➲ ঘটনা অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক। পুলিশের বক্তব্য বোধগম্য হচ্ছে না। পুলিশ বলছে, ঘটনার পুনর্গঠন করতে অপরাধীদের ওই অঞ্চলে নিয়ে যায়। অপরাধীরা নিশ্চয়ই সশস্ত্র ছিল না!‌ অপরাধীরা সন্ত্রাসবাদী নয়। স্বীকার করছি, অপরাধীরা জঘন্যতম অপরাধ করেছে। কিন্তু পুলিশের অস্ত্র যদি তারা নিয়েই নেয়, তাহলে পুলিশ কোন অস্ত্রে তাদের মারল?‌ পুলিশ আইনের রক্ষক হয়ে আইন নিজের হাতে তুলে নিচ্ছে। অপরাধ যাই হোক, ভারতীয় আইন ও সংবিধান বলে তার বিচার পাওয়ার অধিকার আছে। এই অধিকার কেড়ে নেওয়া যায় না।
অশোক গঙ্গোপাধ্যায়
➲ এরা যদি সত্যিই পুলিশের রিভলভার ছিনিয়ে গুলি চালিয়ে থাকে, তাহলে পুলিশ খুব বেআইনি কাজ করেছে বলে মনে করি না। কিন্তু এর একটা তদন্ত হওয়া দরকার। এই তদন্ত পুলিশ করবে না। ময়নাতদন্তের প্রয়োজন আছে। সেখানে যদি দেখা যায়, পুলিশের বর্ণনার সঙ্গে তদন্তের ফলাফল মিলছে না, তার জন্য আইন আছে। যাঁদের এনকাউন্টারে মারা হয়েছে, তাঁদের পরিবার চাইলে কোর্টে যেতে পারেন।
 গৌতমমোহন চক্রবর্তী
➲ পুলিস তার দায়িত্ব পালন করেছে।
 প্রসেনজিৎ চ্যাটার্জি 
➲ শাস্তি হওয়াই বড় কথা। পুলিস যা করেছে, ঠিক করেছে। ঈশ্বর হয়তো ধর্ষকদের এভাবেই শাস্তি দিয়েছে। 
ঋতুপর্ণা সেনগুপ্ত
➲ অভিনন্দন হায়দরাবাদ পুলিসকে। এটার প্রয়োজন ছিল।
দেব (‌দীপক অধিকারী)‌ 
➲ বলে দেওয়া দরকার ২৪ ঘণ্টা, ৪৮ ঘণ্টা বা ৭২ ঘণ্টার মধ্যে শাস্তি দিতে হবে।  আমি ‘‌পোয়েটিক জাস্টিস’‌ অনুভব করছি।
 সুবোধ সরকার
➲ বিচারব্যবস্থার দীর্ঘসূত্রতায় মানুষের ক্ষোভ বেরিয়ে আসা স্বাভাবিক। তবে আইন ভাঙা উচিত নয়।
শর্মিষ্ঠা মুখার্জি  
➲ বিচার‌ব্যবস্থায় অনেক সময় লেগে যাচ্ছে। ফলে সহ্যের সীমা ছাড়িয়ে যায় কখনও কখনও। বিচারব্যবস্থার মাধ্যমে শাস্তি হলে ভাল হয়।
সুব্রত ভট্টাচার্য
 ➲ চারজন কীভাবে পালানোর চেষ্টা করল আর কী ভাবেই বা আক্রমণ করল, বোধগম্য হচ্ছে না। এনকাউন্টারের এই ধরনের ঘটনা পুলিসকে ‘‌ট্রিগার হ্যাপি’‌ করে তুলতে পারে। তখন বিচারব্যবস্থার ওপর আর আস্থা থাকবে না। পুলিস নিজের ইচ্ছে মতো মানুষ মারতে পারবে।
পঙ্কজ দত্ত  
➲ পুলিশের বক্তব্যকে গ্রহণ করছি। অভিযুক্তদের মৃত্যুতে আমি খুশি। কিন্তু ঘটনাটা ভীষণভাবে নাড়া দিচ্ছে। তাহলে কি কোথাও বিচারব্যবস্থার ওপর আস্থা হারিয়ে যাচ্ছে?‌ আরেকটি বিষয়ও ভাবাচ্ছে, তা হল, উন্নাও বা কাঠুয়ার ঘটনার ক্ষেত্রে অভিযুক্তরা প্রভাবশালী। তাদের ক্ষেত্রেও কি এই রকম এনকাউন্টার করা হবে?‌ 
তিলোত্তমা মজুমদার
➲ যা হয়েছে ভালই হয়েছে। তেলেঙ্গানা পুলিসকে আমার কুর্নিশ।
রণদেব বসু 
➲ এত রাতে ঘটনার পুনর্নিমাণ করতে কেন নিয়ে যাওয়া হয়েছিল?‌ এই রকম দুষ্কৃতীদের নিয়ে যাওয়ার সময় তো অনেক পুলিস থাকা উচিত। তাহলে কী?‌ তাহলে বিচারের সময় অন্য কারও নাম বেরিয়ে আসতে পারে সেই আশঙ্কায় এই ঘটনা ঘটানো হল?‌ 
 রূপা গাঙ্গুলি
