আজকালের প্রতিবেদন- বুধবার মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জির সঙ্গে কথা হল রাজ্যপাল জগদীপ ধনকড়ের। তার পরই পশ্চাদপসরণ করলেন রাজ্যপাল। বললেন, ‘‌রাজ্যের সঙ্গে কাজ করতে চাই। শিক্ষা নিয়ে বিতর্ক চাই না। বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয় সংক্রান্ত বিষয়টি আমি বন্ধ করে দিয়েছি। মুখ্যমন্ত্রী যা করবেন, তা–‌ই হবে। ওঁর সঙ্গে কথা বলে আমি আশাতীত ভাবে সন্তুষ্ট।’‌‌
বুধবার রাজ্যপাল রাজভবনে সাংবাদিক সম্মেলন করেন। সাংবাদিক সম্মেলন রাজ্যপাল আগেও বহু বার করেছেন। প্রতি বারই তিনি ছিলেন রাজ্য সরকারের প্রতি আক্রমণাত্মক। বাংলায় ‘‌সমান্তরাল সরকার’‌ চালানোর ভঙ্গিতে কথা বলেছেন। ভাবটা এমন ছিল, যেন তিনিই নির্বাচিত। এদিন তঁার আচরণ ছিল একেবারেই উল্টো। ঘুরেফিরে রাজ্য সরকার এবং মমতা ব্যানার্জির প্রশংসা করতে থাকেন। এমনকী বলেন, আমফান ঝড়ের ক্ষয়ক্ষতি দেখতে এখনই কেন্দ্রীয় সরকারে টিম পাঠানো উচিত। বলেন, ‘‌মুখ্যমন্ত্রী আজ আমাকে কতকগুলি পরামর্শ দিয়েছেন, আমি সেইমতো কাজ করব।’‌ সরকারে প্রতি রণং দেহি মনোভাব থেকে রাজ্যপালের এদিনের পশ্চাদপসরণে বাংলার বিভিন্ন মহল বেশ অবাকই।
রাজ্যপাল বললেন, ‘‌আজ সকালে মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে আমার কথা হয়েছে। আমি এবং মুখ্যমন্ত্রী একই পরিসরে কাজ করছি। গত ১৫ দিনে তিনবার কথা হয়েছে মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে। এখনকার পরিস্থিতিতে কেন্দ্র ও রাজ্যকে কঁাধে কঁাধ মিলিয়ে কাজ করতে হবে। আমার কাজ কেন্দ্র ও রাজ্যের মধ্যে অনুঘটকের ভূমিকা পালন।’‌ এদিন বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ে সহ–‌উপাচার্য পদে নিয়োগের প্রশ্নে তিনি নিজেই কার্যত বিতর্ক থেকে সরে দঁাড়ালেন। বললেন, ‘‌আমি মুখ্যমন্ত্রীর কাছে আবেদন করেছি, তিনি এই বিষয়টা দেখুন। আমি বিশ্বাস করি, তিনি নিশ্চিত ভাবেই পথ দেখাবেন। আমি চাই, এই বিষয়গুলো নিয়ে যেন আর বিতর্ক না হয়।’‌
সম্প্রতি বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ে সহ–‌উপাচার্য পদে রাজ্যের পাঠানো নাম খারিজ করে নিজের মনোনীত প্রার্থীর নামে নির্দেশিকা প্রকাশ করা ঘিরে শিক্ষাজগতে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। এ ব্যাপারে শিক্ষামন্ত্রী রাজ্যপালের সমালোচনা করেন। বিতর্ক তীব্র হয়। রাজ্যপাল বলেন, ‘‌আমি চাই, রাজ্যের শিক্ষার পরিবেশ যেন কোনও ভাবেই ব্যাহত না হয়। ‌শিক্ষার ব্যাপারে রাজভবন ও সরকারের দূরত্ব তৈরি হোক, আমি চাই না। শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চ্যাটার্জির সঙ্গেও আমার অনেক বার কথা হয়েছে। ভীষণ ভাল মানুষ উনি।’‌ তিনি জানিয়েছেন, ‘‌কোভিড, আমফান এবং পরিযায়ী শ্রমিক সমস্যা এক সঙ্গে বাংলায় কখনও ঘটেনি। রাজ্য এখন ভীষণ সমস্যায়। সরকারের সঙ্গে কঁাধে কঁাধ মিলিয়ে কাজ করা আমার দায়িত্ব। এখন সম্প্রীতি ও সহযোগিতার পরিবেশ বজায় রেখে সবাইকে কাজ করতে হবে।’‌

 

সাংবাদিক সম্মেলনে জগদীপ ধনকড়। বুধবার। ছবি: পিটিআই

জনপ্রিয়

Back To Top