শোনা যায় না। এই রোগীর ক্ষেত্রে মৃত্যুর কারণ দু‌টো হতে পারে। একটা হল নির্দিষ্ট ওই পোকার কারণে শরীরে কোনও হাইপারসেন্সিটিভিটি বা ইডিওসিংক্র‌্যাটিক রিঅ্যাকশন হয়ে থাকলে। যে কোনও পোকার বিষ একটা প্রোটিন। সেই প্রোটিন শরীরে ঢুকলে তার বিরুদ্ধে শরীরে অ্যান্টিবডি তৈরি হয়ে অ্যান্টিজেনকে মারলেও বিভিন্ন অঙ্গ–প্রত্যঙ্গে একটা প্রভাব পড়ে। মাল্টি অর্গান ফেলিওর হতে পারে। কোনও কোনও মানুষের ক্ষেত্রে দেখা গেছে সাধারণ পোকার কামড়েও শরীরে ভয়ঙ্কর প্রভাব পড়ে। জীবনের ঝুঁকি তৈরি হয়। আর একটা কারণ হতে পারে যে জায়গায় পোকা কামড়েছে সেখান থেকে সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়তে পারে। যার জন্য মৃত্যু হতে পারে। কী ধরনের পোকা দেখলে অনেকটা সুবিধা হত। যেখানে পোকা কামড়েছে সেখানকার ত্বক নিয়ে পরীক্ষা করলে কিছুটা বোঝা যেতে পারে। ময়নাতদন্তে নির্দিষ্ট বিষ বোঝাটা খুব কষ্টকর কারণ অনেকদিন আগে ঢুকেছিল।‌

পোকার কামড়ের দাগ। মৃত সুদীপা নন্দী।

জনপ্রিয়

Back To Top