➲ কোন কারণে এনকাউন্টার, আমরা জানি না। শাস্তি দেওয়ার জন্য এনকাউন্টার, না পালানোর জন্য, দেখতে হবে। শাস্তি কোর্টের মাধ্যমেই হওয়া উচিত। বিচারব্যবস্থার ওপর কেউ না। তাহলে যে কেউ আইন নিজের হাতে  তুলে নেবে। কাউকে পছন্দ না হলে গুলি করার ব্যবস্থা করবে। দেশে আইন–‌আদালত বলে কিছু থাকবে না।
অধীর চৌধুরি
➲ যাদের মানবিকতা নেই, তাদের আবার মানবাধিকার কী!‌‌ সংসদীয় গণতন্ত্র হয়তো এটাকে সমর্থন করবে না। কিন্তু এই ধরনের অপরাধীদের সর্তক করার রাস্তা এটা ছাড়া আর অন্য কিছু নেই।
সোমেন মিত্র  
➲ আমার তাৎক্ষণিক, স্বাভাবিক প্রতিক্রিয়া জানতে চাইলে বলব, আমি খুব খুশি। কিন্তু একটা বিষণ্ণতাও কাজ করছে। গুলিগোলা চলবে তবে আমি আমার অধিকার পাব, এরকম তো কখনও ভাবিনি। আমরা জানি, দেশের আইন–‌আদালত আছে। সেখানেই আমরা সুবিচার পাই। সেই জায়গাটাতে একটা ধাক্কা লাগছে এটা ভেবে, যে এনকাউন্টার না হলে আমরা বিচার পাব না।
 কৌশিক সেন‌‌
➲ এটা একটা অত্যন্ত সাহসী পদক্ষেপ। আমার মনে হয় হতাশা, অসহায়তা থেকেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। আমাদের বিচারপ্রক্রিয়া এতটাই লম্বা যে, মানুষের একটা সময়ে এসে ধৈর্য হারিয়ে যায়।
দিব্যেন্দু বড়ুয়া
➲ রাতে ভয়ে ঘুম আসে না। মেয়েদের কোনও নিরাপত্তা নেই। এই ঘটনায় আমি খুব খুশি। কবে রায় দেবে, কবে শাস্তি হবে, তারা বেরিয়ে আবার কোনও অপরাধ করবে কিনা, এর গ্যারান্টি কেউ দিতে পারে না। যা হয়েছে, বেশ হয়েছে। এদের এভাবেই মারা উচিত।
ইন্দ্রাণী হালদার
➲ অত্যন্ত অন্যায় ও দুর্ভাগ্যজনক ঘটনা ঘটল। চারজনকে এনকাউন্টারে মেরে ফেলা হল। তাদের বিচার হল না। এই চারজনই সেই ধর্ষক কিনা জানা যাচ্ছে না। পুলিশের ওপর এতটা আস্থা রাখার কোনও কারণ নেই। পুলিশ আস্থা রাখার মতো কোনও কাজ এখনও করেনি। এদের তো কোনও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তিই হল না!‌ বিচার পেতে দেরি লাগে বলে পুলিশের হাতে এতটা ক্ষমতা তুলে দেওয়া কি সমর্থনযোগ্য?‌ মানুষ তাৎক্ষণিক ভাবে রিঅ্যাক্ট করছেন। পুলিশের হাতে এত ক্ষমতা থাকলে পরে কী হতে পারে সেটা কি ভেবে দেখেছেন?
অপর্ণা সেন‌
➲ আমাদের দেশে বিচার পেতে গেলে সময় লাগে। এটা একটা সুইফ্ট জাস্টিসের ঘটনা ঘটেছে। এটা কতটা বেআইনি জানি না। তবে যে পরিবারের সঙ্গে এরকম ঘটনা ঘটেছে, তাদের কথা ভাবলে মনে হয় ঠিকই হয়েছে।
গৌরব চ্যাটার্জি
➲ আমি খবরটা শুনে খুব খুশি হয়েছি। পুলিশকে অসংখ্য ধন্যবাদ। অনেক বছর আগেই এই পদক্ষেপ নেওয়া উচিত ছিল। পুলিশ এই ধরনের পদক্ষেপ নিলে মানুষ বিচার পাবে।
মৌসুমি কয়াল
➲ পরিকল্পিতভাবে এই হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়েছে বলে মনে করছি। পুলিস বা কোনও রাজনৈতিক নেতাকে আড়াল করার জন্য এই ঘটনা ঘটানো হয়নি তো?
রঞ্জিত শূর‌ 
➲ সকালে উঠে যখন খবরটা দেখলাম, তখন বিশ্বাস করতে পারিনি। এই রকমই বিচার হওয়ার দরকার। একবার নয়, বারবার। যাতে ওই ধরনের মানুষগুলো ভয় পায়।
পৌলোমী ঘটক

দিল্লিতে প্রতিবাদ। ছবি: পিটিআই

জনপ্রিয়

Back To Top