আজকাল ওয়েবডেস্ক: ‌মহম্মদ সামির বিরুদ্ধে স্ত্রীর ওপর নির্যাতন সহ–একাধিক বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কের অভিযোগ আগেই করেছিলেন তাঁর স্ত্রী হাসিন জাহান। এমনকী এই মর্মে তিনি অভিযোগ জানিয়েছিলেন খোদ কলকাতা পুলিসের সদর দপ্তর লালবাজারে। এবার সরাসরি দেশদ্রোহিতার অভিযোগ আনলেন নির্যাতিতা হাসিন জাহান। যা নিয়ে রীতিমত প্রশ্নের মুখে এখন পড়ল স্বয়ং বিসিসিআই। যদিও তাদের পক্ষ থেকে এখনও এই বিষয়ে কোনও প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি। 
বৃহস্পতিবার হাসিন জাহান সাংবাদিকদের কাছে সরাসরি অভিযোগ জানান, ‘‌পাকিস্তানের কাছ থেকে টাকা নিয়ে খারাপ পারফরম্যান্স করতেন ভারতীয় দলের এই ক্রিকেটার মহম্মদ সামি। তার তথ্য প্রমাণও রয়েছে আমার কাছে। বিসিসিআইয়ের টাকায় দুবাই গিয়ে একাধিকবার টাকা নিয়েছেন সামি। সেই সূত্রে একাধিক মহিলার সঙ্গে তার পরিচয়ও ঘটে। তাদের সঙ্গে অশ্লীল ফেসবুক, হোয়াটসঅ্যাপ চ্যাট আমি নিজে চোখে দেখেছি। জিজ্ঞাসা করলে আমাকে হুমকি দেওয়া হয়েছে। আমার ওপর অত্যাচার বেড়ে গিয়েছে।’‌ 
রাতের পর রাত ওই মহিলাদের অশ্লীল ছবিও দেখত সামি। বিবাহবহির্ভূত সম্পর্ক এমন পর্যায়ে পৌঁছেছিল যে হাসিন এবং তাঁদের ছেলেরও দায়িত্ব পালন করত না সামি বলে অভিযোগ তাঁর স্ত্রীর। তিনি বলেন, ‘‌রাতের অন্ধকারে সামি কেন পাকিস্তান ক্রিকেট টিমের হোটেলে যেত তা তদন্ত করে দেখুক বিসিসিআই। কেন তারা কোনও ব্যবস্থা নেয়নি সামির বিরুদ্ধে। এই ঘটনা একদিনে ঘটেনি। বহুদিন ধরেই এই ঘটনা ঘটেছে। আমি সামির ব্যাগে প্রচুর পরিমানে টাকা থাকতে দেখেছি। যা খেলার শেষে ফেরার পর থাকত ওর ব্যাগে। এইসব বিষয়ে জিজ্ঞাসা করলে যোগাযোগ রাখতে নিষেধ করে সামি। এমনকী সে পতিতাদের সঙ্গেও সম্পর্ক রাখতে বিসিসিআইয়ের বরাদ্দ করা হোটেলে ঢেকে পাঠাত। তার প্রমাণও আমার কাছে রয়েছে। তাহলে বিসিসিআই কেন কোনও খোঁজ নেয়নি?‌ কুলদীপ নামে ওই ব্যক্তি সামিকে পতিতা সরবরাহ করত বলে আমি জানতে পেরেছি ওর মোবাইল চ্যাট থেকে।’‌ 
তিনি জানান, ‘‌ইন্দৌর, নাগপুর, বেঙ্গালুরুই নয়, ভারতের বাইরে নাইজেরিয়া, ওয়েস্ট ইন্ডিজের একাধিক তরুণীর সঙ্গেও সম্পর্ক স্থাপন করেছেন সামি।’‌ এখানেই শেষ নয়, হাসিনের বিস্ফোরক দাবি, ‘‌এই সময়ের মধ্যে পাকিস্তনের এক তরুণীর সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেছেন তিনি।’‌ পাকিস্তান থেকে দুবাই উড়িয়ে নিয়ে এসে পাকিস্তানি তরুণীর সঙ্গে যৌন সহবাস করেন বলেও অভিযোগ হাসিনের। এমনকী ননদের মেয়ের সঙ্গেও না কি অবৈধ সম্পর্ক ছিল তাঁর। হাসিনের আরও দাবি, কিছুদিন ধরেই না কি সামি তাঁর কাছে ডিভোর্স চাইছেন। হাসিন রাজি না হওয়ায় শামি না কি তাঁর স্ত্রীকে মারধরও করেন। এসবই চলত সামির পরিবারের সহমতেই।
হাসিন জাহানের অভিযোগ, ‘‌হোলিতে সামির ফোন নিজের হাতে পাই। সামি ধর্মশালা যাওয়ার পরই ফোনের প্যাটার্ন খুলে সব কুকীর্তি নিজে চোখে দেখি এবং সব সংগ্রহ করি। সামির যে বিএমডব্লু গাড়ি রয়েছে তার সিটের তলা থেকে মিলেছে কন্ডোম, এবং একাধিক মোবাইল। সেই মোবাইলে একাধিক সোশ্যাল অ্যাকাউন্ট খুলেই এই সব কুকীর্তি করেছেন তিনি। আমি একা মেয়ে। বিদেশে গিয়ে তদন্ত করা আমার পক্ষে সম্ভব নয়। সামি মিথ্যেবাদী, জালিয়াত, চরিত্রহীন। আমি অনেক সহ্য করেছি। আর সহ্য করতে না পেরে বাধ্য হয়েছি মুখ খুলতে। এরপর আর সামির সঙ্গে থাকা যায় না।’‌   

জনপ্রিয়

Back To Top