প্রিয়দর্শী বন্দ্যোপাধ্যায়: ঘুসুড়ির গ্যাস লিক–কাণ্ডের ঘটনায় এখনও আতঙ্কে এলাকার বাসিন্দারা। মঙ্গলবার সকালে ঘটনাস্থলে যায় ফরেনসিক বিশেষজ্ঞদের একটি দল। পুলিস ও দমকলের সহায়তায় তারা ওই গ্যাস সিলিন্ডারটি পরীক্ষা করার জন্য নিয়ে যায়। সিলিন্ডারের মধ্যে কী গ্যাস ছিল তা ৭২ ঘণ্টা পর ফরেনসিক দপ্তরের তরফে জানানো হবে। এটি ক্লোরিন জাতীয় গ্যাস নাকি আরও কোনও বিষাক্ত গ্যাস তা তখনই জানা যাবে। সোমবার ঘটনার পর এলাকায় আরও ক্ষতি এড়াতে গ্যাস সিলিন্ডারটি ফেলে দেওয়া হয় গঙ্গায়। এর জেরে পরিবেশবিদ সুভাষ দত্ত পুলিস ও দমকল কর্তৃউক্ষের বিরুদ্ধে গ্রিন ট্রাইব্যুনালে মামলা করবেন বলে জানিয়েছেন। এদিন লেবার কমিশনের এক প্রতিনিধি দলও যায় ঘটনাস্থলে। ঘটনায় অসুস্থ শ্রমিকদের ও তাঁদের পরিবারের খোঁজখবর নেয় তারা। পাশাপাশি স্থানীয় কারখানা ও গুদামগুলিতে গিয়ে সেখানে কাজের পরিবেশ পরিদর্শন করে এবং কথা বলে মালিকপক্ষ ও শ্রমিকদের সঙ্গে। 
এদিকে গ্যাস লিকের ঘটনার পরেই চম্পট দিয়েছেন ওই গুদামের মালিক এলসি জয়সোয়াল। তাঁর খোঁজে পুলিস তল্লাশি চালাচ্ছে। বেলুড়ে তাঁর ফ্ল্যাটেও তল্লাশি চালিয়েছে পুলিস। হাওড়া সিটি পুলিসের এক কর্তা জানান, বেলুড় থানা ঘটনার তদন্ত করছে। ওই গুদামটি সিল করে দেওয়া হয়েছে। গুদামের মালিকের বিরুদ্ধে ভারতীয় দণ্ডবিধির ৩০৮, ৩৩৭ ও ৩৩৮ এবং দমকল আইনে ১১ (সি) ও ১১ (‌কে) ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছে। পাশাপাশি ওই গ্যাস সিলিন্ডারগুলি কোথা থেকে আনা হয়েছিল, তা জানার চেষ্টা চলছে। সেই সঙ্গে ওই গুদামের বৈধ অনুমতি ছিল কিনা, তাও দেখা হচ্ছে।‌ মঙ্গলবারও এই নিয়ে দিনভর এলাকায় চর্চা চলেছে। তবে নতুন করে আর গ্যাসের গন্ধ এলাকায় না ছড়ালেও এদিন এলাকাবাসীদের মনে ভোপাল গ্যাস ট্র‌্যাজেডির কথা বারে বারে ফিরে এসেছে। বাসিন্দাদের শঙ্কা, জনবসতিপূর্ণ এলাকায় এই ধরনের কারখানা বা গোডাউন থেকে আবার যে কোনও সময় গ্যাস লিক করে বড় ধরনের বিপত্তি ঘটতে পারে। এলাকায় এরকম প্রচুর লোহা কাটাইয়ের কারখানা আছে। যেখানে সারাদিনই লোহা কাটার বিকট শব্দ হয়। কীভাবে জনবসতিপূর্ণ এলাকায় এই ধরনের কারখানা বা গুদাম গড়ে উঠেছে তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন বসিন্দারা।

জনপ্রিয়

Back To Top