আজকালের প্রতিবেদন‌‌‌‌: সংস্কারের নামে বিবেকানন্দ রোডের ১৫০ বছরের ইয়ং মেন ক্রিশ্চান অ্যাসোসিয়েশন ভবন ভেঙে ফেলার চেষ্টা চলছে বলে আবাসিকরা অভিযোগ করলেন। পুরসভা এবং রাজ্যের হেরিটেজ কমিশনের অনুমতি ছাড়াই সংস্কারের নামে হেরিটেজ ভাঙা হচ্ছে, এই অভিযোগ নিয়ে প্রশাসনের দ্বারস্থ হয়েছেন আবাসিকরা। 
আবাসিকদের দাবি, ৪ আগস্ট ঘিরে দেওয়া হয় ঐতিহ্যবাহী আবাসনের একাংশ। ৫ আগস্ট আবাসন খালি করার জন্য নোটিস দেন আবাসন কর্তৃপক্ষ। কিন্তু সংস্কার করা হবে বলে, বাড়িটি ভেঙে ফেলছেন তাঁরা। আবাসিকরা এই হেরিটেজ বাঁচাতে একটি তথ্যচিত্র ও হোয়াটস অ্যাপ গ্রুপ তৈরি করেছেন। এই হোয়াটস অ্যাপ গ্রুপেই একটি ভিডিও আসে কয়েকদিন আগে। সেই ভিডিওতে দেখা যায় আবাসনের জানলা, দরজা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এই বিষয় নিয়ে আবাসনের সেক্রেটারি চিরদীপ মিশ্রের সঙ্গে কথা বলতে যান তাঁরা। অভিযোগ, তাঁদের ২ ঘণ্টা বসিয়ে রাখার পর জানিয়ে দেওয়া হয়, আবাসনটি বিপজ্জনক। তাই আবাসিকদের সুরক্ষার্থে ১ মাসের মধ্যে খালি করে দিতে বলা হয়েছে। এর পরেই প্রশাসনের দ্বারস্থ হন আবাসিকরা।
১৮৯১ সালে অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটি মিশন তাদের মুক্তারাম বাবু স্ট্রিটের বাড়ি থেকে এই ভবনটিতে স্থানান্তরিত হয়। বিবেকানন্দ রোড সেই সময় তৈরি হয়নি। এখন যেখানে ডিএম লাইব্রেরি রয়েছে, সেখানেই ছিল এই ভবনের প্রধান ফটক। ডক্টর লিডন এই ভবন তৈরিতে ২৫০ পাউন্ড দিয়েছিলেন। ১৮৯৪ সালে মিশন ভবনে হিন্দু ছাত্রদের জন্য তৈরি হয় ছাত্রাবাস। এই ছাত্রাবাসের জন্য ফাদার ডগলাসের দান বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। এই ছাত্রাবাস ডগলাস বোর্ডিং নামেও পরিচিত। স্বামী বিবেকানন্দের সঙ্গে ফাদার ডগলাসের বিশেষ পরিচয় ছিল এবং মাঝে মাঝেই তিনি অতিথি হয়ে মিশনে আসতেন। বিংশ শতাব্দীর দ্বিতীয় দশকে অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটি মিশন তার মিশন এবং হস্টেলের পশ্চিম অংশ আলাদা করে। ১৯৬৯–‌এ ওয়াইএমসিএ এই ভবন কিনে নেয় গ্রাম বা শহরতলি থেকে শহরে আসা মানুষগুলিকে এক শান্তিপূর্ণ আশ্রয় দিতে। ২২ বছর ধরে বাস করছেন এরকম আবাসিকও রয়েছেন এখানে।‌ ছাত্রাবাসের বাসিন্দাদের দাবি, কলকাতা পুরসভা এই আবাসনকে ১ নম্বর হেরিটেজের তকমা দিয়েছে। পুরসভার অনুমতি ছাড়া এর গঠনে কোনও পরিবর্তন আনা যাবে না। যেরকম আছে সেরকমই রাখতে হবে। এটি সংস্কার করতে গেলেও কলকাতা পুরসভার অনুমতি প্রয়োজন। কিন্তু আবাসন কর্তৃপক্ষ পুরসভার অনুমতি ছাড়াই সংস্কার শুরু করেন বলে অভিযোগ। ইতিমধ্যেই তাঁরা থানায় অভিযোগ জানিয়েছেন। আবাসিক শুভদীপ সাহা বলেন, ‘‌আবসনের একটি জায়গা ভাঙচুর করা হচ্ছিল। ভিডিও করতে গেলে মোবাইল কেড়ে নিয়ে ভেঙে ফেলার চেষ্টা করা হয়। আমরা কলকাতার মেয়র ফিরহাদ হাকিম ও বিধায়ক স্মিতা বক্সিকে লিখিতভাবে জানিয়েছি। রাজ্যের হেরিটেজ কমিশনকেও জানানো হয়েছে।’‌ ‌

জনপ্রিয়

Back To Top