আজকালের প্রতিবেদন: ৭ দিনের মধ্যে কলকাতা স্বাভাবিক ছন্দে ফিরে আসবে। এর পরই শহরকে আবার সাজিয়ে তোলার কাজ শুরু করবে কলকাতা পুরসভা। শুক্রবার জানালেন প্রধান প্রশাসক ফিরহাদ হাকিম। বুধবারের ঘূর্ণিঝড়ে বিধ্বস্ত শহর। গাছ পড়ে, জল জমে রয়েছে অনেক জায়গায়। বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই পুরসভা শহর পরিষ্কারের কাজ শুরু করে দিয়েছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে সিইএসসি, ট্র‌্যাফিক পুলিশ, বিপর্যয় মোকাবিলা, পুরসভার বিদ্যুৎ, উদ্যান, কঠিন বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, বিল্ডিং দপ্তরের পদস্থ আধিকারিকদের নিয়ে এদিন জরুরি বৈঠকে বসেন প্রধান প্রশাসক। বৈঠকের পর ফিরহাদ হাকিম জানালেন, ৩০০ বছর আগে কলকাতায় এরকম বড় বিপর্যয় এসেছিল। সাড়ে ৫ হাজার গাছ পড়ে গেছে। আড়াই হাজার বিদ্যুতের খুঁটি উপড়েছে। গাছ পড়ে রাস্তা বন্ধ। গাছ সরিয়ে রাস্তা পরিষ্কারের কাজ চলছে। বিপর্যয় মোকাবিলা দপ্তর, পুরসভার উদ্যান, কঠিন ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, ইঞ্জিনিয়ারদের নিয়ে তিনটি দল তৈরি করা হয়েছে। বড় রাস্তায় ভেঙে পড়া গাছ সরাতে কাজ করছে বিপর্যয় মোকাবিলা দপ্তরের একটি দল। যেসব রাস্তা গাছ পড়ে আংশিক বন্ধ হয়ে গেছে, সেসব জায়গায় গাছ সরাতে উদ্যান দপ্তরের কর্মীদের দল কাজ করবে। গলি কিংবা সরু রাস্তায় পড়ে থাকা গাছ সরাতে ইঞ্জিনিয়ার, উদ্যান দপ্তরের কর্মীদের একটি দল কাজ করবে। বস্তি পরিস্থিতির ওপর নজর রাখতে একটি দল কাজ করবে। বরোতে ৩০ জনের একটি দল তৈরি করা হয়েছে। সবমিলিয়ে ১০ হাজার পুরকর্মী কাজ করে চলেছেন শহরকে স্বমহিমায় ফিরিয়ে আনতে। কিন্তু যে অবস্থায় কলকাতাকে আমফান পৌঁছে দিয়েছে, স্বাভাবিক করতে ৭ দিন সময় লাগবে। আয়লার পর কলকাতা নিজস্ব ছন্দে ফিরতে ২০ দিন সময় লেগেছিল। সে জায়গায় ৭ দিন সময় নেওয়া হবে। গাছ কাটার কাজ দ্রুত করার জন্য আরও ১০০ ইলেকট্রিক মেশিন আনানো হচ্ছে। 
আমফান চলে যাওয়ার দুদিন পরও বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন কলকাতার বিস্তীর্ণ এলাকা। সিইএসসি–‌র অসহযোগিতার অভিযোগও আসে পুরসভায়। কেব্‌ল পরিষেবা বন্ধের অভিযোগ জানিয়েও ফোন আসে পুর কন্ট্রোলরুমে। এদিন এনিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নে পুর প্রশাসক বলেন, ‘আমার কাছে কোনও জাদুর ছড়ি নেই। পুরসভা সামলানোর দায়িত্ব আমার। তবুও নাগরিকদের সমস্যার কথা মাথায় রেখে সিইএসসি, কেব্‌ল অপারেটরদের সঙ্গেও কথা বলেছি।  সিইএসসি–‌কে ভেঙে পড়া বিদ্যুতের খুঁটি সরিয়ে দিতে বলা হয়েছে। বাকি বিদ্যুতের পোলগুলি পরীক্ষা করে দেখে দিতে বলা হয়েছে। যেসব জায়গায় জল জমে আছে, গাছ পড়ে বিদ্যুতের তার ছিঁড়ে গেছে। সেসব জায়গা দেখে নিতে বলা হয়েছে। আপাতত কিছু সময়ের জন্য যদি ওইসব এলাকায় বিদ্যুতের ব্যবস্থা করা যায়, তাহলে পাম্প চালিয়ে জল সংগ্রহ করে রাখতে পারবেন। মানুষ জল পাচ্ছেন না। পুরসভার জল সরবরাহ স্বাভাবিক হলেও বিদ্যুৎ না থাকায় এই সমস্যা তৈরি হয়েছে। কেব্‌ল অপারেটরদের সঙ্গেও কথা হয়েছে। লকডাউনের জন্য কেব্‌ল অপারেটররা লাইন সারাইয়ের জন্য জিনিসপত্র কিনতে পারছেন না। পুলিশের সহযোগিতায় দোকান থেকে প্রয়োজনীয় সামগ্রী কেনার ব্যবস্থা করা হয়েছে। যাতে মেরামত করে দ্রুত কেব্‌ল পরিষেবা দেওয়া যায়। যুদ্ধকালীন তৎপরতায় সবাই মিলে কাজ করছে। সকলের মধ্যে সমন্বয় রেখে কাজের জন্য একটা হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ করা হয়েছে। যাতে প্রতিটি দল তাদের কাজের আপডেট দিতে পারে।’‌‌

জনপ্রিয়

Back To Top