আজকালের প্রতিবেদন: আর সাইকেলে নয়, পরিবেশবান্ধব স্কুটারে চড়ে চিঠিপত্র ও পণ্য পৌঁছে দেবেন পোস্টম্যানরা। ডাকবিভাগে আরও গতি আনতেই এই সিদ্ধান্ত। পাইলট প্রকল্প হিসেবে কলকাতায় ১৭টি ই–স্কুটার ইতিমধ্যেই চালু হয়ে গিয়েছে। চলতি বছরের মধ্যে ২০০টি স্কুটার চলবে। 
রোজ সাইকেল চালিয়ে এলাকার এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে ঘুরে ঘুরে চিঠি বিলি করেন এরাজ্যের পোস্টম্যানরা। যার মধ্যে অনেক মহিলা পোস্টম্যান রয়েছেন। ই–স্কুটার পেলে তাঁদের খুব সুবিধে হবে। বহু পোস্টম্যান বয়সের কারণে জোরে সাইকেল চালাতে পারেন না। রোদ, ঝড়, বৃষ্টিতে সাইকেল চালিয়ে ক্লান্ত হয়ে পড়েন অনেকে। যে কারণে অনেক ক্ষেত্রে পণ্য বা চিঠি পৌঁছতে দেরি হয়ে যায়।  
কয়েক দিন আগেও ডাক বিভাগের পরিষেবা নিয়ে গ্রাহকদের অভিযোগের অন্ত ছিল না। তার ওপর ইন্টারনেটের এই যুগে ডাক মাধ্যমে চিঠি চালাচালি একেবারে তলানিতে এসে ঠেকেছে। তবে সরকারি ক্ষেত্রে চিঠি পাঠানোয় এখনও ডাক বিভাগের ওপরেই নির্ভরতা বেশি। সেই সঙ্গে রয়েছে বিভিন্ন ই–কমার্স সংস্থার পণ্য সরবরাহ। তবে মফস্‌সল শহরে এখনও বহু মানুষ নিয়মিত চিঠি লেখেন। ডাকযোগে পত্র–‌পত্রিকা পাঠান। 
কাজে গতি আনার পাশাপাশি ডাক বিভাগের কাজ আরও আধুনিক করতেই ই–স্কুটার চালু করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন ডাক বিভাগের কলকাতা সার্কেলের চিফ পোস্টমাস্টার জেনারেল গৌতম ভট্টাচার্য। তিনি জানান, কলকাতার পাশাপাশি হাওড়া এবং দুর্গাপুরে এই পরিষেবা চালু হবে। কলকাতা জিপিওতে ১৩টি, আলিপুরে ২টি ও টালিগঞ্জে ২টি স্কুটার ইতিমধ্যেই চলছে। কলকাতা সার্কেলের পোস্টমাস্টার জেনারেল অমিতাভ সিং জানিয়েছেন, ই–‌কমার্স পণ্য সরবরাহ শুরুর সময় কলকাতায় দিনে প্রায় ৮০০টি পণ্য সরবরাহ করত ডাক বিভাগ। এখন সেই পণ্যের পরিমাণ  দিনে প্রায় ২ হাজার ৪০০টি। এই পণ্য পৌঁছতে নাভিশ্বাস উঠত পোস্টম্যানদের। তাঁদের পরিশ্রম লাঘব করবে ই–স্কুটার। ‌
ব্রিটিশ আমলে ছিল রানার বা ডাকহরকরা। হ্যারিকেন ও বল্লম নিয়ে ঘুঙুর পায়ে রাতের অন্ধকারে ক্ষিপ্রগতিতে ছুটে গিয়ে ঠিক সময়ে বার্তা পৌঁছে দিতেন তাঁরা। বল্লমের ডগায় থাকত একটি ছোট্ট ঘণ্টা। ডান হাতে লাঠির আগায় কাঁধে থাকত চিঠির বস্তা। মাথায় পাগড়ি, পরনে ধুতি। সেসময় চিঠিপত্রাদি আদান–‌প্রদানের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল এই ডাকহরকরাদের। সময় পাল্টেছে। উন্নত প্রযুক্তির এই বিশ্বে ডাক বহনকে আরও আধুনিক করার বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েছে ভারতীয় ডাক বিভাগ। ই–স্কুটার চালু করা সেই উদ্যোগেরই একটা দিক। ‌
ছবিটি প্রতীকী

জনপ্রিয়

Back To Top