আজকালের প্রতিবেদন: শুরু হয়ে গিয়েছে ইস্ট–ওয়েস্ট মেট্রোর সুড়ঙ্গ খোঁড়ার কাজ। দুর্ঘটনা এড়াতে নেওয়া হয়েছে একাধিক সতর্কতা। যদি কখনও ধস নামে তবে একঘণ্টার মধ্যেই কাজ বন্ধ করে দেওয়া হবে। নির্মলচন্দ্র স্ট্রিট থেকে শিয়ালদা পৌঁছতে টানেল বোরিং মেশিন (‌টিবিএম)‌–এর লাগবে ৬ মাস। শিয়ালদায় পৌঁছে টিবিএম শুরু করবে আরেকটি সুড়ঙ্গ খোঁড়ার কাজ। ঘুরে আসবে এই মুহূর্তে বৌবাজার এলাকায় আরেকটি টিবিএম যেখানে আছে সেই জায়গায়। এই কাজে আগামী বছরের মার্চ মাস পর্যন্ত সময় লাগবে বলে মনে করা হচ্ছে। কাজ শেষে তুলে নেওয়া হবে দুটি টিবিএম। গত মঙ্গলবার কাজ শুরুর পর ইতিমধ্যেই শিয়ালদার দিকে ২০ মিটার পর্যন্ত সুড়ঙ্গ খোঁড়া হয়েছে। 
শুক্রবার ইস্ট–ওয়েস্ট মেট্রোর বিশেষজ্ঞ কমিটির চেয়ারম্যান জন এন্ডিকট জানিয়েছেন, কাজ চলার সময় যাতে সুড়ঙ্গে জল ঢুকে কোনওরকম দুর্ঘটনা না ঘটে তার জন্য নেওয়া হয়েছে একাধিক সতর্কতা। জল আটকাতে বস্তা, ‘‌এয়ার ব্যাগ’‌ সিমেন্ট এবং গ্রিজ যেমন ব্যবহার করা হবে, তেমনি প্রয়োজনে ইস্পাতের পাতও ব্যবহার করা হবে। কলকাতায় মাটির নীচে জলের উৎস সংখ্যা অনেক বেশি বলে জানিয়েছেন জন।

 
গতবছর ৩১ আগস্ট বৌবাজারে এই মেট্রোর সুড়ঙ্গ খোঁড়ার সময় মাটির নীচে ধস নামে। ভেঙে পড়ে একাধিক বাড়ি। ফাটল ধরে একাধিক বাড়িতে। বিশেষজ্ঞ কমিটির পক্ষে এদিন জানানো হয়েছে সুড়ঙ্গ পথে যে বাড়িগুলি পড়ছে কাজ চলাকালীন সেগুলির অবস্থা প্রতি ৬ ঘণ্টা অন্তর পরীক্ষা করা হচ্ছে। আদালতের নির্দেশে প্রতি সপ্তাহে রিপোর্ট পাঠানো হচ্ছে মাদ্রাজ আইআইটির অধ্যাপকদের কাছে। 
সুড়ঙ্গের মধ্যে নানারকম সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। দুর্ঘটনার সময় সুড়ঙ্গে যে কর্মীরা কাজ করছিলেন, সেই কর্মীদের এক বিরাট অংশকে সরানো হয়েছে। টিবিএমের দক্ষতা বাড়ানো হয়েছে। বৌবাজার এলাকায় যে টিবিএমটি মাটির নীচে পড়ে আছে সেটি আর ব্যবহার করা যাবে না। কাজ শেষে এই টিবিএমটিকে টুকরো টুকরো অংশে ভাগ করে ওপরে তুলে নেওয়া হবে। জন জানিয়েছেন, এখন যে টিবিএমটি কাজ করছে সেটিকে পূর্ণ গতিতে ব্যবহার করা হচ্ছে না। ধীরে ধীরে কাজ এগোনো হচ্ছে।‌‌‌

ইস্ট–ওয়েস্ট মেট্রো প্রকল্পের জন্য মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জিকে ধন্যবাদ জানিয়ে হোর্ডিং বিধাননগর নাগরিকবৃন্দ ও বিধাননগর ক্লাব সমন্বয় কমিটির। শুক্রবার। ছবি:‌ দীপক গুপ্ত, সাংবাদিকদের মুখোমুখি জন এন্ডিকট। ছবি: পিটিআই

জনপ্রিয়

Back To Top