সম্বৃতা মুখার্জি: মাছ–‌মাংসের পদ ছাড়া বাঙালির ভাইফেঁাটা জমেই না। ভাইয়ের পাতে তাদের পছন্দমতো পদ রান্না করে দিতে চান বোনেরাও। কিন্তু ভাইফেঁাটায় আগুন লেগেছে মাছের বাজারে!‌ আকাশছেঁায়া দামে বোনেদের কপালে চিন্তার ভঁাজ। নাকাল মধ্যবিত্ত। অনেক বাজারে আবার বড় সাইজের রুই মিলছে না বলে অভিযোগ ক্রেতাদের।
পঁাঠার মাংসের পদ বাঙালির অনুষ্ঠানের অন্যতম অঙ্গ, বিশেষ করে সে–‌অনুষ্ঠান যদি ভাইফেঁাটা হয়। মাংস কষাই হোক বা আলু দিয়ে ঝোল, কব্জি ডুবিয়ে না খেলে তৃপ্তি নেই। উৎসবের মরশুমে ৬০০ টাকা ছুঁয়েছে এক কেজি পঁাঠার মাংসের দাম। মেটিয়াবুরুজ এলাকায় রেওয়াজি খাসির মাংস বিক্রি হচ্ছে ৬৫০ টাকায়। কচি পঁাঠার মাংস ৫৫০ থেকে ৬০০ টাকা কেজি। মুরগির মাংস এক কেজি ১৫০ থেকে ১৭০ টাকা।
মাছের পদ তো বাঙালির অনুষ্ঠানে অপরিহার্য। তাই মাংসের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বেড়েছে মাছের দামও। এক কেজি বাগদার দাম ১১০০ থেকে ১২০০ টাকা। ভেটকি ৫০০ টাকা। এক কেজি ভেটকির ফিলে বিক্রি হচ্ছে ৭০০ থেকে ৭৫০–‌য়। এখন ইলিশের মরশুম নয়, তাই ইলিশ কিনতে গঁাটের কড়ি কিছুটা বেশিই খরচ করতে হয়, তায় ভাইফেঁাটা। এক কেজির ইলিশের দাম ১৫০০ থেকে ২৫০০ টাকা পর্যন্ত চড়েছে। মাছের সাইজ একটু ছোট হলে ১২০০ টাকা। এ ছাড়া কাটা পোনা ২৫০ থেকে ৩০০ টাকা কেজি। তোপসে মাছ ৮০০ থেকে ১০০০ টাকা। পারশে ৫০০ থেকে ৭০০ টাকা।
তবে সময় বঁাচাতে আর ঝক্কি কমাতে এই সময় রেস্তোরঁামুখী হন অনেকেই। সে–‌কথা মাথায় রেখে নানা রকমের পদ পরিবেশন করতে তৈরি রেস্তোরঁাগুলিও। যঁারা আমিষ পছন্দ করেন না, তঁাদের কথা মাথায় রেখে ভাইফেঁাটায় বিশেষ ভেজ বুফের আয়োজন করেছে বাঙালি রেস্তোরঁা ‘‌গোল্ডেন টিউলিপ’‌। প্রাতরাশ, মধ্যাহ্ন ও নৈশভোজের সব রকম ব্যবস্থা থাকছে রেস্তোরঁায়। তবে আমিষ খেতে চাইলে তার ব্যবস্থাও থাকছে। এ ছাড়াও মানি স্কোয়্যারে ‘‌চ্যাপ্টার টু’‌ ভাইফেঁাটা উপলক্ষে হরেক নতুন পদের সন্ধান দিচ্ছে।বাঙালির ভূরিভোজ মিষ্টি ছাড়া সম্পূর্ণ হয় না। কাজেই মিষ্টি প্রস্তুতকারক সমস্ত সংস্থা উপাদেয় মিষ্টি তৈরির পরিকল্পনা শুরু করে আগে থেকেই। নামী–‌দামি মিষ্টির দোকানগুলিতে এবারও হাজির বাহারি সন্দেশের ডালি। খরচ যা–‌ই হোক, সাধ্যমতো ভাই বা দাদার পাত সাজিয়ে মঙ্গলকামনা করতে তৈরি বোনেরা।‌‌

রূপান্তরিত নারীরা ভাইফোঁটা দিলেন বিশেষ চাহিদার মানুষদের। বাগবাজার রিডিং লাইব্রেরিতে, বৃহস্পতিবার। ছবি: তপন মুখার্জি

জনপ্রিয়

Back To Top