আজকালের প্রতিবেদন: রাজ্যপাল–‌সরকারের সঙ্ঘাতের ধাক্কা লাগল বিধানসভায়। মঙ্গলবার অধিবেশন শেষ হওয়ার আগে স্পিকার বিমান ব্যানার্জি সদস্যদের উদ্দেশে বলেন, ‘‌রাজ্যপাল একটি বিলে এখনও অনুমোদন দেননি। তাই বুধ ও বৃহস্পতিবার অধিবেশন বন্ধ রাখা হচ্ছে।’‌ এর পরই বিমানবাবু অধিবেশন শেষ করে দেন। কোন বিলটি রাজ্যপাল রাজভবনে রেখে দিয়েছেন, তা জানতে চাওয়া হলে অনেকেই বলেন, ‘‌এসসি, এসটি কমিশন নতুন বিল।’‌ বিধানসভা সূত্রে জানা গেছে, এই বিলটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। পাশ হওয়া অত্যন্ত জরুরি। রাজভবন থেকে আগে কখনও বিল অনুমোদনে এত দেরি হয়নি। বিল না আসায় বিধানসভা বন্ধ রাখা হচ্ছে, এটাও নজিরবিহীন ঘটনা। প্রবীণ সদস্যরা বলেন, ‘‌এমন ঘটনা আগে কখনও ঘটেনি।’‌ যে কোনও বিল বিধানসভায় পাশ হওয়ার পর আইনে পরিণত হওয়ার আগে রাজ্যপালের সম্মতির জন্য রাজভবনে পাঠাতে হয়। সম্মতি পাওয়ার পর বিলটি আইনে পরিণত হয়। কিছু বিশেষ বিল রয়েছে সেগুলি রাষ্ট্রপতির কাছেও সম্মতির জন্য পাঠাতে হয়। বাংলার নাম পরিবর্তনের বিলটির ক্ষেত্রে এখনও রাষ্ট্রপতির কাছ থেকে সম্মতি মেলেনি। শুক্রবার থেকে আবার বিধানসভার অধিবেশন শুরু হবে। ওই দিন বিরতির সময় বিএ কমিটির বৈঠক বসবে। তার পর ঠিক হবে, অধিবেশন কতদিন চলবে। মোট ১০ থেকে ১২ দিন অধিবেশন চলার কথা। মঙ্গলবার বিধানসভায় দীর্ঘক্ষণ ছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি। তিনি অধিবেশনে ডেঙ্গি নিয়ে সরকারের বক্তব্য জানান। যদিও সেই সময় বিরোধীরা ওয়াকআউট করে। বিল নিয়ে জানতে চাওয়া হলে মুখ্যমন্ত্রী এ ব্যাপারে কোনও মন্তব্য করতে চাননি।
এদিকে বিজেপি নেতা রাহুল সিনহা ও মুকুল রায় সাংবাদিকদের বলেন, ‘‌এভাবে বিধানসভা মুলতুবি করে দেওয়া নজিরবিহীন।’‌ রাজ্য বিজেপি–‌র বক্তব্য, রাজ্যপালের দপ্তর থেকে গণপিটুনি নিয়ে বিলটির ব্যাখ্যা চাওয়া হয়েছে। রাজ্য সরকার এখনও কোনও জবাব দেয়নি। দ্বিতীয় বিলটি মাত্র ৩ দিন আগে রাজ্যপালের কাছে পাঠানো হয়েছে। এত অল্প দিনে সম্মতি দেওয়া যায় না।‌‌‌‌‌‌ যে কোনও বিল বিধানসভায় পাশ হওয়ার পরে রাজ্যপালকে দিয়ে তাতে সই করাতে হয় ঠিকই, কিন্তু যে সব বিলের সঙ্গে আর্থিক বিষয় জড়িত থাকে, সেই বিল বিধানসভায় পেশ করার আগেও রাজ্যপালকে দিয়ে সই করিয়ে নিতে হয়। এমনই একাধিক বিল রাজভবনে পাঠানো হয়েছিল। কিন্তু সে সব বিলে এখনও রাজ্যপালের সম্মতি মেলেনি।

জনপ্রিয়

Back To Top